ডায়াল সিলেট ডেস্কঃ-
সিলেটে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঝড় তুলেছে ঐতিহ্যবাহী আলী আমজদের ঘড়িঘরের সীমানার ভেতরে নির্মিত জুলাইয়ের শহীদদের স্মরণে স্মৃতিফলক ‘স্ট্রিট মেমোরি স্ট্যাম্প’। জুলাই শহীদদের স্মরণ রাখতে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রনালয় থেকে গেজেট প্রকাশ করা হয় স্ব-স্ব শহীদদের নিহত হওয়ার স্থান বা তার কাছাকাছি স্থানে স্মৃতিফলক ’স্ট্রিট মেমোরি স্ট্যাম্প ’নির্মাণের।
এরই অংশ হিসাবে সিলেট নগরীতে শহীদদের স্মৃতিফলক ’স্ট্রিট মেমোরি স্ট্যাম্প ’নির্মাণ শুরু করে সিসিক। জেলাপ্রশাসক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সহ একাধিক জনের সম্বলিত কমিঠি দীর্ঘ পর্যালোচনা করে আলী আমজাদের ঘড়ি ঘরের পাশে (ভেতরের খালি অংশে) স্মৃতি ফলক টি নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয় ।
ঐতিহাসিক এই ঘড়ি ঘরের কাছে এই স্মৃতিফলকটি নির্মাণে সামাজিক ও পেশাজীবি সংগঠনের সমালোচনার মুখে পড়ে। অবিলম্বে এটি বন্ধে সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনগুলো প্রশাসন বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে। এদিকে যে কোন ধরনের বিতর্ক ও সমালোচনা এড়াতে কাজ বন্ধ রয়েছে বলে জানিয়েছে সিলেট সিটি করপোরেশন(সিসিক)।
১৮৭৪ সালে তৎকালীন বড়লাট লর্ড নর্থব্রুক সিলেট সফরে আসেন। তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার পৃত্থিমপাশার জমিদার নবাব আলী আহমদ খান ঘড়িটি তার ছেলে আলী আমজদ খানের নামে নামকরণ করেন। এ ঘড়ি ঘরের পাশেই ঐতিহ্যবাহী কিনব্রিজ। সিলেটের উত্তর ও দক্ষিন দুটি এলাকা এক করেছে ঐতিহ্যবাহী কিন ব্রিজ। কিন ব্রিজ আর আলী আমজদের ঘড়ি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে হয়ে ওঠে সিলেটের আইকন। সোমবার সেখানে গিয়ে দেখা যায় পশ্চিমে সীমানা প্রাচীরের ভেতরে নির্মাণ করা হয়েছে জুলাই স্মৃতি ফলক। ফলক দুটি ছালা দিয়ে ঢেকে রাখা।
যেখানে আলী আমজদ ঘড়িঘরের সৌন্দর্য বিঘ্নিত করছে এসব কর্মকান্ড; সেখানে সিসিক কর্তৃপক্ষের একটি সিদ্ধান্ত সমালোচনার ঝড় তুলেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। সম্প্রতি সিসিক কর্তৃপক্ষ আলী অমজদের ঘড়িঘরের সীমানা প্রাচীরের ভেতরে জুলাইয়ের শহীদদের স্মরণে স্মৃতিফলক ‘স্ট্রিট মেমোরি স্ট্যাম্প’ নির্মাণ করার সিদ্ধান্ত নেয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কাজও শুরু হয়। ইতিমধ্যে ৮০ শতাংশ কাজও সম্পন্ন করা হয়েছে। সীমানা প্রাচীরের ভেতর রড, সিমেন্টের কাজ দেখে চোখ আটকে যায় সাধারন মানুষের। কেউ কেউ সামাজিক যোগাযোগ ম্যাধমে ছবিও প্রকাশ করেন। আবার কেউ কেউ অবিলম্বে এটি বন্ধে আহবানও জানিয়েছেন।
পরিবেশ কর্মী আব্দুল করিম কিম তার ফেসবুক পোস্টে লেখেন, আলী আমজাদের ঘড়ি একটি পরিবারের দান। এই ঘড়ি সিলেটের ঐতিহ্যের স্মারক। সেই ঘড়ি ঘরের সীমানার মধ্যে কীসের স্থাপনা তৈরি হচ্ছে? এই স্থাপনা নির্মাণের ফলে এই ঐতিহ্যের সৌন্দর্য্য শুধু বিনষ্ট হবে না, সিলেটের এই ‘সিটি আইকন’-এর স্থাপত্য শৈলী গুরুত্ব হারাবে। আমার ধারণা সদ্য সাবেক জেলা প্রশাসক এই ঐতিহ্য বিনষ্টের অন্যতম পরিকল্পনাকারী। উনার পরিকল্পনায় এখানে ‘জুলাই শহীদ স্মরণে’ নির্মিত হচ্ছে শহীদ স্মৃতি স্তম্ভ।
সিসিক সূত্র জানায়, স্মৃতিফলক নির্মাণের স্থান মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দেখিয়ে দিয়েছেন। সে অনুযায়ী ঘটনাস্থল ও ঘটনাস্থলের কাছাকাছি স্মৃতিফলক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। আলী আমজদের ঘড়ির সামনে মো. পাবেল আহমদ কামরুল ও পঙ্কজ কুমার কর শহীদ হন। তাই কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সেখানে দুই শহীদ স্মরণে স্মৃতিফলক নির্মিত হচ্ছে। ফলক নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ৮ হাজার ৩৭৫ টাকা। স্মৃতিফলক নির্মাণ বন্ধে সিলেটের ইতিহাস ও ঐতিহ্যপ্রেমী অনেকে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ফেসবুকে সমালোচনা করছেন।
সম্মিলিত নাট্য পরিষদ সিলেটের প্রধান পরিচালক শামসুল বাসিত শেরো ফেসবুকে লিখেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে স্মৃতিসৌধ নির্মাণ নিঃসন্দেহে মহতী উদ্যোগ, এতে আরেকটু সচেতন হওয়া যায় না?’
এ ব্যপারে সিসিক’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাই রাফিন সরকার বলেন, আসলে এটি নির্মাণে একটি কমিটি ছিল। সাবেক জেলা প্রশাসক ছিলেন ওই কমিটির সভাপতি। কোন জিনিসে বিতর্ক ঠিক না । এটি ছোট একটি প্রকল্প । সকলের সম্মিলিত মতামতের ভিত্তিতে পরবর্তীতে যেখানে স্থান নির্ধারণ করা হবে সেখানেই নির্মাণ করা হবে। আপাতত কাজটি বন্ধ রাখা হয়েছে। পরবর্তীতে সকলের মতামত নিয়ে এই কাজটি করা হবে।