ডায়াল সিলেট ডেস্কঃ-

সিলেটে আদালতে স্বামীর সাথে মামলায় হেরে স্বামীকে ছুরি দিয়ে ঘাই মেরে মারাত্মক জখম করেছেন বাদী স্ত্রী। আদালতের ৬ তলা থকে তাড়া করে তিনতলায় পৌঁছার পর স্ত্রী ও তার ভাই স্বামী ও স্বামীর সাথে আসা আরেকজনকে হামলা করে। এ ঘটনায় পুলিশ ওই নারী ও তাঁর ভাইকে আটক করে অস্ত্র উদ্ধার করেছে।

ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে সিলেটের অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের বারান্দায়।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিশ্বনাথ থানার সিআর মামলা নং ৪৯৭/২০২৩ অনুযায়ী যৌতুক নিরোধ আইনের মামলায় আসামি ছিলেন ওসমানীনগর থানার মোবারকপুর এলাকার মো. আব্দুস শুকুর (৪০)। সিলেটের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৩য় আদালতের বিচারক আব্দুল্লাহ আল নোমান এ মামলার রায়ে আসামিকে খালাস প্রদান করেন।

রায় ঘোষণার পর বাদী, বিশ্বনাথ থানার ধলিপাড়া শেখপাড়া এলাকার মৃত মন্তাজ আলীর মেয়ে মোছা. নুরজাহান বেগম (৩৮) আদালত ভবনের ৬ষ্ঠ তলা থেকে দৌড়ে ৩য় তলায় গিয়ে স্বামীপক্ষের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন ছোট ভাই মনজাম মিয়া (২৮)। তারা ছুরি, হাতুড়ি ও সেলাই রেঞ্চ দিয়ে আসামিপক্ষের লোকজনকে আঘাত করেন।

হামলায় গুরুতর জখম হন কোতোয়ালী থানার ঘাসিটুলা এলাকার মৃত বাবু মিয়ার ছেলে জামাল উদ্দিন (৫৭) এবং বিশ্বনাথ উপজেলার সোনাপুর এলাকার সাদিকুর রহমান (২৯)। আহতদের দ্রুত সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এ সময় ভুক্তভোগীরা আদালতের এজলাসে আশ্রয় নিয়ে আত্মরক্ষা করেন। তাৎক্ষণিকভাবে আদালতের দায়িত্বরত পুলিশ সদস্য ও আইনজীবীরা এগিয়ে এসে নুরজাহান বেগম ও তাঁর ভাইকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন। তাদের কাছ থেকে একটি ছুরি, একটি হাতুড়ি ও একটি সেলাই রেঞ্চ জব্দ করা হয়।

ঘটনার পর আদালত প্রাঙ্গণে কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনা দেখা দিলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসে। বর্তমানে সেখানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

সিলেট মহানগর কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক বলেন, “আজ দুপুরে আদালতে খালাস পাওয়া আসামির ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে বাদিনী হামলা চালান। এ ঘটনায় আসামিপক্ষের দুইজন গুরুতর আহত হন। দুইজনকে আটক করে পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এখনো কেউ অভিযোগ দায়ের করেননি, অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

0Shares

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *