১৪ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

প্রতীক বরাদ্দের আগেই প্রতীক নিয়ে প্রচার শুরু

সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচন

 

ডায়াল সিলেট ডেস্ক :: এখনো প্রার্থিতা চূড়ান্ত হয়নি। মনোনয়নপত্রও সংগ্রহ করেননি সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনের সম্ভাব্য বেশিরভাগ প্রার্থী। অথচ তার আগেই প্রতীক নিয়ে প্রচার শুরু করে দিয়েছেন তারা। নির্বাচন কমিশনের বিধান অনুযায়ী প্রতীক বরাদ্দের আগে প্রচারে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তা মানছেন না প্রার্থীরা। আচরণবিধি লঙ্ঘন করে প্রচার চালাচ্ছেন তারা।

 

সিলেট সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন দলটির যুক্তরাজ্য শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী। সোমবার দুপুরে তার পক্ষে নগরের সিলেট উইমেনস মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে গণসংযোগ করেন সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. আরমান আহমদ শিপলু। এসময় আনোয়ারুজ্জামান ও নৌকা প্রতীকের ছবি সম্বলিত প্রচারপত্র বিলি করেন তিনি।

 

এর আগে রোববার দুপুরে নগরের করিমউল্লাহ মার্কেটে তার সমর্থনে প্রচারপত্র বিলি করে মহানগর যুবলীগ। প্রচারপত্রে লেখা রয়েছে- ‘সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীকে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে দিয়ে জয়যুক্ত করুন। এতে আনোয়ারুজ্জামানের ছবি এবং নৌকা প্রতীকের ছবিও যুক্ত রয়েছে।

 

অথচ সোমবার মাত্র মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন আনোয়ারুজ্জামান। এখনো মনোনয়নপত্র জমা দেননি। অথচ তার প্রতীকের ছবিসহ তার প্রচারপত্র বিলি শুরু হয়ে গেছে। প্রতিদিন গণসংযোগও চালাচ্ছেন তিনি। প্রচারে আনোয়ারুজ্জামান এগিয়ে থাকলেও বসে নেই অন্যরাও। মতবিনিময়, কুশল বিনিময়, জুমার নামাজে অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রচার শুরু করে দিয়েছেন তারা।

 

পিছিয়ে নেই সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থীরাও। নিজ নিজ ওয়ার্ডে প্রতিদিনই মতবিনিময় সভা, উঠান বৈঠকের মাধ্যমে প্রচার চালাচ্ছেন তারা।

 

শনিবার নগরের সোবহানীঘাটে কাঁচাবাজারের ব্যবসায়ীদের সাথে মতবিনিময় করেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী। এসময়ও তার সাথে থাকা নেতাকর্মীদের নৌকার ছবি সম্বলিত প্রচারপত্র বিলি করতে দেখা যায়।

 

এ প্রসঙ্গে আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী বলেন, আমি এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু করি নি। কোন পোস্টার-লিফলেটও তৈরি করিনি। তবে আমার সমর্থনেও কেউ কেউ ব্যক্তিগত উদ্যোগে লিফলেট-পোস্টার তৈরি করেছেন। যা আমার চোখেও পড়েছে। এটি করা ঠিক হয়নি। আমি সবাইকে এ ব্যাপারে সতর্ক করবো। আমাদের অবশ্যই নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলতে হবে।

 

এই সিটি নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। তবে দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও সিলেটের বর্তমান মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেন বলে গুঞ্জন রয়েছে। আরিফ এখনো নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেননি। ২০ মে নগরে সমাবেশ করে এ ব্যাপারে ঘোষণা দেয়ার কথা জানিয়েছেন। তবে প্রার্থিতা এখনো নিশ্চিত না হলেও গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন আরিফুল হক। কুশল বিনিময়ের নামে নগরের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে বেড়াচ্ছেন আরিফ।

 

গত শুক্রবার সিটি করপোরেশনের বর্ধিত এলাকা ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডের বড়গুল জামে মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করেন আরিফুল হক। এরপর স্থানীয়দের সাথে কুশল বিনিময় করেন তিনি। এসময় স্থানীয়রা তাকে ওয়ার্ডে জলাবদ্ধতাসহ নানা সমস্যার কথা তুলে ধরেন। এসব সমস্যা দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন মেয়র।

 

এ প্রসঙ্গে আরিফুল হক বলেন, আমি প্রার্থী হবো কী না তাও এখনো নিশ্চিত নয়। তাই প্রচার চালানোর তো প্রশ্নই আসে না। প্রার্থী হবো কি না এ ব্যাপারে ভোটারদের মতামত জানতেই আমি নগরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে যাচ্ছি। কিন্তু কোথাও কোন ভোট চাচ্ছি না।

 

আরিফ অভিযোগ করে বলেন, আওয়ামী লীগের প্রার্থী কোন নিয়ম নীতিই মানছেন না। তফসিল ঘোষণার আগে থেকেই প্রচার শুরু করে দিয়েছেন তিনি। প্রশাসন এসব দেখেও না দেখার ভান করছে।

 

এছাড়া সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীদের মধ্যে জাতীয় পার্টির নজরুল ইসলাম বাবুল ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাহমুদুল হাসান প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। দলের মনোনয়ন পাওয়ার পর সোমবার সিলেট আসেন জাতীয় পার্টির প্রার্থী বাবুল। বিমানবন্দরে দলীয় নেতাকর্মীরা তাকে সংবর্ধনা প্রদান করেন। এরপর নগরে বিপুল শোডাউন দেন বাবুল।

 

এ ছাড়া নগরের ৪২ টি সাধারণ ও ১৪ টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থীরাও আচরণবিধি লঙ্ঘন করে প্রচার শুরু করে দিয়েছেন। বিভিন্ন পাড়া মল্লার সড়ক ছেয়ে আছে তাদের ব্যানার ফেস্টুন আর প্ল্যাকার্ডে। এছাড়া পাড়ায় পাড়ায় সভার আয়োজন করে ভোট চাইছেন তারা। নানা প্রতিশ্রুতিও দিচ্ছেন।

 

এ বিষয়ে সিলেট সিটি নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সিলেটের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ফয়সল কাদের বলেন, প্রতীক বরাদ্দের আগে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা চালানোর কোন সুযোগ নেই। যারা এমনটি করছেন তাদেও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

তিনি আরও বলেন, আচরণবিধি লঙ্ঘন করে নগরে লাগানো প্রার্থীদের প্রচারসামগ্রী অপসারণে শনিবার থেকে অভিযান শুরু হয়েছে। এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

 

নির্বাচনী তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২১ জুন সিলেট সিটি করপোরেশনে ভোট হবে। ২৩ মে পর্যন্ত এ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিল করা যাবে। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের পর প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে ১ জুন। এরপর শুরু হবে প্রচারণা, যা চলবে ভোট গ্রহণের এক দিন পূর্ব পর্যন্ত।