৫ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

আন্তর্জাতিক
রাষ্ট্রগুলোর বিরুদ্ধে একাই লড়াই করে যাচ্ছে ইরান

যুক্তরাষ্ট-ইসরায়েলী দেশগুলোর সাথে একাই নেমেছে ইরান।

যুক্তরাষ্ট-ইসরায়েলী দেশগুলোর সাথে একাই নেমেছে ইরান।

 

ডায়ালসিলেট ডেস্ক :: পৃথিবীর শক্তিধর দেশ ও তার মদতপুষ্ট রাষ্ট্রগুলোর বিরুদ্ধে একাই লড়াই করে যাচ্ছে ইরান। একের পর আকাশপথ দিয়ে এক মিসাইল ছাড়ছে ইরান। রণসাজে সজ্জিত সামরিক শক্তিধর যুক্তরাষ্ট্র, অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের বিষফোঁড়া দখলদার ইসরাইলি বাহিনীর বিরুদ্ধে নিজেদের কৌশলী অস্ত্র নিয়ে নিঃসঙ্গ লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে তেহরান। যুদ্ধের পঞ্চম দিনেও তেহরান ও এর আশপাশের শহরে ব্যাপক বোমা হামলা হয়েছে।

 

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবর, বুধবার তেহরানের বিভিন্ন স্থান থেকে বিকট শব্দ শোনা গেছে। হামলা জোরদার করায় ইরানে হতাহতের সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্ট নিউজ এজেন্সি (এইচআরএনএনএ) জানিয়েছে, ইরানে নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১০০ জনে।

 

এদিকে শ্রীলঙ্কা উপকূলে ইরানের একটি জাহাজ লক্ষ্য করে সাবমেরিন থেকে হামলা চালানো হয়েছে। এতে জাহাজে থাকা ৭৮ জন আহত হয়েছেন। নিখোঁজ হয়েছেন ১০০ জন। ইরানের বিরুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যে বিপুল সৈন্য নামিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। ওয়াশিংটন জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ৫০ হাজার সৈন্য এই অভিযানে কাজ করছে। অন্যদিকে ১ লাখ সৈন্য নামানোর কথা জানিয়েছে ইসরাইল। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি তেহরানের সামরিক সক্ষমতা দিন দিন কমে আসছে। তবে ইরানের রেভ্যুলুশনারি গার্ড কর্পস- আইআরজিসি জানিয়েছে, উন্নত অস্ত্রগুলো এখনো তাদের মজুতে রয়েছে। মিডিয়ার খবরে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটি ও ইসরাইলকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত  রেখেছে ইরান।

 

মঙ্গলবার দিনগত রাতে ইসরাইলের রাজধানী লক্ষ্য করে ব্যাপক ব্যালিস্টিক মিসাইল ছুড়েছে তেহরান। পাশাপাশি কাতার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে দেশটি।

 

এছাড়াও সৌদি আরবে অবস্থিত মার্কিন জাতীয় গোয়েন্দা বাহিনীর (সিআইএ) স্টেশনেও হামলা চালানো হয়। এতে সৌদি কড়া বার্তা দিয়েছে। কঠোর জবাব দেয়ার অঙ্গীকার করেছে দেশটি। দিন দিন ইরানের জন্য লড়াইটা বেশ কঠিন হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বাস্তবতাও অনেকটা তেমন। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলে জোরালো হামলার মধ্যে বুধবার ভূমধ্যসাগরে বিমানবাহী রণতরী পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে ফ্রান্স। ওদিকে সাইপ্রাসে রণতরী পাঠাচ্ছে যুক্তরাজ্য। সবমিলিয়ে আমেরিকা-ইসরাইল, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপীয় শক্তির বিরুদ্ধে হার না মানা লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে তেহরান।

দেশটি কৌশলগত জলপথ হরমুজ প্রণালি নিজেদের দখলে রাখতে সক্ষম হয়েছে বলে দাবি করেছে।

 

ইরানের হার না মানা মনোভাবে বেশ চাপে পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুদ্ধের প্রথম চার দিনেই তার প্রশাসনকে ২০০ কোটি ডলার অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে। এছাড়া ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ওয়ার রেজ্যুলুশন অ্যাক্টের অপব্যবহারের অভিযোগ তুলেছে ডেমোক্রেটরা।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বেশ চাপে আছেন ট্রাম্প। যুক্তরাজ্য সরাসরি এই যুদ্ধে না জড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। স্পেনও যুক্তরাজ্যের পথেই হাঁটছে। দেশটি তাদের ঘাঁটি ব্যবহারে ট্রাম্পের আহ্বান সরাসরি নাকোচ করে দিয়েছে। এতে ট্রাম্প অবশ্য ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তবে যুদ্ধের ভয়াবহতা বিবেচনায় নিজেদের সিদ্ধান্তে অটল থাকার কথা জানিয়েছে দেশগুলো।

ইরানে ২ হাজার লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। হামলায় একটি সাবমেরিনসহ ইরানের ১৭টি রণতরী ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক ভিডিও বার্তায় কুপার বলেন, এই অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের ৫০ হাজারের বেশি সেনা, ২০০ যুদ্ধবিমান, দু’টি বিমানবাহী রণতরী এবং বোমারু বিমান অংশ নিচ্ছে। আমাদের সক্ষমতা আরও বাড়ানো হচ্ছে। কুপার বলেন, আমরা ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছি এবং তাদের শত শত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, লঞ্চার ও ড্রোন ধ্বংস করেছি।

ভারত মহাসাগরে মার্কিন হামলায় ডুবলো ইরানি যুদ্ধজাহাজ, নিহত ৮০: মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানিয়েছেন, ভারত মহাসাগরে আন্তর্জাতিক জলসীমায় অবস্থানরত একটি ইরানি যুদ্ধজাহাজকে যুক্তরাষ্ট্র টর্পেডো হামলায় ডুবিয়ে দিয়েছে। এতে অন্তত ৮০ জন নিহত হয়েছেন।

 

বাগদাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের ভিক্টোরিয়া ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা হয়েছে। ইরাকের বেসরকারি স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেল আল-সুমারিয়া ও আল-রাশিদ নিরাপত্তা সূত্রকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, সোমবার বাগদাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের ভিক্টোরিয়া ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে দু’টি ড্রোন হামলা চালানো হয়। ওদিকে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বুধবার দুবাই শহরের যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। পার্কিং লটে এই হামলার ফলে আগুন ধরে যায় এবং কালো ধোঁয়ার বড় বড় কুণ্ডলী আকাশে উঠতে দেখা যায়। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, হামলার পর কনস্যুলেটের সব কর্মী নিরাপদে আছেন। একই দিন কাতারেও হামলা হয়েছে। কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরান কাতারে দু’টি ব্যালিস্টিক মিসাইল ছুড়েছে। তবে এতে তেমন কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

যুদ্ধের প্রভাবকে কেন্দ্র করে ইরানকে ঘিরে বিশ্ববাজারে আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। জ্বালানি তেলের দাম হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় শেয়ারবাজারে বড় পতন দেখা গেছে। বিনিয়োগকারীরা মুদ্রাস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কায় নিরাপদ বিনিয়োগের দিকে ঝুঁকতে থাকেন। এতে মার্কিন ডলারের দামও বেড়েছে। বিশ্ববাজারে তেলের দাম প্রায় ৯ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়। আর ইউরোপে প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম টানা দ্বিতীয় দিনের মতো দ্রুত বৃদ্ধি পায়। মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি রপ্তানি বিঘ্নিত হওয়ায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বার্তা সংস্থা এএফপি’র খবরে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক মান সম্পন্ন ব্রেন্ট নর্থ সি ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮৫ ডলারের বেশি হয়েছে।

বিশ্ববাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ নিজেদের দখলে রাখার দাবি করেছে ইরান।