ডায়াল সিলেট ডেস্ক :: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) চলমান পোষ্য কোটা বাতিলের দাবিতে ফের উত্তাল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। মঙ্গলবার ২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা এলাকা থেকে মিছিলটি শুরু করে শিক্ষার্থীরা। পরে সবগুলো ছেলেদের হল ও কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি ঘুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রশাসনিক ভবনের সামনে গিয়ে শেষ হয়। এরপর প্রশাসনিক ভবনে তালা দিয়ে ভেতরে সব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবরুদ্ধ করে রাখেন শিক্ষার্থীরা।

পরবর্তীতে সাড়ে ৫টার দিকে তাদের বের হওয়ার সুযোগ দেয় শিক্ষার্থীরা।

এসময় শিক্ষার্থীদের, ‘কোটা না মেধা, মেধা মেধা’, ‘দাবি মোদের একটাই, পোষ্য কোটার বাতিল চাই’, ‘হলে হলে খবর দে, পোষ্য কোটার কবর দে’, ‘সংস্কার না বাতিল, বাতিল বাতিল’, ‘শহিদদের রক্ত বৃথা যেতে দেব না’, ‘আবু সাঈদ মুগ্ধ শেষ হয়নি যুদ্ধ’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে দেখা যায়।

শিক্ষার্থীরা বলেন, এ কোটা মেধাবী শিক্ষার্থীদের অধিকার হরণ করছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো সর্বোচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এটি বৈষম্যের সৃষ্টি করছে। রোববার পোষ্য কোটা সম্পূর্ণরূপে বাতিলের দাবিতে আমরণ অনশন করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। তবে গতকাল রাতে প্রতিবছর সর্বোচ্চ ৪০ জন পোষ্য কোটায় ভর্তি হতে পারবে এবং বেশ কয়েকটি শর্তে আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেন আন্দোলনকারীরা।

তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশিরভাগ শিক্ষার্থীরা এই শর্তে সন্তুষ্ট নন এবং পোষ্য কোটার সম্পূর্ণ বাতিলের দাবি জানিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।

এদিকে ‍মঙ্গলবার সকাল ১০টায় পোষ্য কোটা পূর্বের ন্যায় বহাল রাখতে প্রশাসনিক ভবনের সামনে মানববন্ধন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। মানববন্ধনের এক পর্যায়ে পোষ্য কোটাবিরোধী আন্দোলনের পোস্টার ছেড়ার জের ধরে শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থী জানান, পোষ্য কোটা বাতিলের আন্দোলনে যেহেতু কর্মচারীরা শিক্ষার্থীদের গায়ে হাত তুলেছে তাই আমরা এখন পোষ্য কোটা সম্পূর্ণ বাতিল চাই।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৩ ব্যাচের শিক্ষার্থী চিশতি বলেন, যে কর্মকর্তা কর্মচারীরা আমাদের হুমকি দিতে পারে তাদের আমরা জাহাঙ্গীরনগরে চাই না। যদি প্রশাসন পোষ্য কোটা বাতিল ও যথাসময়ে জাকসু বাস্তবায়ন করতে না পারেন, তাহলে আরও একটা আন্দোলনের সূচনা হবে জাবি থেকে।

 

0Shares

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *