ডায়াল সিলেট ডেস্কঃ-

নগরের আখালিয়ায় জুবায়ের আহমদ (৪৮) নামে এক মাদরাসা শিক্ষককে নৃশংসভাবে খুনের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহতের ছেলের বন্ধু আল মাহমুদ নয়নকে প্রধান আসামি করে অজ্ঞাত ২/৩ জনকে মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে।

বুধবার (১৩ আগস্ট) রাতে নিহতের বড় ছেলে ফাহিম আহমদ বাদি হয়ে এসএমপির জালালাবাদ থানায় এই মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের বিষয়টি ফাহিম নিজেই নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে ঘটনার দিনগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে নগরের আখালিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে হত্যাকারী আল মাহমুদ নয়নকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

হত্যাকারী আল মাহমুদ নয়ন ( ১৮) আখালিয়া বড়গুল এলাকার জামায়াত নেতা মোহাম্মদ আল আমিনের ছেলে বলে জানিয়েছে নিহতের পরিবার। নয়ন আখালিয়া আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার্থী ও শিবির কর্মী বলেও দাবি করেন ভিকটিমের পরিবার।

এরআগে বুধবার (১৩ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) সংলগ্ন আখালিয়া বড়গুল এলাকায় মাওলানা জুবায়ের আহমদকে (৪৬) উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে নয়ন।

নিহত মাওলানা জুবায়ের আহমদ বড়গুল এলাকার মৃত মদরিস আলীর ছেলে। তিনি স্থানীয় তানজিনা আহমেদ দাখিল মাদরাসায় শিক্ষকতা করতেন।

নিহত মাওলানা জুবায়েরের চাচাতো ভাই আব্দুস সালাম বলেন, জুবায়েরের দুই ছেলে ফাহিম আহমদ ও সাইম আহমদ। সাইমের সহপাঠি নয়ন। মঙ্গলবার সাইমকে বাসা থেকে বের করে আনতে যায় নয়ন। সে সময় জুবায়ের তাকে বলেন, আমার ছেলের সামনে পরিক্ষা, তুই ডাকাডাকি করছিস কেনো। এ কারণে নয়ন তর্ক করে চলে যায়। স্থানীয়দের বরাত দিয়ে এমন তথ্য জানায় পুলিশও।

নিহতের বড় ছেলে ফাহিম আহমদ ‘তার মায়ের এবং প্রত্যক্ষদর্শী আটক কিশোর জিহাদের বরাত দিয়ে বলেন, ‘বুধবার সকাল ৯টার দিকে বাড়ি থেকে মাদরাসার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন তার বাবা। যাওয়ার পথে বৃষ্টিতে রাস্তায় জমে থাকা  কাদাপানি পা দিয়ে ছুঁড়ে জুবায়ের আহমদের পরনের পাঞ্জাবি নষ্ট করে দেয় নয়ন।

নয়নের সাথে ছিল তার চাচাতো ভাই জাহিদ।তখন মাওলানা জুবায়ের বাকবিতণ্ডায় লিপ্ত হন। এক পর্যায়ে তার মাকে ফোন দিয়ে বলেন, আল আমিন ভাইয়ের ছেলে আমার সঙ্গে খারাপ আচরণ করছে। মা তাকে সান্তনা দিয়ে বলেন, আমি তার বাবার কাছে বিচার দিচ্ছি, তুমি মাদরাসায় যাও। বাকবিতণ্ডার পর তার বাবা মাদরাসার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হতেই পেছন থেকে মাথায় ছুরিআঘাত করে নয়ন। এরপর উপর্যুপরি পিঠে ১০/১২টি ছুরিকাঘাত করে, তিনি পড়ে গেলে বুকের দুই পাশে ছুরিকাঘাত করে এবং পেট কেটে ফেলে। তাকে নাড়িভুঁড়ি বের হয়ে আসে। হত্যার পর নয়ন ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলেও কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এই ঘটনায় খুনের ঘটনার সময় নয়নের সঙ্গে ঘটনার একমাত্র প্রত্যক্ষদর্শী ছিল কিশোর জাহিদ।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুনুর রশিদ বলেন, ঘটনার দিনগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে আখালিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে নয়নকে আটক করা হয়েছে। এই ঘটনায় রাতে নিহতের বড় ছেলে ফাহিম আহমদ বাদি হয়ে একমাত্র নয়নের নামোল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো ২/৩ জনকে আসামি করে  থানায় মামলা (নং-১১(৮)২৫) দায়ের করেছেন। আটককৃত নয়নকে এই মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

0Shares

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *