ডায়াল সিলেট ডেস্কঃ-
সিলেটের বিভিন্ন জায়গায় পাথর লুটকারীদের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের মধ্যেও আড়িালে আবডালে চলছে পাথর বালি লুট ।সারি সারি বাল্কহেড, খননযন্ত্র ও ক্রাশার মেশিন বসিয়ে প্রতিদিনই শত শত শ্রমিক পাথর তুলছেন। এমন দৃশ্য দেখা গেল কানাইঘাট উপজেলার লোভা নদীতে । লোভা নদী সীমান্তের ওপার থেকে এসে সুরমাতে মিশেছে ।সাদা পাথর এলাকার মতো এই নদীতেও পানির স্রোতের সঙ্গে ওপার থেকে পাথর আসে ।সারি সারি বাল্কহেড, খননযন্ত্র ও ক্রাশার মেশিন বসিয়ে প্রতিদিনই শত শত শ্রমিক পাথর তুলছেন এখানে ।
লোভা নদীর বাংলাদেশ অংশের শুরুতে একটি পাথর কোয়ারি থাকলেও সেই কোয়ারিতে ২০২০ সাল পর্যন্ত পাথর উত্তোলন করা যেত। তারপর সরকার আর কোয়ারি ইজারা দেয়নি, মানে হলো বিধি মোতাবেক পাথর তোলা নিষিদ্ধ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নিলামে বিক্রি হওয়া পাথর সরানোর নামে এখনো নতুন করে নদী থেকে পাথর তোলা হচ্ছে। এ কাজে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী নেতারাও জড়িত। তারা বলছেন, রাতের অন্ধকারে নির্বিঘ্নে পাথর সরানো হয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, লোভাছড়া এলাকাটি দুর্গম হওয়ায় এখানে প্রশাসনের লোকজন আসেন না। এ কারণে পাথর লুটে কোনো বেগ পেতে হয় না । তিনি বলেন, রাতের বেলা যখন কেউ দেখে না তখন পাথর সরানো হয় ।
সিলেটের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শের মাহবুব মুরাদ জানান, নিলামে পাওয়া প্রতিষ্ঠানকে পাথর সরানোর জন্য ৪৫ দিন সময় দেওয়া হয়েছিল। পরে আরও ৩০ দিন বাড়ানো হলেও নির্ধারিত সময় শেষ হয়ে গেছে। দ্বিতীয় দফায় সময় বাড়ানোর আবেদন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় নাকচ করেছে। তাই আর কোনো বৈধ সুযোগ নেই।
ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মেসার্স পিয়াস এন্টারপ্রাইজের মালিক কামরুল হাসান চৌধুরী বলেন, বিপুল পরিমাণ পাথর সরানোর জন্য দেওয়া সময় যথেষ্ট ছিল না। তাই তিনি উচ্চ আদালতে রিট করেছেন। আদালত তাঁকে তিন মাস সময় দিয়েছেন এবং স্থগিতাদেশ না আসায় কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তাঁর দাবি, তিনি অন্যায্যভাবে কোনো নতুন পাথর তুলছেন না, বরং নিলামে কেনা পাথরই সরাচ্ছেন।
বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) বলছে, নিলামের কাগজকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে চক্রটি নির্বিচারে নতুন পাথরও তুলছে। এতে লোভা নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও আশপাশের পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।