২৩শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

প্রাণ-আরএফএল আরএএস প্রযুক্তিতে ইলিশ ও সিবাস মাছ চাষ করবে

প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ আরএএস (রিসার্কুলেটিং অ্যাকুয়াকালচার সিস্টেম) প্রযুক্তি ব্যবহার করে ইলিশ, এশিয়ান সিবাস ও গ্রুপার মাছ চাষের পরিকল্পনা করছে। এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে প্রাণ-আরএফএলের সহযোগী প্রতিষ্ঠান হবিগঞ্জ অ্যাগ্রো লিমিটেড, যা ডেনমার্কের প্রতিষ্ঠান অ্যাসেনটপ্ট অ্যাকুয়া–এর সঙ্গে যৌথভাবে পরিচালিত হবে।

বুধবার (২২ জানুয়ারি) রাজধানীর বাড্ডায় প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের প্রধান কার্যালয়ে সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়। হবিগঞ্জ অ্যাগ্রো লিমিটেডের পক্ষে স্বাক্ষর করেন নির্বাহী পরিচালক নাসের আহমেদ, আর অ্যাসেনটপ্ট অ্যাকুয়ার পক্ষে স্বাক্ষর করেন ব্যবসা উন্নয়নের পরিচালক ইয়েনস ওলে ওলেসেন

সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইলিয়াছ মৃধা, অ্যাসেনটপ্টের সহযোগী প্রতিষ্ঠান মারিস্কোর ম্যানেজিং পার্টনার থমাস সুদারলিন্ড, কান্ট্রি ম্যানেজার আবদুল্লাহ আল মামুন মো. ইউসুফ, এবং কোম্পানি সচিব মোহাম্মদ আমিনুর রহমান প্রমুখ।

প্রকল্পের আওতায় ইনডোর ও সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে মাছ চাষ করা হবে। মাছের গড় ওজন ১.২ থেকে ১.৫ কেজি হবে এবং উৎপাদিত মাছের বড় অংশ রপ্তানি করা হবে, বাকিটা স্থানীয় বাজারে সরবরাহ করা হবে। প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বছরে প্রায় ২ হাজার মেট্রিক টন মাছ উৎপাদন সম্ভব হবে।

প্রাণ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইলিয়াছ মৃধা বলেন, “দেশ ও আন্তর্জাতিক বাজারে সামুদ্রিক মাছের চাহিদার কারণে আমরা আরএএস পদ্ধতিতে এই ধরনের মাছ চাষ শুরু করতে চাই। উন্নত দেশগুলোতে স্বল্প জায়গায় ইতিমধ্যে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে মাছ উৎপাদন হচ্ছে। আমাদের প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রথমবার শিল্প পর্যায়ে সিবাস মাছ চাষ শুরু হবে।”

অ্যাসেনটপ্ট অ্যাকুয়ার ড. ইয়েনস ওলে ওলেসেন বলেন, “আমাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠান মারিস্কো ২০১৬ সাল থেকে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথভাবে মাছ চাষে কাজ করছে। আমরা ইতিমধ্যে ড্যানিশ সরকারের অর্থায়ন নিশ্চিত করেছি এবং সুস্বাদু সামুদ্রিক মাছ উৎপাদনের জন্য হ্যাচারি ও ব্রুডস্টক সুবিধাসহ এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছি।”

এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের সামুদ্রিক মাছ চাষ শিল্পে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হওয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।