২৪শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

দীর্ঘ ২১ বছর পর সিলেটে তারেক রহমান, জনস্রোতে রূপ নিল নগর

দীর্ঘ প্রায় দুই দশকের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আবারও সিলেটে পা রাখলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাকে একনজর দেখতে অপেক্ষায় ছিলেন সিলেট অঞ্চলের জাতীয়তাবাদী রাজনীতির অনুসারীরা তো বটেই, রাজনীতির বাইরে থাকা সাধারণ মানুষও। শ্বশুরবাড়ি সিলেটে হওয়ায় তার আগমন ঘিরে ছিল বাড়তি কৌতূহল ও আবেগ।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টা ৫৬ মিনিটে তারেক রহমান, তার স্ত্রী সিলেটের দক্ষিণ সুরমার মেয়ে ডা. জুবাইদা রহমান, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে বহনকারী বিমান ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমানবন্দরে সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীরা তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান।

আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে রাত সাড়ে ৮টার দিকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে বহুল আলোচিত বুলেটপ্রুফ লাল বাসে করে তিনি হযরত শাহজালাল (র.)–এর মাজারের উদ্দেশ্যে রওনা হন। এ সময় বিমানবন্দর সড়কসহ পুরো পথজুড়ে রাস্তার দু’পাশে হাজার হাজার মানুষ দাঁড়িয়ে তাকে শুভেচ্ছা জানান। কেউ হাত নাড়েন, কেউ স্লোগানে মুখর করে তোলেন পুরো এলাকা। জবাবে তারেক রহমানও হাত নেড়ে ও সালাম জানিয়ে জনতার ভালোবাসার প্রতিদান দেন।

চৌকিদেখী এলাকায় পৌঁছালে আবেগাপ্লুত জনতা একপর্যায়ে নিরাপত্তা বেষ্টনি ভেঙে রাস্তায় নেমে আসে। এতে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচল ব্যাহত হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসে।

রাত সাড়ে ৮টার কিছু পর তার লাল গাড়িটি হযরত শাহজালাল (র.)–এর মাজার এলাকায় প্রবেশ করে। সেখানে তিনি জিয়ারত ও বিশেষ মোনাজাত করেন। পরে দরগাহ মসজিদে এশার নামাজ আদায় করেন। নামাজ শেষে মহান মুক্তিযুদ্ধে সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক, সিলেটের কৃতী সন্তান কর্নেল আতাউল গনি ওসমানীর কবর জিয়ারত করেন।

রাত প্রায় ১০টার দিকে তিনি হযরত শাহপরান (র.)–এর মাজারের উদ্দেশ্যে রওনা হন। স্বল্প দূরত্ব হলেও জনসমাগমের কারণে বিভিন্ন বিকল্প পথ ব্যবহার করে সেখানে পৌঁছাতে সময় লাগে প্রায় এক ঘণ্টা। রাত ১১টার দিকে তার গাড়ি শাহপরান (র.)–এর মাজার এলাকায় পৌঁছায়।

এই পুরো যাত্রাপথে নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোর—সব বয়সী মানুষের উপস্থিতিতে সিলেট যেন উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়। মাজার জিয়ারত শেষে তিনি দক্ষিণ সুরমার সিলাম ইউনিয়নের বিরাইমপুরে তার শ্বশুরবাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন।