কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি আগামী সংসদ নির্বাচনে বড় চ্যালেঞ্জ : সিইসি

ডায়াল সিলেট ডেকস

প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন বলেন, নির্বাচন কমিশনের ওপর আস্থা ফিরিয়ে আনাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। একই সাথে ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি, সোশ্যাল মিডিয়ায় অপতথ্য প্রচার ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এআই প্রযুক্তি এর অপব্যবহার আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বড় চ্যালেঞ্জ।

সি’ইসি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে মানুষের কণ্ঠস্বর ও বক্তব্য দিয়ে হুবহু মিথ্যা তথ্য প্রচার করা সম্ভব। এর অপব্যবহারে ইউরোপে একটা দেশে নির্বাচনকে বন্ধ করতে হয়েছিল। এটা মডার্ন একটা থ্রেট। এটা অস্ত্রের চেয়েও মারাত্মক। এই চ্যালেঞ্জ নিয়ে নির্বাচন কমিশন কাজ করছে। এছাড়া সোশ্যাল মিডিয়া চলছে ফ্রি স্টাইলে। একজন ফেসবুকে অপতথ্য দিলে যাচাই-বাছাই না করেই এক হাজার মানুষ তা শেয়ার করে দেয়। লক্ষ লক্ষ মানুষের কাছে ভুল তথ্য যায়।

শনিবার তিনি খুলনায় ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে খুলনা অঞ্চলের নির্বাচন কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় সভার শুরুতে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। খুলনা আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার সম্মেলন কক্ষে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার আরও বলেন, আগামী সংসদ নির্বাচনে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিকেও চ্যালেঞ্জ মনে করা হচ্ছে। তবে সকলের সহযোগিতায় আইনশৃঙ্খলা চ্যালেঞ্জ উৎরাতে পারব বলে মনে করছি। তিনি এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন হলে সংবিধান ও আইন বদলাতে হবে। আইন বদলানো না পর্যন্ত আমরা পুরানো নিয়মেই নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। তিনি বলেন, দেশের স্বার্থেই একটা গ্রহণযোগ্য নির্বাচন প্রয়োজন। রাতের আধারের নির্বাচন আর হবে না। সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে তিনি সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার পর প্রধান নির্বাচন কমিশনার খুলনাঞ্চলের নির্বাচন কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক করেন। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন খুলনা আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ফয়সল কাদের।

১

জগন্নাথপুরে হত্যা মামলার আসামিদের বাড়িঘরে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ ​জগন্নাথপুর প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার মীরপুর ইউনিয়নের উত্তর গড়গড়ি গ্রামে একটি হত্যা ঘটনার পর প্রতিপক্ষের অন্তত বেশ কয়েকটি বাড়িঘরে দফায় দফায় হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে।গত ১৮ অক্টোবর রাতে শূন্য বাড়িগুলোতে অগ্নি সংযোগ করা হয়। ভুক্তভোগীদের দাবি, জগন্নাথপুর থানা পুলিশ এ বিষয়ে কোনো মামলা নিচ্ছে না। হামলায় বসতঘর ও খামার থেকে গবাদিপশু, স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুট করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো অভিযোগ করেছে। ​ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই আসামিপক্ষের পরিবারগুলো চরম আতঙ্কে রয়েছে। কয়েকটি বাড়ি পুরো পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে। আর এই শূন্য বাড়িগুলোকে লক্ষ্য করে দফায় দফায় হামলা চালানো হচ্ছে। এমনকি গত রাতেও আসামিদের বসতঘরে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। ​গতকাল ১৯ অক্টোবর সরেজমিনে উত্তর গড়গড়ি গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, পুরুষশূন্য বাড়িগু রয়েছে, পরিত্যক্ত বাড়িগুলোতে, দফায় দফায় অগ্নিসংযোগ করে যাচ্ছে, প্রতিপক্ষরা, থানায় অভিযোগ করলেও, কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না। ঘরের ভেতরের আসবাবপত্র ভেঙে চুরমার করে যত্রতত্র ছিটিয়ে রাখা হয়েছে এবং আগুনে পুড়িয়ে ছাই করে দেওয়া হয়েছে। ঘটনার পর থেকে পরিবারের পুরুষ সদস্যরা আত্মগোপনে থাকায় নারী ও শিশুরা চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন এবং বাধ্য হয়ে আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। ​হামলা, লুটপাট ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে সুনামগঞ্জ আদালত ও জগন্নাথপুর থানায় মোট চারটি পৃথক লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে সুনামগঞ্জের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি সিআর মামলা (মামলা নং— ১৮৮/২০২৬) দায়ের করেছেন মোছা. ফাতেমা বেগম (৩৮)। এই মামলায় স্থানীয় ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।