তৃতীয় প্রান্তিকে গ্রামীণফোনের আয় ৪ হাজার ১৭ কোটি টাকা

একাধিক প্রান্তিকে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধির পর ২০২৬ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে রাজস্ব বৃদ্ধির ধারায় ফিরেছে মোবাইল অপারেটর গ্রামীণফোন। জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে কোম্পানিটির রাজস্ব দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ১৭ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ০ দশমিক ২ শতাংশ বেশি। এ সময়ে কর-পরবর্তী মুনাফা হয়েছে ৭৫১ কোটি টাকা।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) প্রকাশিত কোম্পানিটির তৃতীয় প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর শেষে গ্রামীণফোনের মোট গ্রাহকসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮ কোটি ৬৮ লাখ। এর মধ্যে ৫ কোটি ৩০ লাখ গ্রাহক ইন্টারনেট সেবা ব্যবহার করছেন, যা মোট গ্রাহকের ৬১ দশমিক ৪ শতাংশ। আগের প্রান্তিকের তুলনায় রাজস্ব প্রবৃদ্ধি হয়েছে ০ দশমিক ৯ শতাংশ। দ্বিতীয় প্রান্তিকে শুরু হওয়া গ্রাহকসংখ্যা ও সেবা ব্যবহারের ইতিবাচক প্রবণতা এ প্রান্তিকেও অব্যাহত ছিল বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়াসির আজমান বলেন, তৃতীয় প্রান্তিকে রাজস্ব প্রবৃদ্ধিতে ফেরা, মুনাফা ধরে রাখা ও ভবিষ্যতের জন্য বিনিয়োগ অব্যাহত রাখার ক্ষেত্রে কোম্পানি ভারসাম্যপূর্ণ অগ্রগতি অর্জন করেছে। গ্রাহকভিত্তি শক্তিশালী হওয়া, ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি এবং ডেটা ব্যবহারের স্থিতিশীল চাহিদা এ প্রবৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে।তিনি বলেন, গ্রাহকদের পরিবর্তিত চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সেবার প্যাকেজ সাজানো, ডেটা ব্যবহার বাড়ানো এবং বিভিন্ন সেবার সমন্বিত প্যাকেজের ব্যবহার বৃদ্ধিতে কাজ করছে গ্রামীণফোন। একই সঙ্গে নেটওয়ার্কের মান, গ্রাহকসেবা ও পরিচালন দক্ষতা বাড়াতে বিনিয়োগ অব্যাহত রয়েছে। ফোরজি নেটওয়ার্ক, ফাইবার সংযোগ এবং ৭০০ মেগাহার্টজ তরঙ্গ চালুর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।ইয়াসির আজমান আরও বলেন, প্রযুক্তিগত কাঠামো সহজ করা, সেবার ধরন আরও সুনির্দিষ্ট করা এবং গ্রাহকদের সেবা গ্রহণের জটিলতা কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে কার্যক্রম পরিচালনা ও গ্রাহকসেবায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হবে। পাশাপাশি সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর মধ্যে ডিজিটাল সেবা ছড়িয়ে দিতে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি।

এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে ‘ডিজিটাল ইনক্লুশন ফর মার্জিনালাইজড কমিউনিটি’ কর্মসূচির দ্বিতীয় পর্যায় চালু করেছে গ্রামীণফোন। এ পর্যায়ে আটটি সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর ৪০ লাখ মানুষের কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

অংশগ্রহণকারীদের ৭০ শতাংশ নারী। এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিভিন্ন প্রযুক্তি সম্পর্কে শেখা ও পড়াশোনায় সেগুলো ব্যবহারের সুযোগ দিতে ‘ওয়ানএআই’ স্টুডেন্ট প্যাক চালু করেছে কোম্পানিটিগ্রামীণফোনের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা অটো মাগনে রিসব্যাক বলেন, গ্রাহকসংখ্যা বৃদ্ধি ও সেবা ব্যবহারের ইতিবাচক প্রবণতা রাজস্বে প্রতিফলিত হতে শুরু করেছে। বড় গ্রাহকভিত্তি, ডেটা ব্যবহারের প্রবৃদ্ধি এবং মোবাইল ফোনে কথা বলার মিনিট ব্যবহারের ভালো অবস্থান এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে। চতুর্থ প্রান্তিকে এ প্রবৃদ্ধির গতি ধরে রাখার লক্ষ্য রয়েছে কোম্পানির।