মিক্সড মার্শাল আর্টস (এমএমএ)-এর রিংয়ে বিশ্বসেরা প্রতিপক্ষকে হারিয়ে একাধিকবার জয়ের মুকুট ছিনিয়ে এনেছেন তিনি। অথচ জীবনের অন্যতম সহজ বিষয় মনে হওয়া একটি উপযুক্ত সঙ্গী বা জীবনসঙ্গী খুঁজে পাওয়ার ক্ষেত্রে মারাত্মক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছেন চীনের প্রথম ইউএফসি চ্যাম্পিয়ন ঝাং ওয়েইলি।
৩৬ বছর বয়সী এই তারকা ফাইটার সম্প্রতি এক খোলামেলা সাক্ষাৎকারে জানান, পরিবার ও মা-বাবার পক্ষ থেকে বিয়ের জন্য তাঁর ওপর ক্রমাগত চাপ বাড়ছে। এমনকি ভার্চুয়াল বা অনলাইন ডেটিং সাইটে রেজিস্ট্রেশন করতে গেলেও নিজের আসল নাম ও পরিচয় প্রকাশের ভয়ে তাঁকে পিছিয়ে আসতে হচ্ছে।
অক্টোবরের শেষ দিকে চীনের জনপ্রিয় ইনফ্লুয়েন্সার পাপির (পাপি জিয়াং) সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে নিজের ব্যক্তিগত জীবনের এই নানা অজানা দিক তুলে ধরেন ঝাং। সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশের পর ইতিমধ্যেই ইন্টারনেটে প্রতিবেদনটি আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং কয়েক লাখ মানুষ এতে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন।
হেবেই প্রদেশের বাসিন্দা ঝাং ওয়েইলি মাত্র ১২ বছর বয়স থেকে মার্শাল আর্ট চর্চা শুরু করেন। ২০১৯ সালে প্রথম চীনা ফাইটার হিসেবে ইউএফসি স্ট্রওয়েট বিভাগে চ্যাম্পিয়নশিপ জিতে ইতিহাস গড়েছিলেন তিনি। তিন বছর পর ২০২২ সালে পুনরায় সেই খেতাব পুনরুদ্ধার করেন। চলতি বছরের জুন মাসের হিসাব অনুযায়ী তিনি এখনো এই বিভাগে বিশ্বের ১ নম্বর ফাইটার।
তবে রিংয়ের ভেতরের সফলতা রিংয়ের বাইরের জীবনে সাহায্য করছে না বলে জানান তিনি।
মজার ছলে হলেও সামাজিক মাধ্যমের ট্রল বা অপপ্রচারের প্রভাব তুলে ধরে ঝাং বলেন, ‘আমার জন্য ইউএফসি বা এমএমএ রিংয়ে লড়াই করার চেয়ে বয়ফ্রেন্ড খোঁজা অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং। কারণ অনলাইনে অনেকেই রসিকতা করে বলেন, আমার সঙ্গে প্রেম করলে তারা নাকি পারিবারিক সহিংসতার (ডোমেস্টিক ভায়োলেন্স) ভয়ে থাকবেন!’
পারিবারিক চাপের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘চলতি বছর থেকে বাবা-মা বিয়ের জন্য খুব বেশি চাপ দিচ্ছেন। আমি অনেক ডেটিং ওয়েবসাইট ঘুরে দেখেছি, কিন্তু সেসব প্ল্যাটফর্মে আবেদন করতে গেলে আসল নাম পরিচয় দিয়ে রেজিস্টার করতে হয়। ফলে নিজের পরিচয় গোপন রাখা সম্ভব নয় বলেই আমাকে শেষ পর্যন্ত পিছিয়ে আসতে হয়েছে।’
কেমন জীবনসঙ্গী চান বিশ্বসেরা ফাইটার?
সাক্ষাৎকারে ঝাং জানান, তিনি ভালোবাসার সন্ধান করছেন কিন্তু এখনো পাননি। পছন্দের পাত্রের কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, তাঁর হবু সঙ্গীর ব্যক্তিত্ব ভালো হতে হবে, সহজে মেলামেশা করার মতো মানসিকতা থাকতে হবে এবং চেহারা আকর্ষণীয় হতে হবে।
গৃহস্থালি কাজ বা সংসারের দৈনন্দিন সামলানোতে তিনি খুব একটা পারদর্শী নন স্বীকার করে ঝাং বলেন, ‘এমন একজন মানুষকে চাই যাঁর সঙ্গে আমার দক্ষতার সমতা রক্ষা হবে। ঘরের কাজে যিনি আমাকে পরিপূরক হিসেবে সাহায্য করতে পারবেন।’
যদি তাঁর জীবনসঙ্গী খুব বেশি উচ্চাকাঙ্ক্ষী বা অর্থ উপার্জনকারী না-ও হন, তবে কি তিনি সেই সম্পর্কের দায়িত্ব নেবেন? প্রশ্নটির জবাবে এক মুহূর্ত না ভেবে ঝাং বলেন, ‘অবশ্যই, আমি তাঁর সমস্ত দায়িত্ব নেব।’
তিনি জানান, এখন পর্যন্ত কোনো চীনা পুরুষ তাঁকে সরাসরি প্রেমের প্রস্তাব দেয়নি। এক বিদেশি নাগরিক তাঁকে প্রস্তাব দিলেও সাংস্কৃতিক ও ভাষাগত পার্থক্যের কারণে তিনি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।
চীন জুড়ে নারী ক্রীড়াবিদদের প্রেম সংকট
সাক্ষাৎকারটি প্রকাশের পর চীনের সাধারণ নেটিজেন ও ক্রীড়াপ্রেমীরা ঝাং ওয়েইলির কোমল মানসিকতার প্রশংসা করছেন। রিঙে রূঢ় দেখালেও বাস্তব জীবনে তিনি কতটা নরম মনের মানুষ, তা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ইতিবাচক মন্তব্য বর্ষিত হচ্ছে।
তবে কেবল ঝাং ওয়েইলি নন, চিনে সাফল্য পাওয়া একাধিক নারী ক্রীড়াবিদকে বিয়ের বাজারে এমন সামাজিক ও পারিবারিক চাপের মুখোমুখি হতে দেখা যায়। ২০২১ সালের টোকিও অলিম্পিকে শটপুটে স্বর্ণপদক জয়ী চিনের গং লিজিয়াও গত বছর এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, কেবল বিয়ের জন্য এবং ‘সুন্দর দেখানোর উদ্দেশ্যে’ তিনি কমপক্ষে ২৫ কেজি ওজন কমানোর পরিকল্পনা করছেন।
পারিবারিক চাপ সত্ত্বেও আত্মবিশ্বাসী ঝাং ওয়েইলি আশা করছেন, রিঙে যেমন তিনি সফল হয়েছেন, তেমনই সঠিক সময়ে সঠিক জীবনসঙ্গীর সন্ধানও তিনি পেয়ে যাবেন।