যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আছড়ে পড়ল উড়োজাহাজ, ৯ আরোহীর সবাই নিহত

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের পাম বিচ কাউন্টিতে একটি প্রাইভেট বিমান বিধ্বস্ত হয়ে অন্তত নয়জন নিহত হয়েছেন। বাহামাগামী ‘লিয়ারজেট ৬০’ মডেলের বিমানটি একটি আবাসিক এলাকার কাছাকাছি সড়কে তীব্র গতিতে আছড়ে পড়ে এবং তাৎক্ষণিকভাবে অগ্নিকুণ্ডে পরিণত হয়।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, স্থানীয় সময় রোববার বিকেলে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এটি যুক্তরাষ্ট্রে এ বছরের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রাণঘাতী বিমান দুর্ঘটনা। এর আগে গত জুনে মিসৌরির বাটলার এলাকায় একটি স্কাইডাইভিং বিমান দুর্ঘটনায় ১২ জন নিহত হয়েছিলেন।

জাতীয় পরিবহন নিরাপত্তা বোর্ডের (এনটিএসবি) সূত্র অনুযায়ী, বিমানটিতে নয়জন আরোহী ছিলেন। তবে নিহতদের পরিচয় বা তাঁদের মধ্যে কতজন যাত্রী ও কতজন ক্রু ছিলেন, তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।

ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডিস্যান্টিস দুর্ঘটনার তীব্রতা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, ‘মনে হচ্ছিল একটি ক্ষেপণাস্ত্র সোজা নিচের দিকে নেমে আসছে।’

গভর্নর জানান, মাটিতে থাকা কোনো বাসিন্দা নিহত হওয়ার খবর পাওয়া না গেলেও দুর্ঘটনার স্থানে বিশাল গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। কাউন্টির এক কর্মকর্তা জানান, দুর্ঘটনাস্থলটি একটি মোবাইল হোম পার্কের প্রবেশপথ অবরুদ্ধ করে ফেলায় সেখানকার প্রায় ৬০০ জন বাসিন্দা ঘরবাড়িতে ফিরতে পারছেন না। তাঁদের জন্য সাময়িক আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

মার্কিন পরিবহন মন্ত্রী শান ডাফি নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করে এই দুর্ঘটনাকে একটি ‘মারাত্মক ট্র্যাজেডি’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। কেন্দ্রীয় বিমান চলাচল প্রশাসন (এফএএ) এবং এনটিএসবি যৌথভাবে দুর্ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

এভিয়েশন নিরাপত্তা সংস্থা ফ্লাইট সেফটি ফাউন্ডেশন-এর তথ্য অনুযায়ী, এটি লিয়ারজেট ৬০ মডেলের বিমানের ইতিহাসে সবচেয়ে মারাত্মক দুর্ঘটনা। ২০০৮ সালে দক্ষিণ ক্যারোলিনায় একই মডেলের একটি বিমান উড্ডয়নের সময় দুর্ঘটনায় পড়লে চারজন নিহত হন।

রেডিও ট্রাফিক কন্ট্রোলের (LiveATC. net) অডিও রেকর্ড থেকে জানা গেছে, দুর্ঘটনার কয়েক মিনিট আগে চালক বিমানে বরফ জমা, হিমাঙ্কের ৪৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস নিচে তাপমাত্রা এবং প্রবল ঝাঁকুনির (টার্বুলেন্স) কথা জানিয়েছিলেন।

প্রথমে পাইলট মিয়ামি এয়ার রুট ট্রাফিক কন্ট্রোল সেন্টারকে জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। কিন্তু তার কিছুক্ষণ পরেই আকাশে প্রবল ঝড়বৃষ্টি শুরু হলে পাইলট জরুরি অবস্থা (মে-ডে) ঘোষণা করেন।

নিয়ন্ত্রণকক্ষে পাঠানো শেষ বার্তাটিতে পাইলটকে চরম আতঙ্কের সঙ্গে বলতে শোনা যায়, ‘আমরা প্রতি মিনিটে ১০ হাজার ফুট নিচে নেমে যাচ্ছি…আমরা অতিরিক্ত গতিতে ২০ হাজার ফুট গতিতে নিচে পড়ছি…আমরা মাটিতে আছড়ে পড়তে যাচ্ছি।’

ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ADS-B এক্সচেঞ্জের তথ্য অনুযায়ী, সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঠিক এক মিনিট আগে বিমানটি ২৭ হাজার ফুট নিচে নেমে আসে।

বিমানের ককপিট ভয়েস রেকর্ডার (ব্ল্যাক বক্স) উদ্ধার করা সম্ভব হলে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উন্মোচিত হবে বলে আশা করছেন তদন্তকারীরা। এনটিএসবি প্রতিনিধিরা দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিস্তারিত সংবাদ সম্মেলন করবেন।