স্কলার্সহোমে তিন দিনের আর্ট এক্সিবিশন, পুরস্কৃত ১২ শিক্ষার্থী

রং-তুলিতে কল্পনার প্রকাশ, শিল্পকর্মে সৃজনশীলতার ছাপ- এমনই প্রাণবন্ত পরিবেশে সিলেটে সম্পন্ন হয়েছে স্কলার্সহোম টিলাগড় ক্যাম্পাসের তিন দিনব্যাপী ‘আর্ট এক্সিবিশন ২০২৬’।

৭৭ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে আয়োজিত এ প্রদর্শনীতে স্থান পায় প্লে গ্রুপ থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের আঁকা ছবি ও বিভিন্ন ধরনের শিল্পকর্ম। প্রদর্শনীর শেষ দিনে চারটি বিভাগে নির্বাচিত ১২ বিজয়ী শিক্ষার্থীকে পুরস্কার দেওয়া হয়। পাশাপাশি অংশগ্রহণকারী প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে দেওয়া হয় সনদ।

২৭ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত বিদ্যালয়ের হলরুমে এ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা বিকাশ, শিল্পকলার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি এবং সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়।

২৭ অক্টোবর সকালে প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন স্কলার্সহোমের একাডেমিক কো-অর্ডিনেটর অধ্যাপক জয়নুল আবেদীন চৌধুরী। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন স্কলার্সহোম শাহী ঈদগাহ ক্যাম্পাসের অধ্যক্ষ লেফটেন্যান্ট কর্নেল মুনির আহমেদ কাদেরী (অব.), মেজরটিলা ক্যাম্পাসের অধ্যক্ষ ফয়জুল হক, দক্ষিণ সুরমা ক্যাম্পাসের অধ্যক্ষ অধ্যাপক আবুল আনাম মোহাম্মদ রিয়াজ এবং পাঠানটুলা ক্যাম্পাসের উপাধ্যক্ষ আব্দুল আজিজ।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন স্কলার্সহোম টিলাগড় ক্যাম্পাসের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ শামছ উদ্দিন।

অতিথিদের ফুল দিয়ে বরণ করার পর ফিতা কেটে প্রদর্শনীর উদ্বোধন করা হয়। পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত ও জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম। পরে শিক্ষার্থীরা নিজেদের শিল্পচর্চা ও সৃজনশীল অভিজ্ঞতা তুলে ধরে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিরা শিক্ষার্থীদের শিল্পকর্মের প্রশংসা করেন। তাঁরা বলেন, শিল্পচর্চা শিক্ষার্থীদের কল্পনাশক্তি, মননশীলতা ও নান্দনিক বোধ বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের নিজেদের প্রতিভা প্রকাশের সুযোগ করে দেওয়ার পাশাপাশি নতুন কিছু সৃষ্টিতে আগ্রহী করে তোলে। এ সময় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার আহ্বান জানানো হয়।

প্রদর্শনীতে প্রতিটি শিল্পকর্মে শিক্ষার্থীদের কল্পনা, চিন্তা ও সৃজনশীলতার স্বতন্ত্র প্রকাশ দেখা যায়। শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থীরা ঘুরে ঘুরে শিল্পকর্ম উপভোগ করেন। পাশাপাশি পছন্দের ছবি কেনা বা বুকিং দেওয়ার সুযোগও ছিল। এতে শিক্ষার্থীরা নিজেদের সৃষ্টিকর্ম প্রদর্শনের পাশাপাশি শিল্পকর্মের মূল্য ও ব্যবহারিক দিক সম্পর্কেও ধারণা লাভ করে।

প্রদর্শনীর অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীদের চারটি বিভাগে ভাগ করে শিল্পকর্ম মূল্যায়ন করা হয়। প্রতিটি বিভাগে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারী শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হয়। ২৯ অক্টোবর সমাপনী অনুষ্ঠানে চার বিভাগের মোট ১২ বিজয়ীর হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে অংশগ্রহণকারী ৭৭ শিক্ষার্থীর প্রত্যেককে সনদ দেওয়া হয়।

প্রদর্শনীর আয়োজন ও ব্যবস্থাপনায় সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন সুমিত্রা মজুমদার। সার্বিক আয়োজন, নকশা ও ব্যবস্থাপনায় যুক্ত ছিলেন বিজয় রায়, দিপালী দাস, থাওদাম বৌলি, তানশা ফারাজানা, তানজিলা সুলতানা, তুহারা নাজ আন্নি, আয়েশা আনোয়ার, রিফাত আরা চৌধুরী ও সুমাইয়া আক্তারসহ সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও কর্মীরা।

অতিথি আপ্যায়ন, সাজসজ্জা, শিল্পকর্ম প্রদর্শন, অনুষ্ঠান পরিচালনা ও আলোকচিত্র ধারণসহ বিভিন্ন দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে তাঁরা আয়োজনটি সফল করতে ভূমিকা রাখেন।

তিন দিনব্যাপী এ আয়োজন শিক্ষার্থীদের প্রতিভা বিকাশ, শিল্পকলার প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি এবং সৃজনশীল শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আশা করছেন, এ ধরনের উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর পাশাপাশি তাদের চিন্তা, কল্পনা ও সৃষ্টিশীলতাকে আরও সমৃদ্ধ করবে।