‘হামজারা থাকার পরও বাংলাদেশ সাফ না জিততে পারলে সেটা দুঃখজনক’

দুদিন পরই শুরু হচ্ছে সাফ। তবে হামজা চৌধুরীকে শুরুতেই পাচ্ছে না বাংলাদেশ। দলের সঙ্গে যোগ দেবেন দেরিতে। তবু হামজা থাকায় বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীরা সাফ নিয়ে আশাবাদী। ২০০৩ সাফজয়ী অধিনায়ক রজনীকান্ত বর্মণের আশা, ২৩ বছর পর এবারও বাংলাদেশের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

দেড় বছরে বাংলাদেশের হয়ে ১৩ ম্যাচ খেলে ৪ গোল করেছেন হামজা। অ্যাসিস্ট করেছেন এক গোলে। পুরো মাঠজুড়ে তাঁর বিচরণ। এমনকি সামাজিকমাধ্যমে ভক্ত-সমর্থকদের অনেকের আক্ষেপ, ‘ইশ! হামজা যদি গোলরক্ষক হতেন!’ বিশেষ করে শেষ মুহূর্তে বাংলাদেশ যেভাবে একের পর এক গোল হজম করে হেরে যায়, সেখানে অভিজ্ঞ এই ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডারকে দলের রক্ষাকর্তা মনে করেন রজনীকান্ত।

হামজার মতো ফাহামিদুল ইসলাম, শমিত সোম, মাহি খানের মতো প্রবাসীরা এসেছেন বাংলাদেশ ফুটবলে। রজনীর মতে তারকা প্রবাসীরা আসার পরও যদি বাংলাদেশ এবার সাফ চ্যাম্পিয়ন না হয়, তাহলে এটা ব্যর্থতার শামিল। বাফুফেতে আজ ২০০৩ সাফজয়ী অধিনায়ক বলেন,

‘অবশ্যই বাংলাদেশের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সম্ভাবনা দেখি। বিশেষ করে হামজা সে অত্যন্ত ভালো মানের খেলোয়াড়। আমার মতে সে অনেকটাই স্কিলফুল খেলোয়াড়। অ্যাটাকিংই করতে পারে। রানিং ভালো। আশা করি দলের জন্য অনেক উপকারে আসবে। এখনো যদি এই প্রবাসী খেলোয়াড় এনে যদি ভালো ভালো খেলোয়াড় এনে যদি ফল না আনতে পারি, তাহলে সেটা হবে দুঃখজনক।’

বাংলাদেশে সবশেষ সাফ হয়েছে ২০১৮ সালে। এমনকি ২০০৩ সালে বাংলাদেশ যে একমাত্র সাফ জিতেছে, সেটাও জিতেছে ঘরের মাঠে। সেবার রজনীকান্ত সেরা খেলোয়াড় হয়েছিলেন। এবার হামজা-শমিতদের মতো প্রবাসীরা আসায় ফুটবল নিয়ে উন্মাদনা অনেক বেড়ে যাওয়ায়

দর্শকদের আগমন অনেক বেশি হবে বলে মনে করেন রজনী। ২০০৩ সাফজয়ী অধিনায়ক বলেন, ‘আশা করি যে দর্শক আমাদের পক্ষে থাকবে। দর্শকও মাঠে থাকবেন। আগের তুলনায় আমি আশা করি, এবারের দলটা অনেক ভালো।২০০৩ সালে অধিনায়ক ছিলাম এবং সেই টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় হয়েছিলাম।’

২৩ বছরে বাংলাদেশ ফুটবলের যদি উন্নতি না হয়, তাহলে আর কবে—রজনীর প্রশ্ন সেটাই। ২০০৩ সাফজয়ী অধিনায়ক বলেন, ‘আমাদের হয়তো সামর্থ্য নেই। সামর্থ্য যেটা বলে, আমাদের মাঠ ছিল না সেরকম। খেলোয়াড় হয়তো সেভাবে জোটেনি। আগেও আমরা ছিলাম। আমাদের সেই সময়ে হয়তো মাঠ ছিল না। এখন তো আছে তাও। এখন দেখেন বসুন্ধরা তাদের নিজস্ব মাঠ। নিজস্ব স্টেডিয়াম। আমি মনে করি যে এখনও যদি আমরা যদি এই ২৩ বছর পরেও যদি আমরা উন্নতি না করতে পারি, তাহলে তো আর আশা করা যায় না।’

২০০৩ সাফের ম্যান অব দ্য টুর্নামেন্ট পুরস্কারজয়ী রজনী অনেকটা পঙ্গুত্ব বরণ করে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে গ্রামের বাড়িতে নিভৃতে পড়ে রয়েছেন দীর্ঘদিন ধরে। দৈনিক আজকের পত্রিকায় তাঁকে নিয়ে গত পরশু একটি প্রতিবেদন প্রকাশের পর নতুন করে আলোচনায় আসেন।