২০০ শিক্ষার্থীর পাঠদান চলছে দুজন শিক্ষকে

সুষ্ঠু পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনার অভাবে শুরুতেই মুখ থুবড়ে পড়েছে বাউফল নার্সিং ইনস্টিটিউট। প্রায় ১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সুরম্য ভবনটিতে যে পরিমাণ কর্মযজ্ঞ চলার কথা ছিল, তার ছিটেফোঁটাও নেই। নার্সিং শিক্ষার মত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ টেকনিক্যাল ও মেডিকেল বিষয়ে সরকারের অবহেলা ও অমনোযোগেরই উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে প্রতিষ্ঠানটি।

স্বাস্থ্য ও প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালের ৫ মার্চ প্রকল্পটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। দেড় একর জমির ওপর ১৭ কোটি ৭০ লাখ ৩৯ হাজার ৯ শ ২৮ টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয় ৫ তলা ভবন। ২০২৩ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষার্থী ভর্তির অনুমোদন দেওয়া হয়।

শিক্ষক সংকট, জনবলের অভাব এবং ল্যাব ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতায় চরম ব্যাহত হচ্ছে পটুয়াখালীর বাউফল নার্সিং ইনস্টিটিউটের শিক্ষা কার্যক্রম। প্রায় ২০০ শিক্ষার্থীর পাঠদান চলছে মাত্র দুজন শিক্ষক দিয়ে। নৈশপ্রহরী, পিয়ন ও বাবুর্চি না থাকায় একাডেমিক ও আবাসিক কার্যক্রম পরিচালনার অবস্থাও হ-য-ব-র-ল।

প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষকের ১০ টি পদ থাকলেও শিক্ষক আছেন মাত্র ২ জন। নৈশ প্রহরীর ৩ পদের বিপরীতে একজনও নেই। বাবুর্চি ১ ও সহকারী বাবুর্চি ৩ জন থাকার কথা থাকলেও নেই কেউ। এমন অবস্থায় প্রতিষ্ঠানটিতে ১৭টি বিষয়ে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব পুরোটাই এসে পড়েছে দুজন শিক্ষকের ঘাড়ে। নিয়মিত ক্লাস নেওয়া ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষকে।

নার্সিং শিক্ষায় তাত্ত্বিক জ্ঞানের পাশাপাশি ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ হলেও আধুনিক ল্যাব ও প্রয়োজনীয় উপকরণের অভাবে হাতে-কলমে শিক্ষার সুযোগ এখানে একেবারেই সীমিত। ৭টি ল্যাব থাকার কথা থাকলেও আছে মাত্র ১টি, সেটিতেও নেই প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম। একটি লাইব্রেরি আছে, কিন্তু বই নেই। কম্পিউটার ল্যাব, অটিটোরিয়ামও অনুপস্থিত এখানে।

নেই শিক্ষার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত আসবাবপত্র ও খেলাধুলার সরঞ্জামও। নিরাপদ পানির ব্যবস্থা, ক্যাম্পাসের পাকা রাস্তা, মূল ফটক সংস্কার এবং শহীদ মিনার নির্মাণও প্রয়োজন।

বাউফল নার্সিং ইনস্টিটিউটের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মরিয়ম বেগম বলেন, ‘আমাদের প্রতিষ্ঠানের অর্থনৈতিক কোড না হওয়ার কারণে আমরা অনেক কিছু থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। প্রয়োজনীয় শিক্ষক, কর্মকর্তা কর্মচারী নেই। অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বৃত্তি সহযোগিতা, ভাতা পায়– আমরা সেটিও পাই না। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের একাধিক বার এ বিষয়ে যোগাযোগ করার পরেও কোন কার্যকর সমাধান পাওয়া যায়নি।’

মরিয়ম বেগম বলেন, প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় প্রতিনিয়ত সমস্যায় পড়তে হচ্ছে তাঁকে। প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম সচল রাখতে ব্যক্তিগত তহবিল থেকেও অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে।

সীমাবদ্ধতার মধ্যেও চলতি বছর প্রতিষ্ঠানটির ৭১ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সবাই উত্তীর্ণ হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২৩ জন।

তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সোনিয়া আক্তার বলেন, শিক্ষক সংকটের কারণে তাঁরা নিয়মিত ও যথাযথভাবে পড়াশোনার সুযোগ পাচ্ছেন না। নৈশপ্রহরী ও পিয়ন না থাকায় নিরাপত্তা এবং দৈনন্দিন কাজ নিয়ে সমস্যায় পড়তে হয়।

সুরাইয়া বলেন, বাবুর্চি না থাকায় শিক্ষার্থীদের নিজেদের রান্না করে খেতে হয়। ক্যাম্পাস পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজও তাঁদের করতে হয়। পর্যাপ্ত আসবাবপত্র নেই এবং খেলাধুলার জন্য একটি ক্যারম বোর্ড পর্যন্ত নেই।

শিক্ষার্থী ও স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত শিক্ষক সংকট নিরসন, প্রয়োজনীয় কর্মচারী নিয়োগ, আধুনিক ল্যাব স্থাপন এবং অবকাঠামোগত সমস্যার সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।