জাতীয়
অগ্নিনিরাপত্তা লাইসেন্স নেই টুপটুপ রিসোর্টের

জুনে দেওয়া হয় নোটিশ: ফায়ার সার্ভিসের ডিজি

জুনে দেওয়া হয় নোটিশ: ফায়ার সার্ভিসের ডিজি

কক্সবাজারে আগুনে পুড়ে ছাই হওয়া টুপটুপ রিসোর্ট অ্যান্ড রেস্তোরাঁটি ফায়ার সার্ভিসের অনুমতি ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছিল বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক (ডিজি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরীন জুনাইদ।

ডিজি আরও জানিয়েছেন, রিসোর্টটিকে ঝুঁকিপূর্ণ উল্লেখ করে গত জুনে সতর্ক করার পাশাপাশি নোটিশও দিয়েছিল ফায়ার সার্ভিস। তবে এরপরও রিসোর্টটির কার্যক্রম চালু ছিল।

শনিবার ( ১৭ অক্টোবর ) দুপুরে রাজধানীর কাজী আলাউদ্দীন রোডে অবস্থিত ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরে শারদীয় দুর্গোৎসবে অগ্নিনিরাপত্তা নিয়ে আয়োজিত এক প্রেস কনফারেন্সে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক।

ডিজি আরও জানান, রিসোর্টটি পরিচালনার জন্য ফায়ার সার্ভিসের কাছ থেকে কোনো লাইসেন্স নেয়নি। গত ১১ জুন ফায়ার সার্ভিসের একজন পরিদর্শক সেখানে গিয়ে ই-ফায়ার লাইসেন্স নেওয়ার জন্য ২১ দিনের সময় দিয়ে নোটিশ দেন।

মহাপরিচালক আরও জানান, রিসোর্টটি ঝুঁকিপূর্ণ বলেও সতর্ক করা হয়েছিল। এরপরও তারা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিল।

আজ শনিবার সকালে কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভের ইনানী পাটুয়ারটেক এলাকায় রিসোর্টটিতে আগুন লেগে ১০ পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। কক্সবাজার সদর হাসপাতালে আছেন আরও ৭ জন।

বেলা ১১টার দিকে আগুন পুরোপুরি নেভানো হয় বলে জানান কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন।

এ অগ্নিকাণ্ডের প্রসঙ্গে টেনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক বলেন, ‘কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন পর্যটন এলাকায় অনেক ইকো রিসোর্ট ও অন্যান্য স্থাপনা ফায়ার সার্ভিসের অনুমতি ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে। এসব স্থাপনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলা হবে।’

কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও বিভিন্ন অ্যাসোসিয়েশনের মাধ্যমে রিসোর্ট পরিচালকদের সতর্ক করার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

অগ্নিকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে ফায়ার সার্ভিসের ডিজি বলেন, ‘তদন্ত শেষ হওয়ার আগে আগুন লাগার কারণ নিয়ে অনুমাননির্ভর কোনো বক্তব্য দেওয়া ঠিক হবে না। পূর্ণাঙ্গ তদন্তের পর এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।’

ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, আজ শনিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে রিসোর্টটিতে আগুন লাগে। খবর পাওয়ার পর নিকটবর্তী ফায়ার স্টেশন থেকে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে হয় প্রায় ২২ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে। পরে ফায়ার ফাইটিংয়ের মাধ্যমে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। তবে এর মধ্যে প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।

রিসোর্টটি তিনতলা কাঠের স্থাপনা ছিল। নিচতলায় ছিল রেস্তোরাঁ, আর দোতলা ও তিনতলায় পর্যটকদের থাকার ব্যবস্থা ছিল। কাঠসহ দাহ্য পদার্থ দিয়ে তৈরি এ ধরনের স্থাপনায় অগ্নিনিরাপত্তার ঝুঁকি বেশি বলে জানান ওই কর্মকর্তা।

সাংবাদিকদের অন্য একটি প্রশ্নের জবাবে দেশের বিভিন্ন স্থানে ফায়ার সার্ভিসের স্টেশনসংকটের বিষয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে ৫৩৮টি ফায়ার স্টেশন রয়েছে। আরও ১৩০টি ফায়ার স্টেশন নির্মাণের প্রকল্প প্রক্রিয়াধীন, যার মধ্যে উখিয়াও রয়েছে।

ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করার চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে তিনি বলেন, অনেক জায়গায় ভবনগুলো পাশাপাশি তৈরি হওয়ায় ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ও সরঞ্জাম নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছানো কঠিন হয়। বিদ্যমান বাস্তবতায় অগ্নিনির্বাপণের সক্ষমতা বাড়াতে নতুন ধরনের ছোট যানবাহন ব্যবহারের বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, অগ্নিকাণ্ডের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে জনসচেতনতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আগুনের সূত্রপাতের পরপরই তা নিয়ন্ত্রণে আনা গেলে বড় দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব। এ জন্য সাধারণ মানুষ ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে অগ্নিনিরাপত্তার বিষয়ে সচেতন হতে হবে।