ডায়াল সিলেট ডেস্ক:-
টাকা দিলেই মেলে ভালো ব্যবহার, এমনকি শয্যার ব্যবস্থাও। আর টাকা না থাকলে ঠাঁই মেলে মেঝেতে। এভাবেই দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম-অব্যবস্থাপনায় জর্জরিত সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।
সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অভিযানে হাসপাতালটির একের পর এক অনিয়ম-দুর্নীতির চিত্র প্রকাশ্যে আসে। অভিযোগ আছে—ওয়ার্ডবয়, ব্রাদার এমনকি নার্সরাও অনেক সময় রোগীদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন। রোগীরা কিনে আনা ঔষধ আত্মসাৎ করার ঘটনাও ধরা পড়েছে। এতে হাসপাতালের প্রতি আস্থা হারাচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
অভিযোগ রয়েছে, হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে শয্যা নিয়ে চলছে বাণিজ্য। টাকা দিলে মেলে বিছানা, না হলে রোগীদের মেঝেতে রাখা হয়। একই সঙ্গে নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ যেন নিত্যসঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে রোগীদের জন্য।
দুদকের অভিযানে বেরিয়ে এসেছে এম্বুল্যান্স সার্ভিস, খাবার সরবরাহ থেকে শুরু করে আউটসোর্সিং কর্মচারীদের বেতন প্রদানে নানা অনিয়মের তথ্য। তিন মাস ধরে আড়াই শতাধিক কর্মীর বেতন পরিশোধ করা হয়নি বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে। এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সৌদি এন্টারপ্রাইজ দায়সারা জবাব দিয়েছে।
দুদকের সিলেট আঞ্চলিক কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক জুয়েল মজুমদার বলেন, ‘হাসপাতালের বিভিন্ন সেবায় ব্যাপক অনিয়ম পাওয়া গেছে। তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।’ তবে সংশ্লিষ্টদের দাবি, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি ও অন্যান্য ব্যয়ের চাপেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
এদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নানা সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে অনিয়ম দূরীকরণে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। সহকারী পরিচালক (প্রশাসন ও প্রশিক্ষণ) ডা. বদরুল আমিন বলেন, ‘সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।’
প্রতিদিন আড়াই থেকে তিন হাজার রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেন ওসমানী মেডিকেলে—যা এর সক্ষমতার দ্বিগুণ। জরুরি ও বহির্বিভাগ মিলিয়ে গড়ে চার হাজারেরও বেশি রোগী সেবা নেন এখানে।
সাত দশক পার করা এ হাসপাতাল নিয়ে মানুষের অভিযোগের অন্ত নেই। চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অনিয়ম-অব্যবস্থাপনা কাটিয়ে না উঠতে পারলে হাসপাতালটির প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা আরও কমে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।