কুলাউড়ায় মাটি চাপায় তিন শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু

মনজু চৌধুরী:  কুলাউড়া উপজেলার ভাটেরা ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের ইসলামনগর গ্রামের ৩ শিশু পাহাড় ধ্বসে মাটি চাপায় নিহত হয়েছে।
নিহতরা হল সলামনগর গ্রামের তছলিম মিয়ার পুত্র সুমন মিয়া (১৩), আব্দুল করিমের পুত্র কবির আহমদ (১০), আব্দুস ছালামের পুত্র নাহিদ আহমদ (১২)। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান ধারণা করা হচ্ছে ২৬ মার্চ শনিবার  শনিবার দুপুর ১ টার দিকে তিন শিশু একসাথে ভাটেরা রাবার বাগানের ইসলামনগর এলাকায় মাছরাঙা পাখির বাসার গর্ত থেকে বাচ্চা ধরতে গেলে পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে। নিহত একজনের হাত দেখে সনাক্ত করে গ্রামবাসী মিলে মাটি সরিয়ে তিনজনকে উদ্ধার করে। পরে স্থানীয়রা তাদেরকে দ্রুত ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদেরকে মৃত ঘোষণা করেন। মর্মান্তিক এই দূর্ঘটনায় এলাকা জুড়ে শোকের ছায়া নেমেছে। বিষয়টি ভাটেরা ইউপি চেয়ারম্যান সৈয়দ একে এম নজরুল ইসলাম এই নিশ্চিত করেছেন।
ঘটনার সত্যত্য স্বীকার করেন কুলাউড়া থানার ওসি (তদন্ত) আমিনুল ইসলাম জানান, ঘটনার পর ৩ শিশুকে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে ওখানে তাদের মৃত্যু হয়।

১

জগন্নাথপুরে হত্যা মামলার আসামিদের বাড়িঘরে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ ​জগন্নাথপুর প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার মীরপুর ইউনিয়নের উত্তর গড়গড়ি গ্রামে একটি হত্যা ঘটনার পর প্রতিপক্ষের অন্তত বেশ কয়েকটি বাড়িঘরে দফায় দফায় হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে।গত ১৮ অক্টোবর রাতে শূন্য বাড়িগুলোতে অগ্নি সংযোগ করা হয়। ভুক্তভোগীদের দাবি, জগন্নাথপুর থানা পুলিশ এ বিষয়ে কোনো মামলা নিচ্ছে না। হামলায় বসতঘর ও খামার থেকে গবাদিপশু, স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুট করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো অভিযোগ করেছে। ​ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই আসামিপক্ষের পরিবারগুলো চরম আতঙ্কে রয়েছে। কয়েকটি বাড়ি পুরো পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে। আর এই শূন্য বাড়িগুলোকে লক্ষ্য করে দফায় দফায় হামলা চালানো হচ্ছে। এমনকি গত রাতেও আসামিদের বসতঘরে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। ​গতকাল ১৯ অক্টোবর সরেজমিনে উত্তর গড়গড়ি গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, পুরুষশূন্য বাড়িগু রয়েছে, পরিত্যক্ত বাড়িগুলোতে, দফায় দফায় অগ্নিসংযোগ করে যাচ্ছে, প্রতিপক্ষরা, থানায় অভিযোগ করলেও, কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না। ঘরের ভেতরের আসবাবপত্র ভেঙে চুরমার করে যত্রতত্র ছিটিয়ে রাখা হয়েছে এবং আগুনে পুড়িয়ে ছাই করে দেওয়া হয়েছে। ঘটনার পর থেকে পরিবারের পুরুষ সদস্যরা আত্মগোপনে থাকায় নারী ও শিশুরা চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন এবং বাধ্য হয়ে আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। ​হামলা, লুটপাট ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে সুনামগঞ্জ আদালত ও জগন্নাথপুর থানায় মোট চারটি পৃথক লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে সুনামগঞ্জের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি সিআর মামলা (মামলা নং— ১৮৮/২০২৬) দায়ের করেছেন মোছা. ফাতেমা বেগম (৩৮)। এই মামলায় স্থানীয় ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।