দুই দফা প্রাণঘাতী ওষুধেও মৃত্যু হয়নি, সেই রাতের অভিজ্ঞতা জানালেন পাইক

মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে এসেছেন তিনি। শরীরে দুই দফা প্রাণঘাতী ওষুধ প্রয়োগের পরও থামেনি হৃৎস্পন্দন। বরং গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে কাটাতে হয়েছে দিন।সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার পর প্রথমবারের মতো মুখ খুলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দী ক্রিস্টা পাইক।

গত শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) দেওয়া এক বিবৃতিতে ব্যর্থ মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সেই রাতের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন ক্রিস্টা পাইক।তিনি বলেন, সেই রাতের পর থেকে এক মুহূর্তের জন্যও ব্যথামুক্ত থাকতে পারেননি তিনি। প্রতিটি মুহূর্ত শারীরিক ও মানসিক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে কাটছে তার।পাইক জানান, তার শরীর, দুই হাত ও গলায় এখনো ব্যথা রয়েছে। এমনকি কথা বলতেও কষ্ট হচ্ছে। তবে, এ যন্ত্রণা শুধু শরীরেই সীমাবদ্ধ নয়, মানসিকভাবেও ভীষণ বিপর্যস্ত তিনি।

বিবৃতিতে নিজের শারীরিক অবস্থার উন্নতির কথাও জানিয়েছেন পাইক। তিনি বলেন, ‘আমি সুস্থ হয়ে উঠছি এবং বুঝতে পারছি, ধীরে ধীরে শক্তিও ফিরে পাচ্ছি।’ তবে, সুস্থ হয়ে ওঠা আর পুরোপুরি ভালো থাকা এক বিষয় নয় বলে জানান তিনি।গত সেপ্টেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে ক্রিস্টা পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা করা হয়। এসময় তাকে পেন্টোবারবিটাল নামের প্রাণঘাতী ওষুধের দুটি ডোজ দেওয়া হয়।তবে, দুই দফা ওষুধ প্রয়োগের পরও তার মৃত্যু হয়নি। বরং গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

গত মাসের শেষ দিকে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়ে আবার কারাগারে ফিরেছেন পাইক। তার আইনজীবীরা জানিয়েছেন, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টার পর তিনি নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়েছিলেন।একই সঙ্গে, দুই হাতে গুরুতর ফোলাভাব দেখা দিয়েছিল এবং খাবার গিলতেও সমস্যা হচ্ছিল তার।মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সেই রাতের পরও যে তাকে বেঁচে থাকতে হবে, তা কখনো ভাবেননি বলে জানিয়েছেন পাইক। একই সঙ্গে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অদক্ষতার কারণে এত মানুষকে ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে বলে তিনি গভীরভাবে মর্মাহত বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করেন।১৯৯৫ সালে ১৯ বছর বয়সী কোলিন স্লেমারকে হত্যা করেন ক্রিস্টা পাইক। তখন তার বয়স ছিল ১৮ বছর। এ ঘটনায় তার তৎকালীন প্রেমিক টাডারিল শিপও জড়িত ছিলেন।কম আয়ের পরিবারের তরুণদের জন্য পরিচালিত একটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে তাদের সঙ্গে স্লেমারের পরিচয় হয়েছিল।

পাইক ও শিপের ধারণা ছিল, স্লেমার তাদের দুজনের সম্পর্ক ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করছেন।পরে, পাইক ও শিপ মিলে স্লেমারকে মারধর ও শারীরিক নির্যাতনের পর হত্যা করেন। এ ঘটনায় শিপও দোষী সাব্যস্ত হন।তবে, হত্যাকাণ্ডের সময় তার বয়স ১৮ বছরের কম থাকায় তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়নি। আদালত যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন তাকে। তিনি এখনো কারাগারে রয়েছেন।এদিকে, পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর টেনেসির গভর্নর বিল লি চলতি বছরের বাকি সময় আর কারও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একই সঙ্গে, কী কারণে এ ঘটনা ঘটেছে, তা জানতে স্বাধীন তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

অন্যদিকে, পাইকের মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকবে কি না, তা আদালতই ঠিক করবেন। নিহত স্লেমারের মা মে মার্টিনেজও এ ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।মেয়ের হত্যার ঘটনায় শুধু ন্যায়বিচার চেয়েছিলেন বলে জানান তিনি। তবে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় এমন ঘটনা ঘটায় অঙ্গরাজ্য কর্তৃপক্ষের তার কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি।