যশোর বোর্ডে এইচএসসির ফল বিপর্যয়, পাসের হার ৪৪.৯২%

২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় যশোর শিক্ষা বোর্ডে ফলাফলের বড় অবনতি হয়েছে। গত চার বছরের মধ্যে এবারই সবচেয়ে কম শিক্ষার্থী পাস করেছেন। একই সঙ্গে কমেছে জিপিএ-৫ অর্জনকারীর সংখ্যাও। এ বছর বোর্ডটিতে পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৪৪ দশমিক ৯২ শতাংশ। সর্বোচ্চ জিপিএ-৫ পেয়েছেন মাত্র ৩ হাজার ২২৮ জন শিক্ষার্থী। ইংরেজি বিষয়ে বেশি শিক্ষার্থীর অকৃতকার্য হওয়াকে ফল বিপর্যয়ের প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে বোর্ড কর্তৃপক্ষ।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) যশোর শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর এস এম হোসেন আলীর স্বাক্ষরিত ফল প্রকাশের বিজ্ঞপ্তি ও পরিসংখ্যান থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে যশোর শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর এস এম হোসেন আলী বলেন, এবার এইচএসসি পরীক্ষায় ইংরেজি বিষয়ে তুলনামূলক বেশি শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছেন। এ কারণে সামগ্রিক পাসের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

ফল পুনর্নিরীক্ষণের সুযোগ সাত দিন প্রকাশিত ফলাফলে কোনো শিক্ষার্থী অসন্তুষ্ট হলে উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করতে পারবেন। এ জন্য ফল প্রকাশের পরদিন থেকে সাত দিন সময় নির্ধারণ করেছে বোর্ড। বোর্ডের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ১ নভেম্বর থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত অনলাইনে উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আবেদন করা যাবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের আবেদন সম্পন্ন করতে হবে।

শিক্ষার মান নিয়ে নতুন প্রশ্ন শিক্ষা বোর্ডে টানা কয়েক বছর ধরে পাসের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যা কমতে থাকায় শিক্ষার মান, বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতি এবং ইংরেজি শিক্ষার দুর্বলতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

বোর্ডের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এ বছর যশোর শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ১০ জেলার ৫৭১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন। মোট ২৪০টি কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষার জন্য নিবন্ধিত ছিলেন ১ লাখ ১৭ হাজার ৫১০ জন শিক্ষার্থী। তাঁদের মধ্যে ১ লাখ ১২ হাজার ৭৯১ জন পরীক্ষায় অংশ নেন।

অংশগ্রহণকারী পরীক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৫০ হাজার ৬৬৮ জন। সেই হিসাবে পাসের হার ৪৪ দশমিক ৯২ শতাংশ। অন্যদিকে, অসদুপায় অবলম্বনের অভিযোগে ৪৩ জন পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।