১৫ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

সিলেট

সিলেটের ১৫ প্রতিষ্ঠানকে নোটিস, চলতি মাসেই ঢাকা থেকে আসছে টিম

সিলেটের ১৫ প্রতিষ্ঠানকে নোটিস, চলতি মাসেই ঢাকা থেকে আসছে টিম

ডায়ালসিলেট::

সিলেটে লাইসেন্সবিহীন হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে উপর নামছে ‘শাস্তির খড়গ’। সিলেটে চালু থাকা লাইসেন্সবিহীন স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের তালিকা চেয়ে বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) বরাবরে এরই মধ্যে চিঠি দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তালিকা নিয়ে চলতি মাসের মধ্যেই সিলেটে পরিদর্শনে আসবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একটি প্রতিনিধি দল।

সিলেটসহ সারাদেশে বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার প্রতিষ্ঠায় মানা হচ্ছে না আইন। সিলেটেও যত্রতত্র ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠেছে অবৈধ স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান।

করোনাকালের শুরুতে দেশের বিভিন্ন স্থানে কয়েকটি বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের অনিয়ম-দুর্নীতির ভয়াবহ তথ্য প্রকাশ পাওয়ায় নড়েচড়ে বসে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। নিচ্ছে লাইসেন্সবিহীন হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে শক্ত ব্যবস্থা। এরই অংশ হিসেবে সিলেটেও লাইসেন্সবিহীন স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে যাচ্ছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

২০১৮ সালে লাইসেন্স নেওয়া ও নবায়নের জন্য অনলাইনে আবেদনের পদ্ধতি চালু হয়। কিন্তু তাতে কোনও একটি শর্ত যদি পূরণ না হয় তাহলে রেজিস্ট্রেশন হয় না, নবায়নও হয় না। তাই সিলেটের বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার ঠিকমতো শর্ত পূরণ করতে না পেরে আবেদন করেনি।

জানা গেছে, সিলেটের ১৫টি প্রতিষ্ঠানকে নোটিস দেওয়া হয়েছে। ১৫ দিনের মধ্যে নোটিসের জবাব দিতে বলা হয়েছে। নোটিসপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে- নগরীর কাজী ইলিয়াস এলাকার রয়েল হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার, দরগাগেট এলাকার মহানগর হাসপাতাল ও লাইফ কেয়ার পলিক্লিনিক, লামাবাজারের আয়েশা মেডিকেয়ার, পাঠানটুলার বিএভিএস হাসপাতাল, দক্ষিণ কাজলশাহর গ্রামীণ হাসপাতাল, ওসমানী মেডিকেল রোডের মেডিচেক প্যাথলজি সেন্টার ও সিলেট সিটি ডেন্টাল এক্স-রে, স্টেডিয়াম মার্কেটের পারফেক্ট ডিজিটাল ল্যাব, সেবা ডায়াগনস্টিক সেন্টার, মেডিল্যাব সার্ভিসেস, আধুনিক ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও অ্যাপোলো ডায়াগনস্টিক সেন্টার, রিকাবীবাজারের সিলেট ডিজিটাল ডেন্টাল এক্স-রে, মেরি স্টোপস ক্লিনিক এবং মধুশহীদ এলাকার গ্রিন লাইফ ব্ল্যাড ব্যাংক।

সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদফতর সূত্র জানায়, স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী সব প্রতিষ্ঠান গত ২৩ আগস্টের মধ্যে লাইসেন্স গ্রহণ ও নবায়নের কথা ছিল। কিন্তু অনেক হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ব্লাড ব্যাংকসহ স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান লাইসেন্স গ্রহণ ও নবায়ন করেনি। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

সূত্র আরও জানায়, সিলেট শহরে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী অন্তত অর্ধশত প্রতিষ্ঠান অবৈধভাবে পরিচালিত হচ্ছে। এর মধ্যে কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স নেই।

সিলেট সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তালিকা অনুযায়ী, সিলেট সিটি করপোরেশন এলাকায় বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক রয়েছে ৫৮টি, ব্লাড ব্যাংক রয়েছে ৩টি ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে ৬৫টি।

স্বাস্থ্য বিভাগ সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ডা. আনিসুর রহমান শনিবার (১৪ নভেম্বর) সন্ধ্যায় জানান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে সম্প্রতি আসা চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে সিলেটের লাইসেন্সবিহীন হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সিলেট সিভিল সার্জন কার্যালয়, সিটি করপোরেশন এবং প্রাইভেট মেডিকেল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, খুব দ্রুত এ তালিকা তৈরির নির্দেশনা ছিলো। কিন্তু একটু সময় লেগে যাচ্ছে। তবে আশা করছি ৩-৪ দিনের মধ্যে তালিকা তৈরি সম্পন্ন হবে।

ডা. আনিসুর রহমান আরও জানান, তালিকা ঢাকায় প্রেরণের পরপরই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একটি প্রতিনিধি দল সিলেটে পরিদর্শনে আসবে। এরপর সিলেটে লাইসেন্সবিহীন স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী সব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।