
ডায়াল সিলেট ডেস্ক:-
স্টাফ রিপোর্টার : ভাদ্রের শেষ সপ্তাহে এসেও সিলেটে অসহনীয় গরম । গত সপ্তাহে ৩৮ ডিগি পর্যন্ত তাপমাত্রা উঠেছে। শুধু সিলেট নয়, দেশের অন্যান্য জায়গায়ও মোটামুটি একই রকম তাপমাত্রা।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিভাষায়, তাপপ্রবাহ তখনই বলা যায়, যখন তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস পেরোয়। এমন তাপমাত্রা সাধারণত এপ্রিল বা মে মাসে থাকে। কিন্তু সেপ্টেম্বর মাসে এসে অপেক্ষাকৃত কম তাপমাত্রার মধ্যে এত গরম অনুভূত হচ্ছে কেন? আর শুক্রবার যে প্রচ- গরম পড়েছে, সেটাই-বা থাকবে কয় দিন? শুক্রবার আবহাওয়া অধিদপ্তরের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে এসব প্রশ্নের উত্তর।
গত আগস্টের শেষ ও চলতি মাসের শুরু থেকেই তাপমাত্রা বাড়তে থাকে। সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম দিন দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় সিলেটে, ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর রাজধানীতে ওই দিন তাপমাত্রা ছিল ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর পর থেকে তাপমাত্রা কমেছে, সাগরের লঘুচাপটি সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হয়েছে, কিন্তু গরমের অনুভূতি কমেনি। এমন কেন হচ্ছে?
এ প্রশ্নের উত্তরে আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. হাফিজুর রহমান শুক্রবার বলেন, গত এপ্রিল ও মে মাসে তাপমাত্রা অনেক বেশি থাকলেও তখন বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ থাকে কম। প্রচ- গরমে মানুষ তখনো অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে, কিন্তু এতটা ঘাম ও হাঁসফাঁস অবস্থা হয় না, এখন যতটা হচ্ছে। মূল কারণটাই আর্দ্রতার আধিক্য।
তবে সিলেটে শুক্রবার কিছুটা কমেছে তাপমাত্রা। আবহাওয়া অফিস জানায়, গতকাল তাপমাত্রা ছিলো ৩২ দশমিক ৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস। তবে তাপমাত্রা কমলেও ভ্যাপসা গরম ঠিকই ছিলো। আর্দ্রতার পরিমাণের পাশাপাশি বৃষ্টি কম হওয়া গরমের আরেকটি কারণ। গত প্রায় তিন দিন বৃষ্টি অনেকটাই কমে এসেছে। এই ভাদ্র মাসে হঠাৎ বৃষ্টি হয়।
গত আগস্ট মাসে দেশে মোটামুটি স্বাভাবিক বৃষ্টিই হয়েছে। কিন্তু এ মাসের শুরু থেকেই বৃষ্টি কম। যদিও আবহাওয়া অফিস বলেছে, এ মাসে স্বাভাবিক বৃষ্টি হয়েছে তবে আবহাওয়াবিদেরা বলছেন, বৃষ্টি এ মাসে স্বাভাবিক না-ও হতে পারে।
এবার যে লঘুচাপ হলো এর কোনো প্রভাব তো পড়েইনি, বাংলাদেশে বরং গরম বেড়েছে। আবার মৌসুমি বায়ুও কম সক্রিয়-এ দুইয়ের প্রভাবেও বৃষ্টি কমেছে অনেকটাই। আবহাওয়া অফিস প্রতিদিন দেশের ৫১টি স্টেশনের আবহাওয়া পরিস্থিতি তুলে ধরে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় এর মধ্যে ২৫টি স্টেশনে কোনো বৃষ্টিই হয়নি।