১৯শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

সিলেট
খাসিয়া সম্প্রদায়ের সাহসী জনতার কারণে ঘাতক আকবর আটক হয়েছে

আমাদের দাবি রায়হান হত্যাকান্ডে কোন অবস্থাতের যেন অপরাধীরা পার পেয়ে না যায়

আমাদের দাবি রায়হান হত্যাকান্ডে কোন অবস্থাতের যেন অপরাধীরা পার পেয়ে না যায়

নিজস্ব প্রতিবেদক :: রায়হান হত্যায় আসামীদের গ্রেফতারে সাংবাদিক সমাজ যে ঐতিহাসিক ভূমিকা রেখেছেন, তা সিলেটের ইতিহাসে এক মাইফলক হয়ে থাকবে। রায়হানের পরিবার ও বৃহত্তর আখালিয়া (বারো হামছায়) সংগ্রাম পরিষদ সিলেটসহ সর্বস্তরের মিডিয়াকর্মী ও সিলেটবাসীদের প্রতি কৃতজ্ঞ। আজকের বৃহত্তরসিলেটসহ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যারাও রায়হান হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছেন তাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।

শনিবার দুপুর ১২টায় নগরীর আখালিয়ায় নিহত রায়হানের বাড়িতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসময় লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বৃহত্তর আখালিয়া সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ৯নং ওয়ার্ড  কাউন্সিলর মখলিছুর রহমান কামরান

রায়হান হত্যাকান্ডের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, স্বরাস্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সিলেট ১-আসনের সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন, পুলিশের আইজি ড. বেনজীর আহমদ, জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের রাজনৈতিক, প্রশাসনিক শীর্ষনেতৃবৃন্দরা রায়হানের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।তাদের পাশে থাকার আশ্বাস জানিয়েছেন।

আমাদের প্রত্যাশা, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী দ্রুততম সময়ে রায়হান হত্যার বিচারের মধ্যদিয়ে সিলেটবাসী ও সিলেটের প্রশাসনের ইতিহাসের বর্বরতম এই হত্যাকান্ডের গ্লানিমুক্ত হবে।

রায়হান হত্যায় আসামীদের পক্ষ থেকে এখনও কোন আইনজীবী দাড়াননি। নিহত রায়হান ও তার পরিবারের প্রতি যে সহমর্মিতা দেখিয়েছেন সেজন্য সিলেটের সকল আইনজীবীদের প্রতি কৃতজ্ঞ। ইতোমধ্যে সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে আশ্বাস দেয়া হয়েছে চাঞ্চল্যকররোয়হান হত্যা মামলা পরিচালনার জন্য সিলেটের ফৌজদারী আইনে আইনজীবীদের সমন্বয়ে একটি ল’ইয়ার্স প্যানেল গঠন করে দেয়া হবে। আইনজীবী সমাজ এ সহযোগিতা করার জন্য রায়হানের পরিবার এবং এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি।

সংবাদ সম্মেলনে আরো বলেন, রায়হান হত্যাকারী এসআই আকবর দীর্ঘদিন ধরে আত্নগোপনে ছিলো। গত ৯ই নভেম্বর কানাইঘাট উপজেলার ডোনা সীমান্তে সাহসী জনতা তাকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। সীমান্তবাসী আমাদের আধিবাসী খাসিয়া সম্প্রদায়ের সাহসী কিছু মানুষ ঘৃণ্য এই ঘাতক আকবরকে গ্রেফতার করতে অনন্য সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন।

নেপথ্যে থেকে সিলেটের পুলিশ সুপার ফরিদ উদ্দিন, কানাইঘাট ও জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং গোয়েন্দা বিভাগের লোকজন গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করেছেন। আকবরকে আটক করতে ডোনা সীমান্তবাসীদের কৃতজ্ঞতার শেষ নেই।ন্যায় বিচার প্রত্যাশী রায়হান পরিবার সিলেটের মানুষের কাছে চির কৃতজ্ঞ থাকবে। সম্মেলনের মাধ্যমে সীমান্তবাসী মানুষের প্রতি আমরা শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছি।

সংবাদ সম্মলেনে আরো বলা হয়, এই মূহুর্তে আমাদের প্রত্যাশা রায়হান হত্যাকান্ডের সুষ্টু বিচার আমরা ন্যায় বিচার প্রত্যাশী। আমাদের দাবি কোন অবস্থাতের যেন অপরাধীরা পার পেয়ে না যায়। আর তাই, আমরা হুশিয়ারী উচ্চারণ করে বলতে চাই,সিলেটের ইতিহাসে জগন্যতম এই হত্যাকান্ডের তদন্তে যদি কোন শৈথিল্য বা অবহেলা থাকে তাহলে সিলেটবাসী কাউকে ক্ষমা করবে না। রায়হান হত্যা মামলার তদন্তে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আমাদের অনুরোধ,পুরো সিলেটবাসী ন্যায় বিচারের আসায়আপনাদের দিকে চেয়ে আছে।

মামলার তদন্তে গাফলাতি হলে ইতিহাস আপনাকে ক্ষমা করবে না। পুণ্যভূমি সিলেট হযরত শাহজালাল (রঃ), হযরত শাহপরান (রঃ) ও ৩৬০ আউলিয়ার পদস্পর্শে ধন্য। পবিত্র এই মাটিতে অপরাধ করে অতীতে কেউই পার পায়নি। ইনশাআল্লাহ রায়হান হত্যাকারীদেরও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি পবিত্র মাটিতে হবেই হবে। রায়হান হত্যাকারীদের সব্বোর্চ শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত বৃহত্তর আখালিয়া বারো হামছায়াবাসীসহ সিলেটের সচেতন জনতা ইনশাআল্লাহ রাজপথ ছাড়বেনা। ভবিষ্যতেও সকল কর্মসূচীতে সকলের সহযোগিতা ও সমর্থন কামনা করছি।