গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি নবায়নের বদলে নতুন করে স্বাক্ষরের চিন্তা আত্মঘাতী হবে বলে মন্তব্য করেছেন নদী গবেষক ও রিভারাইন পিপলের মহাসচিব শেখ রোকন।
আজকের পত্রিকাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ৩০ বছর মেয়াদি গঙ্গা চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ১১ ডিসেম্বর। এই মুহূর্তে নবায়নের বদলে নতুন চুক্তির আলোচনা শুরু হলে তা দীর্ঘ সময় নেবে। অতীতে গঙ্গা ও তিস্তার ক্ষেত্রে এই ফাঁদে পড়ে বাংলাদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
শেখ রোকন বলেন, বর্তমান চুক্তির কিছু সীমাবদ্ধতা আছে। এটি দ্বিপক্ষীয়, মেয়াদি চুক্তি এবং এতে কোনো সালিশি ব্যবস্থা নেই। পানি মাপা হয় শুধু ফারাক্কা পয়েন্টে, অথচ উজানে ২৯টি প্রকল্পে প্রায় ২ লাখ ৯২ হাজার কিউসেক পানি প্রত্যাহারের সক্ষমতা রয়েছে।
তিনি বলেন, চুক্তির ফলে বাংলাদেশে গঙ্গার প্রবাহ ৩৫ থেকে ৪০ হাজার কিউসেক কমে গেছে। এতে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মাথাভাঙ্গা, গড়াই, মধুমতীসহ অনেক নদী শুকিয়ে গেছে, সুন্দরবনে লবণাক্ততা বেড়েছে এবং পলি জমে নদী ভরাট হচ্ছে।
গ্যারান্টি ক্লজ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ১৯৭৭ সালের মতো ১৯৯৬ সালের চুক্তিতেও গ্যারান্টি ক্লজ রয়েছে। ১৯৯৬ সালের চুক্তির ১১ নম্বর ধারায় বলা আছে, প্রবাহ নিয়ে সমঝোতা না হলে বাংলাদেশ ৯০ শতাংশ পানি পাবে।
ভবিষ্যৎ করণীয় প্রসঙ্গে শেখ রোকন বলেন, চুক্তিটি যেমন আছে তেমনই নবায়ন করে পরে পর্যালোচনা করা উচিত। প্রয়োজনে স্বল্পমেয়াদি সমঝোতা স্মারক করা যেতে পারে।
তিনি আরও বলেন, ৫৪টি নয়, বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে অন্তত ১২৬টি অভিন্ন নদী রয়েছে। আলাদা আলাদা চুক্তি না করে গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা অববাহিকা ভিত্তিক মাত্র তিনটি চুক্তি করলেই সব নদীর সমাধান সম্ভব। ভবিষ্যৎ চুক্তিতে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় বিরোধ নিষ্পত্তির কাঠামো রাখা প্রয়োজন।