আগ্নেয়াস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নিয়ে বিতর্কের মুখে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। সোমবার দুপুর আড়াইটার দিকে জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে তিনি পদত্যাগের ঘোষণা দেন।
এর আগে সকালে নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া পোস্টে ইশরাক জানিয়েছিলেন, দুপুর ২টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের চূড়ান্ত ঘোষণা দেবেন।
রোববার রাতে খবর ছড়িয়ে পড়ে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইশরাককে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন। তখন ওই খবরকে গুজব ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছিলেন ইশরাক।
সোমবার পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়ার সময় গেন্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেন তিনি।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে গেন্ডারিয়া রেললাইন সংলগ্ন ঘুণ্টিঘর এলাকায় মাদকের আস্তানা গড়ে উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত বৈঠকে একাধিকবার আলোচনা হলেও কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ওই এলাকায় পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের চেষ্টা করেও সফল হননি।
ইশরাক বলেন, স্থানীয়দের অনুরোধে শুভাকাঙ্ক্ষীদের নিয়ে ঢাকা-৬ আসনে মাদক নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন তিনি। বিভিন্ন এলাকায় অভিযানে যাওয়ার পর পুলিশকে জানানো হতো।
ঘটনাস্থলে কী ঘটেছিল তা তুলে ধরে তিনি বলেন, ওই দিন সেখানে পৌঁছালে ২০ থেকে ৩০ জন মাদক কারবারি ছোটাছুটি করতে থাকেন। কয়েকজন তার গাড়ির দিকে ছুটে এলে আত্মরক্ষার জন্য নিজের লাইসেন্স করা আগ্নেয়াস্ত্র হাতে নেন।
তিনি অভিযোগ করেন, ওই দিনের ঘটনার ভিডিও বিভিন্ন শিরোনামে প্রকাশ করে তাকে ও তার দলকে বিব্রত করা হয়েছে।
ইশরাক বলেন, একপর্যায়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন। দল বিব্রত হওয়ায় তিনি পদত্যাগ করতে চান।
তিনি বলেন, আমি সেদিন কোনো ভুল করিনি। শুধু আমার নিরাপত্তার জন্য কিছু সময় আমার অস্ত্রটি হাতে রেখেছিলাম।