চাঁদাবাজির অভিযোগে  বৈষম্যবিরোধী ছাত্র নেতা রিয়াদসহ পাঁচজন আটক

ডায়াল সিলেট ডেকস

সাবেক এমপির বাসায় চাঁদাবাজির অভিযোগে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’-এর ঢাকা মহানগরের সিনিয়র সংগঠক আব্দুর রাজ্জাক বিন সোলায়মান রিয়াদসহ পাঁচজনকে হাতেনাতে গ্রেফতার করেছে পুলিশ । ঢাকার গুলশানে ঘটনার পরপরই সংগঠনের পক্ষ থেকে রিয়াদকে বহিষ্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

শনিবার (২৬ জুলাই) দুপুরে গুলশান ২ নম্বরের ৮৩ নম্বর রোডে অবস্থিত সাবেক সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য শাম্মী আহমেদের বাসায় চাঁদা নিতে গেলে রিয়াদসহ পাঁচজনকে আটক করে পুলিশ।

গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুর রহমান জানান, রিয়াদের নেতৃত্বে একটি দল কয়েকদিন আগে শাম্মী আহমেদের বাসায় গিয়ে এক কোটি টাকা চাঁদা দাবি করে এবং তখন ১০ লাখ টাকাও নেয়। শনিবার তারা বাকি টাকা চাইতে গেলে শাম্মীর পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশে খবর দেওয়া হয় । পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্তদের আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

পুলিশ জানায়, রিয়াদ নিজেকে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ এর যুগ্ম আহ্বায়ক ও ‘বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ (বাগছাস)’ এর সদস্য হিসেবে পরিচয় দিয়ে আসছিলেন । চাঁদাবাজির ঘটনার একাধিক সিসিটিভি ফুটেজ ইতিমধ্যে প্রকাশ পেয়েছে।

এদিকে, ঘটনার পরপরই ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, সংগঠনের নীতিমালা ও শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডের কারণে রিয়াদকে ঢাকা মহানগর শাখার আহ্বায়ক পদসহ সকল সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় সভাপতি শাহাদাত হোসেন স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, অভিযুক্ত রিয়াদের সঙ্গে সংগঠনের আর কোনো সম্পর্ক নেই এবং ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের অপরাধে জড়িত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

১

জগন্নাথপুরে হত্যা মামলার আসামিদের বাড়িঘরে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ ​জগন্নাথপুর প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার মীরপুর ইউনিয়নের উত্তর গড়গড়ি গ্রামে একটি হত্যা ঘটনার পর প্রতিপক্ষের অন্তত বেশ কয়েকটি বাড়িঘরে দফায় দফায় হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে।গত ১৮ অক্টোবর রাতে শূন্য বাড়িগুলোতে অগ্নি সংযোগ করা হয়। ভুক্তভোগীদের দাবি, জগন্নাথপুর থানা পুলিশ এ বিষয়ে কোনো মামলা নিচ্ছে না। হামলায় বসতঘর ও খামার থেকে গবাদিপশু, স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুট করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো অভিযোগ করেছে। ​ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই আসামিপক্ষের পরিবারগুলো চরম আতঙ্কে রয়েছে। কয়েকটি বাড়ি পুরো পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে। আর এই শূন্য বাড়িগুলোকে লক্ষ্য করে দফায় দফায় হামলা চালানো হচ্ছে। এমনকি গত রাতেও আসামিদের বসতঘরে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। ​গতকাল ১৯ অক্টোবর সরেজমিনে উত্তর গড়গড়ি গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, পুরুষশূন্য বাড়িগু রয়েছে, পরিত্যক্ত বাড়িগুলোতে, দফায় দফায় অগ্নিসংযোগ করে যাচ্ছে, প্রতিপক্ষরা, থানায় অভিযোগ করলেও, কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না। ঘরের ভেতরের আসবাবপত্র ভেঙে চুরমার করে যত্রতত্র ছিটিয়ে রাখা হয়েছে এবং আগুনে পুড়িয়ে ছাই করে দেওয়া হয়েছে। ঘটনার পর থেকে পরিবারের পুরুষ সদস্যরা আত্মগোপনে থাকায় নারী ও শিশুরা চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন এবং বাধ্য হয়ে আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। ​হামলা, লুটপাট ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে সুনামগঞ্জ আদালত ও জগন্নাথপুর থানায় মোট চারটি পৃথক লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে সুনামগঞ্জের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি সিআর মামলা (মামলা নং— ১৮৮/২০২৬) দায়ের করেছেন মোছা. ফাতেমা বেগম (৩৮)। এই মামলায় স্থানীয় ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।