ডায়ালসিটে ডেস্ক:সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে নতুন ঋণ গ্রহীতা ও কিস্তি জমাদানকারীদের ৩ লক্ষাধিক টাকা নিয়ে উধাও হয়েছেন এক এনজিও মাঠকর্মী।
মাঠকর্মীর নাম রুবেল আহমেদ। তিনি টিএমএসএস তাহিরপুর শাখায় কর্মরত অবস্থায় তাহিরপুর সদর, বালিজুরী ও বড়দল (দ.) ইউনিয়নে ঋণ প্রদান ও ঋণ আদায় এর দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। সম্প্রতি মাসাধিককাল পূর্বে সে হঠাৎ করে ছুটি নিয়ে তার গ্রামের বাড়ি নাটোর চলে যায়। যাওয়ার পর থেকেই তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি পাওয়া যায়।
এদিকে মাঠকর্মী রুবেল আহমেদের ফোন বন্ধ থাকায় নতুন ঋণ গ্রহীতারা টিএমএসএস অফিসের এসে তার ঋণের খোঁজ খবর নিলে জানতে পারেন রুবেল আহেমেদ পালিয়ে গেছেন। বর্তমানে নতুন ঋণ গ্রহীতারা প্রতিদিনই টিএমএসএস তাহিরপুর অফিসে এসে তাদের কাছ থেকে ঋণের কথা বলে নিয়ে যাওয়া টাকা ফেরত চাচ্ছেন।
কিন্তু এখানকার অফিসের লোকজন এ বিষয়ে তাদের কোন সদুত্তর দিতে পারছেন না। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে পড়ছেন ঋণের জন্য টাকা প্রদানকারী ব্যক্তিরা।
ভুক্তভোগী চিকসা গ্রামের অবসর প্রাপ্ত সেনা সদস্য শফিক আহমেদ জানান, রুবেল আহমেদ দেড়মাস পূর্বে নতুন ঋণ ১ লক্ষ টাকা দেয়ার কথা বলে তার কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা জামানত হিসেবে নেয়। বর্তমানে নতুন ঋণ তো দূরের কথা, তার আসল টাকাই ফেরত পাচ্ছেন না।
একই অবস্থার কথা জানালে আনোয়ারপুর গ্রামের ইয়াহিয়া তালুকদার তিনিও জানান, তার কাছ থেকে রুবেল আহমেদ ১০ হাজার নিয়েছেন নতুন ঋণের জামানতের কথা বলে।
কাউকান্দি গ্রামের আনোয়ার হোসন জানান, নতুন ঋণ পাবার আশায় তিনি ঋণ করে ১০ হাজার টাকা এনে দিয়েছেন টিএমএসএস কর্মী রুবেলের কাছে।
অপরদিকে মধ্য তাহিরপুর গ্রামের কিংকর রায়, আজহার এর নিকট থেকেও রুবেল আহমেদে টাকা নিয়েছে বলে তারা জানান। অপরদিকে অনেক পুরনো ঋণ গ্রহীতাদের কাছ থেকেও কিস্তির টাকা উত্তোলন করে এনে তাদের নামে জমা দেননি বলে একাধিক কিস্তি প্রদানকারীরা জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে টিএমএসএস তাহিরপুর শাখা ম্যানেজার আরিফুর রহমান, রুবেল আহমেদ বিভিন্ন গ্রাহকদের কাছে থেকে ৩ লাখ টাকা নিয়ে পালিয়ে গেছে এটা সত্য। তবে আমি এখানে নতুন এসেছি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ছাড়া এ বিষয়ে তিনি কিছুই করতে পারবেন না বলে জানান।
এ ঘটনায় মাঠকর্মী রুবেল আহেমেদ এর সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তার মোবাইল (০১৭৬৩৩৮৩৯২৮) বন্ধ পাওয়া যায়।