ফ্রান্স প্রতিনিধি:
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের প্রতিবাদে ফ্রান্সের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর নিসে বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়েছে। শনিবার ( ২৪ অক্টোবর ) স্থানীয় সময় দুপুর ২টায় শহরের বিখ্যাত প্লাস মাসেনা চত্বরে সমবেত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়। একই সময়ে বুলেভার দ্য লা মাদলেন এলাকাতেও আরেকটি প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে সম্ভাব্য সহিংসতা ও জনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় শহরের কেন্দ্রীয় এলাকায় সমাবেশ ও মিছিল নিষিদ্ধ করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
আল্প-মারিতিম প্রদেশের প্রশাসনিক প্রধানের জারি করা নিষেধাজ্ঞা অনুযায়ী, শনিবার সকাল ৮টা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত নিসের নির্ধারিত কেন্দ্রীয় এলাকাগুলোতে দাবিভিত্তিক সমাবেশ, মিছিল ও প্রতিবাদ কর্মসূচি আয়োজন করা যাবে না। নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে প্লাস মাসেনা চত্বর, রেলস্টেশনসংলগ্ন এলাকা, ক্যারে দ’অর, বুলেভার গামবেতা, পুরোনো নিস এবং বন্দরসংলগ্ন অঞ্চল। গত সপ্তাহে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে সংঘটিত সহিংসতা, দোকানপাটে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনার পর নতুন করে বিশৃঙ্খলা এড়াতে প্রশাসন এ কঠোর অবস্থান নিয়েছে। সম্ভাব্য সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণ এবং জনসাধারণ ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিসে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
প্রাপ্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, আল্প-মারিতিম প্রদেশে মোট ৬৫০ জন জাতীয় পুলিশ ও জেন্ডারমেরি সদস্য মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে ৪৫০ জনকে নিস শহরে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিশেষ অভিযান বাহিনী রেইড, দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণকারী পুলিশ দল এবং প্রশিক্ষিত কুকুরসহ নিরাপত্তা ইউনিটকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। শহরের পৌর পুলিশও নিরাপত্তা কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছে। তবে পৌর পুলিশ সদস্যের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে পার্থক্য থাকায় বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগের পর প্রশাসন নতুন কর্মসূচি ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করে। কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বড় ধরনের জমায়েত হলে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।
এ কারণে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, বাণিজ্যিক এলাকা ও জনসমাগমস্থলে নিরাপত্তা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বিক্ষোভে অংশ নিলে জরিমানার মুখে পড়তে হতে পারে। এ ছাড়া নিষিদ্ধ বা আইনগতভাবে অননুমোদিত বিক্ষোভ আয়োজনের ক্ষেত্রে ফরাসি আইনে আরও কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। জননিরাপত্তার স্বার্থে অস্ত্র, আতশবাজি, দাহ্য পদার্থ এবং সহিংসতায় ব্যবহার করা যেতে পারে—এমন কিছু সরঞ্জাম বহনের ওপরও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধি নিয়ে সাধারণ মানুষের অসন্তোষের মধ্যে নিসে নতুন করে বিক্ষোভের ডাক ফ্রান্সের সামাজিক পরিস্থিতিকে আলোচনায় এনেছে। অন্যদিকে বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত প্রতিবাদের অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে। তবে শনিবার দুপুর ২টায় প্লাস মাসেনা ও বুলেভার দ্য লা মাদলেন এলাকায় ঘোষিত কর্মসূচিতে বাস্তবে কতজন অংশ নিয়েছেন, কোনো সংঘর্ষ ঘটেছে কি না কিংবা কাউকে গ্রেফতার করা হয়েছে কি না—এসব বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তাই কর্মসূচির চূড়ান্ত পরিস্থিতি সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক বিবৃতি ও ঘটনাস্থলের হালনাগাদ তথ্য প্রয়োজন।