মার্কিন অবরোধের মধ্যেও এলপিজি ও জেট জ্বালানি রপ্তানি করছে ইরান

মার্কিন নৌ অবরোধের মধ্যেও তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) ও জেট জ্বালানির কিছু চালান রপ্তানি করতে সক্ষম হয়েছে ইরান। জাহাজ চলাচল-সংক্রান্ত গোয়েন্দা তথ্য, স্যাটেলাইট চিত্র এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত জুলাইয়ের মাঝামাঝি থেকে অন্তত আটটি গ্যাসবাহী জাহাজ ইরানের এলপিজি নিয়ে ওমান উপসাগর ছেড়েছে। এ ছাড়া, সেপ্টেম্বরে ইরানের জেট জ্বালানিবাহী আরেকটি জাহাজ মিয়ানমারে পৌঁছেছে বলে সামুদ্রিক গোয়েন্দা সংস্থা সিনম্যাক্সের স্যাটেলাইট বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।

ইরান-সংশ্লিষ্ট ট্যাংকার চলাচল পর্যবেক্ষণকারী মার্কিন সংস্থা ইউনাইটেড অ্যাগেইনস্ট নিউক্লিয়ার ইরানের (ইউএএনআই) বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এলপিজিবাহী জাহাজগুলোর মোট চালানের পরিমাণ আনুমানিক ৪১ লাখ ব্যারেল। তবে এসব রপ্তানি ইরানের আগের জ্বালানি রপ্তানির তুলনায় সামান্য। জাহাজগুলোর মধ্যে ছয়টি এবং জেট জ্বালানিবাহী জাহাজটি যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত।

সামুদ্রিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, ওমান উপকূলের শিনাস ও সোহর শহরের কাছাকাছি অন্য জাহাজে জ্বালানি স্থানান্তর করেছে ইরান। কিছু জাহাজ ওমান উপসাগরে অপেক্ষা করার পর মার্কিন অবরোধ অতিক্রম করে। পরে বেশির ভাগ চালান মালয়েশিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় বহির্বন্দর এলাকায় পৌঁছে অন্য জাহাজে স্থানান্তরিত হয়েছে। এসব পণ্যের সম্ভাব্য গন্তব্য চীন।

ইউএএনআইয়ের জ্যেষ্ঠ গবেষণা বিশ্লেষক জেমিমা শেলির মতে, এসব চালান ইরানের জ্বালানি রপ্তানির নতুন কৌশলের চেয়ে সুযোগ কাজে লাগানোর প্রচেষ্টা বেশি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ইরানি জ্বালানিবাহী অধিকাংশ জাহাজকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, গত ১৪ জুলাই পুনর্বহাল করা নৌ অবরোধ কঠোরভাবে কার্যকর রয়েছে। ১৩ অক্টোবরের হালনাগাদ তথ্যে সংস্থাটি জানায়, অবরোধের তিন মাসে চারটি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের অযোগ্য করা হয়েছে এবং ১৩৫টি জাহাজকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জাহাজ চলাচলের তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর দাবি, জাহাজগুলো অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য জাল করতে পারে কিংবা পণ্য বোঝাইয়ের সময় ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করতে পারে।

বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, ইরানের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির অবনতি দেশটিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশ্লেষক টরবিয়র্ন সল্টভেডের মতে, মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় ইরানের বিমান চলাচল খাত চাপের মুখে থাকায় উদ্বৃত্ত জেট জ্বালানি রপ্তানি দেশটির জন্য লাভজনক বিকল্প হতে পারে।

জ্বালানি তথ্য বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে ইরানের অপরিশোধিত তেল রপ্তানি শূন্যে নেমে আসে। ২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠানটি তথ্য সংগ্রহ শুরু করার পর এই প্রথম কোনো মাসে ইরানের অপরিশোধিত তেলের চালান শনাক্ত হয়নি।