রাশিয়ার সঙ্গে চলমান যুদ্ধ থামাতে সম্মুখসারিতে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করে কূটনৈতিক আলোচনায় যেতে ইউক্রেন প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। বুধবার (২১ অক্টোবর) মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই তথ্য জানান।
জেলেনস্কি বলেন, যুদ্ধ বন্ধের বাস্তবসম্মত উপায় হতে পারে বর্তমান অবস্থানে সংঘাত থামিয়ে দেওয়া। এরপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলোর কাছ থেকে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা আদায়ে উদ্যোগ নেবে কিয়েভ।তার ভাষ্য, হ্যাঁ। এই মুহূর্তে আমাদের যুদ্ধ থামিয়ে দিতে হবে। আমার মনে হয়, এই যুদ্ধ শেষ করার এটি একটি বাস্তবসম্মত উপায়। তিনি আরও বলেন, রাশিয়ার কাছ থেকে অন্তত যুদ্ধবিরতি প্রত্যাশা করে ইউক্রেন।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জানান, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলে পরবর্তী পদক্ষেপ হবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ও ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা আদায় করা। তার ভাষায়, শান্তি ও নিরাপত্তাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার।যুদ্ধের অবসানের বিনিময়ে ইউক্রেন দনবাস অঞ্চল ছেড়ে দিতে রাজি হবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে জেলেনস্কি রাশিয়ার সামরিক সাফল্যের দাবি নাকচ করেন। তিনি বলেন, ইউক্রেনকে নিজেদের ভূখণ্ড থেকে সরে যেতে বাধ্য করার জন্য চাপ সৃষ্টি করছে মস্কো।
জেলেনস্কির দাবি, ২০২৬ সালে রাশিয়া যুদ্ধক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পায়নি। তিনি বলেন, তারা যুদ্ধক্ষেত্রে জিতছে না।
দীর্ঘদিনের যুদ্ধে ইউক্রেনের মানুষ ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন- এ কথা স্বীকার করেন জেলেনস্কি। তবে যুদ্ধের ক্লান্তি থেকে দেশের ভূখণ্ড ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না বলেও জানান তিনি।ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট আবারও বলেন, যুদ্ধ বন্ধের আলোচনা শুরু করতে হবে যুদ্ধক্ষেত্রে দুই পক্ষের বর্তমান অবস্থানকে ভিত্তি করে। এরপর কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে একটি শান্তি পরিকল্পনা তৈরি করা যেতে পারে।
এর আগে মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) নরওয়ের অসলোতে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে বৈঠক করেন জেলেনস্কি। ওই বৈঠককে ‘ফলপ্রসূ’ বলে বর্ণনা করেন তিনি। আলোচনার আয়োজন করায় নরওয়ের প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদও জানান ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট।