জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি:
মাত্র দুটি গাভি দিয়ে ২০১৫ সালে খামারটির যাত্রা শুরু হয়। দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টা ও পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ধীরে ধীরে খামারটির পরিধি বাড়ান শাহিন মিয়া। বর্তমানে এটি স্থানীয়ভাবে একটি উল্লেখযোগ্য দুগ্ধ খামার হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।
শাহিন মিয়ার উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য ছিল এলাকার মানুষ, বিশেষ করে শিশুদের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত ও খাঁটি দুধের ব্যবস্থা করা। প্রবাসে থেকেও নিজ এলাকার মানুষের কল্যাণে কাজ করার প্রত্যয় থেকে তিনি এ খামার প্রতিষ্ঠা করেন।
খামারটির মাধ্যমে স্থানীয় ৬ থেকে ৭ জন মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। এর পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন মো. মকবুল হোসেন। সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও তদারকির দায়িত্ব পালন করছেন ম্যানেজার মুন্না মিয়া। খামারে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত সিতার আলী দুধ সংগ্রহ ও বাজারজাতকরণের কাজে যুক্ত রয়েছেন।
খামারের পরিচালক মো. মকবুল হোসেন বলেন, “লন্ডনপ্রবাসী শাহিন মিয়া আমার বোনজামাই। এলাকার মানুষের, বিশেষ করে শিশুদের যেন স্বাস্থ্যসম্মত ও খাঁটি দুধের অভাব না হয়, সেই উদ্দেশ্যেই তিনি মাত্র দুটি গাভি দিয়ে খামারটি চালু করেছিলেন।”
ম্যানেজার মুন্না মিয়া বলেন, “দুটি গাভি দিয়ে শুরু হওয়া খামারটিতে বর্তমানে ২০টি গাভি রয়েছে। প্রতিদিন প্রায় ১৫০ থেকে ১৬০ লিটার দুধ পাওয়া যায়। এলাকার সাধারণ মানুষ ও শিশুদের দুধের চাহিদা পূরণে খামারটি ভূমিকা রাখছে।”
জগন্নাথপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এস এম ইমদাদুল হক বলেন, “এস এম ডেইরি ফার্মটি একটি বড় খামার। আমি কয়েকবার এটি পরিদর্শন করেছি। প্রবাসী শাহিন মিয়া ব্যক্তিগত উদ্যোগে খামারটি প্রতিষ্ঠা করেছেন। এর মাধ্যমে এলাকার মানুষ স্বাস্থ্যসম্মত দুধ পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। আমাদের হাসপাতাল থেকে সপ্তাহে এক দিন খামারটির গবাদিপশুর দেখাশোনা করা হয়।”
নিজের উদ্যোগ সম্পর্কে শাহিন মিয়া বলেন, “আমার ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়ার কিছু নেই। এলাকার শিশুরা যেন স্বাস্থ্যসম্মত দুধ পায়, সেই লক্ষ্যেই ১০ কেদার জমির ওপর দুটি গাভি দিয়ে এস এম ডেইরি ফার্ম প্রতিষ্ঠা করি। বর্তমানে আমার খামারে ২০টি গাভি রয়েছে। দুধ বিক্রি থেকে অর্জিত অর্থের একটি অংশ দিয়ে অসহায়, গরিব ও দুঃখী মানুষের মধ্যে সহায়তা বিতরণ করি।”
প্রবাসে থেকেও দেশে বিনিয়োগ, স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মাধ্যমে শাহিন মিয়া তাঁর উদ্যোগকে শুধু ব্যবসার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেননি। তাঁর এ উদ্যোগ স্থানীয় পর্যায়ে দুগ্ধ উৎপাদন ও পশুপালন খাতে অন্যদেরও উৎসাহিত করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।