আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা। তবে আত্মীয় বলতে কাদের বোঝানো হয়েছে, কোন কোন আত্মীয়ের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করা নিষিদ্ধ এবং কার অধিকার সবচেয়ে বেশি— এ নিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন রয়েছে। এ বিষয়ে ধর্মীয় ব্যাখ্যা দিয়েছেন ফেনী রৌশন আলী মুন্সীবাড়ী জামে মসজিদের খতিব মুফতি শাহাদাত হুসাইন ফরায়েজী।তিনি বলেন, আত্মীয়তার সম্পর্ক শুধু মা-বাবা, ভাই-বোন কিংবা চাচা-মামার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং বাবা ও মা— উভয় দিকের নিকট ও দূরবর্তী বংশীয় আত্মীয়রাও এর অন্তর্ভুক্ত। তাই সবার সঙ্গে সাধ্যানুযায়ী সম্পর্ক বজায় রাখা এবং তাদের প্রতি সদাচরণ করা উচিত। তবে আত্মীয়তার নৈকট্য অনুযায়ী প্রত্যেকের অধিকারের গুরুত্ব ও অগ্রাধিকারে পার্থক্য রয়েছে।সম্প্রতি আত্মীয়তার সম্পর্কের পরিধি সম্পর্কে জানতে চেয়ে এক ব্যক্তি প্রশ্ন করেন, আত্মীয়দের সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় ঠিক কাদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করা যাবে না, তা স্পষ্টভাবে জানা প্রয়োজন।জবাবে মুফতি শাহাদাত হুসাইন ফরায়েজী বলেন, কোরআন-হাদিসে আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা এবং আত্মীয়দের সঙ্গে সদাচরণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মূলনীতি হলো, সব আত্মীয়ের সঙ্গেই সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করতে হবে। তবে নিকটাত্মীয়দের অধিকার দূরবর্তী আত্মীয়দের তুলনায় বেশি।
মুফতি শাহাদাত হুসাইন ফরায়েজীর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, আত্মীয়তার পরিধিতে মানুষের বংশীয় সম্পর্কের ঊর্ধ্বতন ও অধস্তন— উভয় দিকের আত্মীয়রা অন্তর্ভুক্ত।
ঊর্ধ্বতন বংশীয় আত্মীয়দের মধ্যে রয়েছেন মা-বাবা, দাদা-দাদি, নানা-নানি এবং তাদের ওপরের প্রজন্মের পূর্বপুরুষেরা। অন্যদিকে অধস্তন বংশীয় আত্মীয়দের মধ্যে রয়েছেন ছেলে-মেয়ে, নাতি-নাতনি এবং তাদের পরবর্তী বংশধরেরা।কখন আত্মীয়ের সঙ্গে দূরত্ব রাখা যাবে?
মুফতি শাহাদাত হুসাইন ফরায়েজী বলেন, আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখার সাধারণ নির্দেশনা থাকলেও বিশেষ কিছু পরিস্থিতিতে সম্পর্ক সীমিত করার সুযোগ রয়েছে।
কোনো আত্মীয় প্রকাশ্যে গুনাহ, ফাসেকি বা বিদআতে লিপ্ত থাকলে এবং তাকে সংশোধনের উদ্দেশ্যে সাময়িকভাবে দূরত্ব বজায় রাখলে, পরিস্থিতি ও কল্যাণ বিবেচনায় তা বৈধ হতে পারে। তবে এমন সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য হতে হবে সংশোধন এবং ধর্মীয় কল্যাণ; ব্যক্তিগত প্রতিশোধ বা অহংকার নয়।
একইভাবে কোনো আত্মীয়ের সঙ্গে মেলামেশা অব্যাহত রাখলে নিজের দ্বীন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকলে কিংবা গুরুতর পার্থিব ক্ষতির সম্ভাবনা দেখা দিলে তার কাছ থেকে দূরে থাকার অবকাশ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে নিজের ধর্মীয় জীবন ও নিরাপত্তা রক্ষা করাকে গুরুত্ব দিতে হবে।
তবে এসব পরিস্থিতিতে দূরত্ব বজায় রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বাস্তব অবস্থা বিবেচনা করা প্রয়োজন। সাধারণ মতবিরোধ, সামান্য রাগ কিংবা পারিবারিক মনোমালিন্যকে অজুহাত করে আত্মীয়তার সম্পর্ক পুরোপুরি ছিন্ন করা উচিত নয়