আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা। তবে আত্মীয় বলতে কাদের বোঝানো হয়েছে, এ নিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন রয়েছে। এ বিষয়ে ধর্মীয় ব্যাখ্যা দিয়েছেন ফেনী রৌশন আলী মুন্সীবাড়ী জামে মসজিদের খতিব মুফতি শাহাদাত হুসাইন ফরায়েজী।
তিনি বলেন, আত্মীয়তার সম্পর্ক শুধু মা-বাবা, ভাই-বোন কিংবা চাচা-মামার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং বাবা ও মা— উভয় দিকের নিকট ও দূরবর্তী বংশীয় আত্মীয়রাও এর অন্তর্ভুক্ত।
মুফতির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ঊর্ধ্বতন আত্মীয়দের মধ্যে রয়েছেন মা-বাবা, দাদা-দাদি, নানা-নানি ও তাদের পূর্বপুরুষেরা। অধস্তনদের মধ্যে রয়েছেন ছেলে-মেয়ে, নাতি-নাতনি ও তাদের বংশধরেরা। এছাড়া ভাই-বোন, তাদের সন্তান, চাচা, ফুফু, মামা, খালা এবং তাদের সন্তানরাও আত্মীয়তার অন্তর্ভুক্ত।
তিনি বলেন, সব আত্মীয়ের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে হলেও মা-বাবার অধিকার সবচেয়ে বেশি। এরপর নিকটাত্মীয়দের অধিকার দূরবর্তীদের তুলনায় বেশি। আত্মীয়তা রক্ষা মানে শুধু অনুষ্ঠানে যাওয়া নয়, নিয়মিত খোঁজখবর রাখা, প্রয়োজনে পাশে দাঁড়ানো এবং বিরোধ মিটিয়ে নেওয়াও এর অংশ।
ব্যক্তিগত রাগ-অভিমানে কোনো মুসলিমের সঙ্গে তিন দিনের বেশি কথা বন্ধ রাখা নিষিদ্ধ উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন— দুজনের মধ্যে যে আগে সালাম দিয়ে সম্পর্ক স্বাভাবিক করে, সে-ই উত্তম।
তবে কোনো আত্মীয় প্রকাশ্যে গুনাহে লিপ্ত থাকলে সংশোধনের উদ্দেশ্যে সাময়িক দূরত্ব রাখা বা নিজের দ্বীন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকলে দূরে থাকার সুযোগ শরিয়তে রয়েছে।
—
২. স্ত্রীর পর্দায় বাধা দিলে স্বামীর করণীয় কী?
স্ত্রী পরিপূর্ণভাবে পর্দা পালন করতে চান, কিন্তু পরিবারের বাধা ও আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে পারছেন না— এমন পরিস্থিতিতে স্বামীর করণীয় কী, সে বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন ঢাকার জামিয়া বাবুস সালামের মুফতি ও মুহাদ্দিস জাওয়াদ তাহের।
সম্প্রতি এক ব্যক্তি জানান, তিনি ঢাকায় চাকরি করেন। স্ত্রী গ্রামে থাকেন এবং ঘরের বাইরে গিয়ে কাজ করতে হয়। স্ত্রী পর্দা করতে চাইলেও শ্বশুর-শাশুড়ির কারণে পারছেন না, আবার আর্থিক সামর্থ্য না থাকায় স্ত্রীকে ঢাকায় আনতেও পারছেন না।
জবাবে মুফতি বলেন, স্ত্রীর পর্দায় সহযোগিতা করা স্বামীর দায়িত্ব, আবার বাবা-মায়ের প্রতি সম্মান বজায় রাখাও জরুরি। তাই সংঘাতে না গিয়ে ধৈর্য ও বিনয়ের সঙ্গে পর্দার পরিবেশ তৈরি করতে হবে।
তিনি বলেন, দেবর-ভাসুরসহ সব গায়রে মাহরাম পুরুষের সামনে পর্দা করা আবশ্যক। এ বিষয়ে বুখারি শরিফে সতর্ক করা হয়েছে। বাবা-মাকে বিনয়ের সঙ্গে বুঝাতে হবে যেন স্ত্রী শরিয়তসম্মত পোশাকে ঘরের কাজ করতে পারেন।
শরিয়তবিরোধী কাজে বাবা-মায়ের আনুগত্য করা যাবে না— তবে তাদের সঙ্গে অসদাচরণও করা যাবে না। আল্লাহর অবাধ্যতা হয় এমন কাজে কোনো সৃষ্টির আনুগত্য নেই।
আপাতত গ্রামে বাইরে কাজ করতে হলে ঢিলেঢালা বোরকা, বড় ওড়না ও নিকাব ব্যবহারের পরামর্শ দেন তিনি। একই সঙ্গে কোরআনের সূরা তালাকের ৭ নম্বর আয়াতের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন— আল্লাহ কাউকে তার সামর্থ্যের বাইরে দায়িত্ব দেন না। তাই সামর্থ্য অনুযায়ী চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে স্ত্রীর জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করতে হবে।