কানাইঘাটে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষ, আহত অর্ধশতাধিক

কানাইঘাট প্রতিনিধি:

এজমালী সম্পত্তি, মসজিদের হিসাব এবং মসজিদের নামাজ পড়তে বাঁধা নিষেধ দেয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে কানাইঘাটের বড়চতুল ইউপির কুড়ারপার গ্রামে দু’পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অর্ধশতাধিক আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় অন্তত ২০ জনকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

এ সংঘর্ষের ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বাদ জুমআ কুড়ারপাড় গ্রামের লামা মহল্লা মসজিদের পাশে রাস্তায়। সংঘর্ষে উভয় পক্ষ দেশীয় লাঠি-সোটা, ধারালো অস্ত্র, ইট-পাটকেল নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। প্রায় ঘন্টাখানেক দফায় দফায় সংঘর্ষের পর খবর পেয়ে কানাইঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। আহতদের এলাকার লোকজন উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও জৈন্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। অনেকের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদেরকে সিলেট সিওমেক হাসপাতালে প্রেরন করা হয়।

জানা যায়, কুড়ারপাড় গ্রামের এজমালী সম্পত্তি এবং কুড়ারপাড় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের হিসাব নিকাশ নিয়ে এবং গ্রামের লামা মহল্লা মসজিদের কয়েকটি পরিবারকে নামাজ পড়তে অপর পক্ষের লোকজন বাঁধা প্রদান করায় এ নিয়ে গ্রামের বর্তমান ইউপি সদস্য আব্দুল মুতলিব ও জামাল উদ্দিন গংদের সাথে একই গ্রামের অপর পক্ষ আব্দুর রকিব বতাই, এনাম, এবাদ গংদের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। পূর্বে গ্রামের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের হিসাব-নিকাশ নিয়ে মারামারির ঘটনায় থানায় মামলাও হয়। শুক্রবার গ্রামের লামা মহল্লা মসজিদে জুমআর নামাজ পড়তে যান আব্দুর রকিব বতাই, এনাম, এবাদ গংরা। কিন্তু অপর পক্ষের আব্দুল মুতলিব, জামাল উদ্দিন গংরা তাদের নামাজ পড়তে বাঁধা দেন। এ নিয়ে মসজিদে নামাজের পর উভয় পক্ষের লোকজন কথা কাটাকাটির জের ধরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।

স্থানীয় অনেকের সাথে কথা বলে জানা গেছে, কয়েক মাস পূর্বে কুড়ারপার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের হিসাব-নিকাশ নিয়ে গ্রামের ফখরুল গংদের সাথে মাস্টার মুজিবুর রহমান, আলী আহমদ গংদের মধ্যে বিরোধ নিয়ে মারামারি হয়। এ নিয়ে গ্রামের লোকজন দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েন। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে মামলা-মোকদ্দমা চলছে। শুক্রবারের সংঘর্ষের ঘটনায় পূর্ব বিরোধ ও নামাজ পড়তে বাঁধা দেয়ায় দু’পক্ষের লোকজন রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।

থানার অফিসার ইনচার্জ আমিনুল ইসলাম জানান, গ্রামের দু’পক্ষের মধ্যে পূর্ব বিরোধের জের ধরে সংঘর্ষের ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। এলাকায় অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে কুড়ারপাড় সহ আশপাশ এলাকায় পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে। আহতরা চিকিৎসা নিচ্ছেন, অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।