ট্রাম্পের অনুরোধে ৪ বছর ধরে বন্দী মার্কিনকে মুক্তি দিলেন পুতিন

রাশিয়ায় চার বছরেরও বেশি সময় ধরে বন্দি থাকা মার্কিন নাগরিক স্টিফেন হাবার্ড অবশেষে মুক্তি পেয়েছেন। সেন্ট পিটার্সবার্গে মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সফরের পর তাঁর এই মুক্তির খবর নিশ্চিত করেছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম। ইউক্রেনে ভাড়াটে যোদ্ধা হিসেবে লড়াই করার অভিযোগে তাঁকে আটক রাখা হয়েছিল।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম রাশিয়ার রাষ্ট্র পরিচালিত বার্তা সংস্থার বরাত দিয়ে জানিয়েছে, মিশিগানের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক হাবার্ডকে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ‘অন্যায়ভাবে আটক’ হিসেবে চিহ্নিত করেছিল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গতকাল মঙ্গলবার জানান, তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে হাবার্ডের বিষয়টি উত্থাপন করেন।স্টিভ উইটকফ হাবার্ডের মুক্তির জন্য পুতিনকে ধন্যবাদ জানান। মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, হাবার্ডের এই মুক্তি মার্কিন নাগরিকদের দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নিরবচ্ছিন্ন অঙ্গীকারের প্রতিফলন।ইংরেজি শিক্ষক হিসেবে কয়েক দশক বিদেশে কাটানোর পর হাবার্ড ২০১৪ সালে পূর্ব ইউক্রেনের ইজিয়াম শহরে বসবাস শুরু করেন। ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধের সূচনালগ্নে শহরটি দখল করে রুশ বাহিনী। রাশিয়ান প্রসিকিউটরদের দাবি, হাবার্ড মাসে প্রায় ১ হাজার ডলারের চুক্তিতে ইজিয়ামে যুদ্ধ করেছিলেন। তবে তাঁর বোন প্যাট্রিসিয়া হাবার্ড ফক্স এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।

হাবার্ড মুক্ত হলেও এখনো বহু মার্কিন নাগরিক রাশিয়ার কারাগারে বন্দী রয়েছেন। এর আগে গত আগস্টে গুরুতর অসুস্থ মেরিন ভেটেরান রবার্ট গিলম্যানকে মানবিক কারণে মুক্তি দেয় রাশিয়া। তবে আর্মেনীয় বংশোদ্ভূত আন্দ্রে খাচাতুরিয়ান, টেক্সাসের ডেভিড বার্নস, আলেকজান্ডার আন্তোনভ, ওলগা জেজলার এবং মার্কিন নেভি ভেটেরান চাক জিমারম্যানের মতো অনেক আমেরিকান এখনো অন্যায় অভিযোগে রাশিয়ার কারাগারে সাজা ভোগ করছেন।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র আশা প্রকাশ করে বলেন, হাবার্ড ও গিলম্যানের এই মুক্তি রাশিয়ায় অন্যায়ভাবে আটকে থাকা অন্য আমেরিকানদের দ্রুত ফিরিয়ে আনার পথ সুগম করবে।