জাতীয়

দুর্নীতিবাজ-সাম্প্রদায়িকতা-জঙ্গি-রাজাকারদের সমাধান ছাড়া কোন শান্তি আসবে না : হাসানুল হক ইনু

দুর্নীতিবাজ-সাম্প্রদায়িকতা-জঙ্গি-রাজাকারদের সমাধান ছাড়া কোন শান্তি আসবে না : হাসানুল হক ইনু
মনজু চৌধুরী॥ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু এমপি বলেছেন, জাতির সামনে চারটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ কাজ ১.সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষায় যথাসময়ে নির্বাচন করা। ২.বাংলাদেশ রাষ্ট্রের চিরশত্রু সাম্প্রদায়িক-জঙ্গিবাদীদের দমন করা। ৩.জনজীবন বিপর্যস্তকারী দুর্নীতিবাজ, দলবাজ, গুন্ডা, বাজার সিন্ডিকেটের হোতাদের মোকাবেলা-দমন করা। ৪.বৈষম্য-বঞ্চনা দূর করতে সমাজতন্ত্রের চশমা পরে অর্থনীতির পরিকল্পনা পাল্টানো।
তিনি বলেন, স্বাধীনতার ৫০ বছরেও রাষ্ট্রের চিরশত্রু দুর্নীতিবাজ-সাম্প্রদায়িকতা-জঙ্গি-রাজাকাররা এখনো সক্রিয়। এরা এখনো বাংলাদেশ রাষ্ট্রের মিমাংসীত বিষয়ের ওপর আঘাত করছে। এদের মোকাবেলাও করতে হবে, নির্বাচনও করতে হবে।
তিনি বলেন, মীমাংসিত বিষয়ে ঐক্যমত এবং রাষ্ট্রের চিরশত্রু দুর্নীতিবাজ-সাম্প্রদায়িকতা-জঙ্গি-রাজাকারদের মোকাবেলায় একমত থাকতে হবে। রাষ্ট্রের চিরশত্রু দুর্নীতিবাজ-সাম্প্রদায়িকতা-জঙ্গি-রাজাকার এই বিপদ-আপদের সমাধান ছাড়া শান্তি আসবে না।
তিনি বলেন, শুধু নির্বাচন বা ক্ষমতার রদবদল কোন সমাধান দিবে না। শান্তির রাজনীতি ও উন্নয়নের জন্য রাষ্ট্রের চিরশত্রু দুর্নীতিবাজ-সাম্প্রদায়িকতা-জঙ্গি-রাজাকার তিন বিপদ-আপদের সমাধান করতে হবে।
ইনু বলেন, বিএনপি এখনো জঙ্গি-রাজাকার-সাম্প্রদায়িকতা ও দুর্নীতিবাজ খালেদা-তারেকের জন্য ওকালতি করে যাচ্ছে। নির্বাচন-গণতন্ত্রকে ঢাল হিসাবে ব্যবহার করছে শুধুমাত্র জঙ্গি-রাজাকার-সাম্প্রদায়িকতা ও দুর্নীতিবাজ খালেদা-তারেককে রক্ষা করার জন্য।
তিনি বলেন, জনজীবনের সমস্যা-দ্রব্যমূল্যের উর্ধগতি, বেকারত্ব দূর, তেল-গ্যাসের উচ্চ মূল্য রোধ ও বৈষম্য-বঞ্চনা নিরসণ করতে হবে।
হাসানুল হক ইনু এমপি আজ বৃহস্পতিবার (১০ মার্চ) বিকাল ৫ টায় মৌলভীবাজার জেলা পরিষদ মিলনায়তনে মৌলভীবাজার জেলা জাসদ আয়োজিত কর্মী সমাবেশে প্রধান অতিথির ভাষণে এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা জাসদ সভাপতি ও কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা আব্দুল হক। জেলা জাসদ সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় কার্যকরি কমিটি সদস্যা নাজিম উদ্দীন নজরুলের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মির্জা মো. আনোয়ারুল হক। কর্মী সমাবেশে বিভিন্ন উপজেলা কমিটির নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখে।
১

জগন্নাথপুরে হত্যা মামলার আসামিদের বাড়িঘরে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ ​জগন্নাথপুর প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার মীরপুর ইউনিয়নের উত্তর গড়গড়ি গ্রামে একটি হত্যা ঘটনার পর প্রতিপক্ষের অন্তত বেশ কয়েকটি বাড়িঘরে দফায় দফায় হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে।গত ১৮ অক্টোবর রাতে শূন্য বাড়িগুলোতে অগ্নি সংযোগ করা হয়। ভুক্তভোগীদের দাবি, জগন্নাথপুর থানা পুলিশ এ বিষয়ে কোনো মামলা নিচ্ছে না। হামলায় বসতঘর ও খামার থেকে গবাদিপশু, স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুট করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো অভিযোগ করেছে। ​ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই আসামিপক্ষের পরিবারগুলো চরম আতঙ্কে রয়েছে। কয়েকটি বাড়ি পুরো পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে। আর এই শূন্য বাড়িগুলোকে লক্ষ্য করে দফায় দফায় হামলা চালানো হচ্ছে। এমনকি গত রাতেও আসামিদের বসতঘরে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। ​গতকাল ১৯ অক্টোবর সরেজমিনে উত্তর গড়গড়ি গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, পুরুষশূন্য বাড়িগু রয়েছে, পরিত্যক্ত বাড়িগুলোতে, দফায় দফায় অগ্নিসংযোগ করে যাচ্ছে, প্রতিপক্ষরা, থানায় অভিযোগ করলেও, কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না। ঘরের ভেতরের আসবাবপত্র ভেঙে চুরমার করে যত্রতত্র ছিটিয়ে রাখা হয়েছে এবং আগুনে পুড়িয়ে ছাই করে দেওয়া হয়েছে। ঘটনার পর থেকে পরিবারের পুরুষ সদস্যরা আত্মগোপনে থাকায় নারী ও শিশুরা চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন এবং বাধ্য হয়ে আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। ​হামলা, লুটপাট ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে সুনামগঞ্জ আদালত ও জগন্নাথপুর থানায় মোট চারটি পৃথক লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে সুনামগঞ্জের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি সিআর মামলা (মামলা নং— ১৮৮/২০২৬) দায়ের করেছেন মোছা. ফাতেমা বেগম (৩৮)। এই মামলায় স্থানীয় ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।