পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
তাঁর দাবি, এ ধরনের নাশকতার চেষ্টা শুধু ডিসেম্বরকে ঘিরে নয়, শেখ হাসিনা যত দিন বেঁচে থাকবেন, তত দিন চলতে পারে। তবে সরকার এসব চেষ্টা প্রতিহত করবে।
মঙ্গলবার ( ২ নভেম্বর ) দুপুরে সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলনকক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন অব্যাহত থাকা এবং এতে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সম্পৃক্ততার অভিযোগ প্রসঙ্গে জাহেদ উর রহমান বলেন, শ্রমিকদের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে। মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে তাঁদের জীবন কঠিন হয়ে উঠেছে। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই সরকার আগেভাগে মজুরি কমিশন গঠন করেছে। ফলে আন্দোলনের মূল দাবির সমাধান হওয়ার কথা।
তিনি বলেন, পোশাকশ্রমিকদের মজুরি পাঁচ বছর পরপর পর্যালোচনার কথা। ২০০৬, ২০১০, ২০১৩, ২০১৮ ও ২০২৩ সালে মজুরি পর্যালোচনা হয়েছে। সে হিসাবে ২০২৬ সালে নতুন করে মজুরি কমিশন গঠনের কথা ছিল না। এরপরও সরকার শ্রমিকদের স্বার্থ বিবেচনায় কমিশন করেছে।
আন্দোলনে সহিংস আচরণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই প্রকৃত পোশাকশ্রমিকদের হতে পারে না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর অধীনস্থ বাহিনীগুলোর গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বলেছেন, এসব ঘটনার পেছনে সীমান্তের ওপার থেকে ইন্ধন রয়েছে।
জাহেদ উর রহমান বলেন, রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগ এখন কোনো কিছু করতে পারবে বলে সরকার বিশ্বাস করে না। তবে দলটির কাছে বিপুল অর্থ রয়েছে, যা দিয়ে বিভিন্ন জায়গায় নাশকতা সৃষ্টির চেষ্টা হতে পারে। এর সঙ্গে ডিসেম্বরের কোনো সম্পর্ক আছে কি না, তা নিয়ে তিনি ব্যক্তিগতভাবে নিশ্চিত নন। তবে শেখ হাসিনা যত দিন বেঁচে থাকবেন, তত দিন অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা হতে পারে।
শ্রমিক আন্দোলনে প্রকৃত শ্রমিকদের বাইরে অন্যদের অংশগ্রহণ এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকার আগের মতো বলপ্রয়োগ করে আন্দোলন দমাতে চায় না। এসব তরুণও রাষ্ট্রের নাগরিক। তাই গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ক্ষয়ক্ষতি ও ভোগান্তি যতটা সম্ভব কম রাখার চেষ্টা করছে সরকার। অল্প সময়ের মধ্যে পরিস্থিতির অবসান হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
শেখ হাসিনার দেশে ফেরার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার তাঁকে ফিরিয়ে আনতে চায়। তিনি নিজে আসুন কিংবা তাঁকে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হোক, সরকারের চাওয়া একই। এ ক্ষেত্রে পাসপোর্টের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার বা ট্রাভেল পাস দেওয়ার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত আগাম জানাতে চাননি তিনি। পরিস্থিতি তৈরি হলে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।
পুলিশের বলপ্রয়োগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পুলিশকে আইন মেনে এবং পরিস্থিতির তুলনায় সামঞ্জস্যপূর্ণ শক্তি প্রয়োগ করতে হবে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় যেভাবে আন্দোলন দমনে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে, সেই চর্চা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। পুলিশের অস্ত্র ব্যবহারের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি বিবেচনা করে সর্বনিম্ন ক্ষয়ক্ষতিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চর্চা নিশ্চিত করছে সরকার।