সিলেটে ৫০ কোটি টাকার পর্যটন ব্যবসার আশা: ৮০ ভাগ হোটেল বুকড

দুর্গাপূজার টানা পাঁচ দিনের ছুটিকে ঘিরে পর্যটকদের আগমনে জমে উঠছে সিলেটের পর্যটনকেন্দ্রগুলো। পাহাড়, নদী, ঝরনা, স্বচ্ছ জলধারা আর সবুজ চা-বাগানের টানে সিলেটে আসতে শুরু করেছেন পর্যটকেরা। তাঁদের বরণ করতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন হোটেল-মোটেল ও রিসোর্টের ব্যবসায়ীরা। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, জেলার প্রায় ৫০০ হোটেল-মোটেল ও রিসোর্টের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক কক্ষ ইতিমধ্যে বুকিং হয়ে গেছে। ছুটিতে পর্যটকদের আগমন বাড়লে সিলেটের পর্যটন খাতে অন্তত ৫০ কোটি টাকার ব্যবসা হতে পারে বলে আশা করছেন ব্যবসায়ীরা।

দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রাতিষ্ঠানিক ছুটি গত রোববার থেকে শুরু হলেও সরকারি অফিস-আদালতে ছুটি শুরু হচ্ছে আজ মঙ্গলবার থেকে। টানা পাঁচ দিনের ছুটি শেষে আগামী রোববার খুলবে অফিস-আদালত। ফলে পরিবার-পরিজন নিয়ে ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন অনেকে। তাঁদের বড় একটি অংশের পছন্দের গন্তব্য সিলেটের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা পর্যটনকেন্দ্রগুলো।

গতকাল সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকাল থেকেই সিলেটের জাফলং, বিছনাকান্দি, ভোলাগঞ্জের সাদাপাথর, রাতারগুল ও লালাখালসহ বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে দর্শনার্থীদের ভিড় দেখা গেছে। পর্যটকেরা ঘুরে দেখছেন সিলেট নগরের বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী স্থানও। ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা, আজ মঙ্গলবার থেকে পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে ভিড় আরও বাড়বে। পূজার ছুটিতে কয়েক লাখ পর্যটকের সমাগম হতে পারে বলেও আশা করছেন তাঁরা।

সিলেটের পর্যটন ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবার টানা পাঁচ দিনের ছুটিকে কেন্দ্র করে পর্যটকদের আগমন বাড়ার সম্ভাবনা দেখছেন তাঁরা। ছুটি শেষ হওয়ার পরও কয়েক দিন পর্যটকদের উপস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে বলে তাঁদের ধারণা। অনুকূল আবহাওয়া ও দেশের স্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে এবার পর্যটকের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশা করছেন ব্যবসায়ীরা।

ব্যবসায়ীরা জানান, সিলেটের মানসম্পন্ন বেশির ভাগ হোটেল-মোটেলের কক্ষ আগাম বুকিং দেওয়া হয়েছে। কিছু হোটেলে বুকিংয়ের হার ৮০ থেকে ৯০ শতাংশে পৌঁছেছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আরও কক্ষ বুকিং হতে পারে বলে আশা করছেন তাঁরা। মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের মানসম্পন্ন হোটেল, মোটেল ও অতিথিশালাগুলোতেও পর্যটকদের আগাম বুকিংয়ের চাপ রয়েছে বলে জানা গেছে। পর্যটকদের বরণ করতে হোটেল-মোটেলগুলোতে সাজসজ্জা ও সংস্কারকাজও করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, পূজার ছুটিতে পর্যটকদের বরণে প্রস্তুত সিলেটের হোটেল-মোটেলগুলো। জেলার প্রায় ৫০০ হোটেল-মোটেল ও রিসোর্টের ৮০ ভাগই বুকিং হয়ে গেছে। আজ মঙ্গলবার আরো পর্যটক সিলেটে আসবেন ফলে বাকিগুলোও বুকিং হয়ে যাবে, এমন আশা ব্যাক্ত করলেন তারা।

পর্যটকদের সম্ভাব্য চাপ সামাল দিতে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারের প্রস্তুতি নিচ্ছে প্রশাসনও। সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাসেলুর রহমান বলেন, পর্যটকেরা যাতে নির্বিঘ্নে ঘুরতে পারেন, সে জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। মহাসড়ক পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, পর্যটকদের আগমন বাড়লে আবাসন, পরিবহন, খাবারসহ বিভিন্ন সেবার চাহিদা বাড়বে। এতে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। সব মিলিয়ে দুর্গাপূজার ছুটিতে সিলেটের পর্যটন খাতে অন্তত ৫০ কোটি টাকার ব্যবসার প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।