সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেছেন, সিলেট সম্প্রীতির নগরী। জাতি, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে এ অঞ্চলের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব পালন করে আসছেন। ভবিষ্যতেও পারস্পরিক ভালোবাসা ও সম্প্রীতির এই বন্ধন অটুট রাখতে হবে।
সোমবার দুর্গাপূজার অষ্টমীর দিনে দক্ষিণ সুরমার জৈনপুরে অবস্থিত ৫১ পীঠের অন্যতম সতীপীঠ শ্রীশ্রী মহালক্ষ্মী ভৈরবী গ্রীবা মহাপীঠস্থান সংলগ্ন দুর্গামন্দির পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন। এদিন সকালে মন্দিরে মহাসমারোহে কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হয়।
সিসিক প্রশাসক বলেন, সিটি করপোরেশন সবার প্রতিষ্ঠান। জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে নগরবাসীর করের অর্থে এই প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হয়। তাই সব ধর্মের মানুষের প্রধান ধর্মীয় উৎসব পালনে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা করা হয়। এবারও দুর্গাপূজা উপলক্ষে নগরের ৮৫টি সর্বজনীন পূজামণ্ডপে সিসিকের পক্ষ থেকে আর্থিক সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, কুমারী পূজাও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় আয়োজন। জৈনপুরে আয়োজিত কুমারী পূজাতেও সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে বিশেষ সহযোগিতা করা হয়েছে।
আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, আমরা চাই সিলেট নগরের মানুষ শান্তিতে ও নিরাপদে বসবাস করবেন। আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও বলেছেন, ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার। রাষ্ট্রের কাছে প্রত্যেক নাগরিকের নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। ধর্মীয় উৎসবগুলো যাতে নির্বিঘ্নে ও উৎসবমুখর পরিবেশে পালিত হয়, সে জন্য সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
পীঠস্থান পরিচালনা কমিটির আয়োজনে এ দিন ৭ বছর বয়সী এক কন্যাশিশুকে কুমারী মাতারূপে পূজা করা হয়।
এ সময় পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন সিলেটে নিযুক্ত ভারতের সহকারী হাইকমিশনার অনিরুদ্ধ দাস, সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্যের সহধর্মিনী দিলারা মালিক এবং বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদসহ এলাকার সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।