সৌদি আরবের মক্কায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশির একজন অভিবাসী শ্রমিক এবং অন্যজন ওমরাহ পালন করতে যাওয়া ব্যক্তি। তাদের একজনের বাড়ি বগুড়ায়, অন্যজন কুমিল্লার বাসিন্দা। দুই বাংলাদেশির মরদেহ আকাশপথের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
সোমবার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য জানান তিনি। বিমানবন্দরে প্রবাসী কর্মীদের লাগেজ বহনের সুবিধার্থে ২০০টি ট্রলি হস্তান্তর উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি কথা বলেন।
এর আগে সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, মক্কায় একটি মসজিদে অনৈতিক কাজের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হওয়া দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। বুধবার তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয় বলে সৌদি সংবাদমাধ্যম আজেল এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই বাংলাদেশি হলেন নজরুল ইসলাম আবদুল বসির ও সিথি আক্তার। সৌদি নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ তাদের গ্রেপ্তারের পর তদন্ত করে অভিযোগ গঠন করে। পরে আদালত তাদের দোষী সাব্যস্ত করেন।
গালফ নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের শরিয়াহ আইনের তাআজির বিধানের আওতায় বিচারকের স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা প্রয়োগ করে তাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে উচ্চতর বিচারিক কর্তৃপক্ষও রায় বহাল রাখে।
তবে তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিস্তারিত বিবরণ এখনো স্পষ্ট নয়।
দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে সৌদি কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি বলে জানা গেছে। গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর বিষয়টি বাংলাদেশের কর্মকর্তাদের নজরে আসে। এরপর ঘটনার বিস্তারিত জানতে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে জেদ্দায় অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেট।
কনস্যুলেটের এক কর্মকর্তা জানান, ওই দুই বাংলাদেশির গ্রেপ্তার, বিচার কিংবা মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।
দুই বাংলাদেশির পক্ষে আইনজীবী নিয়োগ করা হয়েছিল কি না, তারা আপিলের সুযোগ পেয়েছিলেন কি না এবং তাদের কনস্যুলার সহায়তা দেওয়া হয়েছিল কি না – এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো জানা যায়নি।