‘সুপার সাব’ ইব্রাহিমের গোলে জয়ে শুরু বাংলাদেশের

ম্যাচের আগে চোটে ছিটকে গেলেন অধিনায়ক তপু বর্মণ। তাঁর জায়গায় রক্ষণ সামলানোর পাশাপাশি আক্রমণভাগেও নতুন পরীক্ষা চালালেন কোচ টমাস ডুলি। তাতে প্রথমার্ধে ভুটানকে চেপে ধরেও গোলের দেখা পেল না বাংলাদেশ। একের পর এক সুযোগ তৈরি হলো, নষ্টও হলো। দ্বিতীয়ার্ধে গোলের অপেক্ষা যখন দীর্ঘ হচ্ছিল, তখন বদলি হিসেবে মাঠে নামলেন মোহাম্মদ ইব্রাহিম। তাঁরই পা থেকে এল ম্যাচের একমাত্র গোল। জাতীয় দলের হয়ে চার বছর পর গোল করে ইব্রাহিম শুধু নিজের অপেক্ষারই অবসান ঘটাননি, সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশকে এনে দিয়েছেন জয়ও। ভুটানকে ১-০ গোলে হারিয়ে তিন পয়েন্ট নিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করেছেন স্বাগতিকেরা।

ইংল্যান্ডপ্রবাসী হামজা চৌধুরী ও ফারহান আলী ওয়াহিদকে এই ম্যাচে পাওয়া যাবে না, সেটি আগেই জানা ছিল। হামজাকে ছাড়া পরীক্ষায় কেমন করে বাংলাদেশ, তা দেখার ছিল। জাতীয় স্টেডিয়ামে ম্যাচ শুরুর ঠিক আগে নতুন ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। ওয়ার্ম-আপের সময় পেশির চোটে মাঠে নামতে পারেননি অধিনায়ক তপু। তাঁর অনুপস্থিতিতে নেতৃত্বের দায়িত্ব পান জামাল ভূঁইয়া। আর কোচ ডুলির একাদশে ছিল আরও একটি চমক। রাইটব্যাক বিশ্বনাথ ঘোষকে খেলান আক্রমণভাগের মূল স্ট্রাইকার হিসেবে।

মাঠে অবশ্য শুরু থেকেই আধিপত্য ছিল বাংলাদেশের। ভুটানকে নিজেদের অর্ধে আটকে রেখে আক্রমণের পর আক্রমণ করেছেন স্বাগতিকেরা। সপ্তম মিনিটেই এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। কর্নার থেকে আসা বল পুরোপুরি বিপদমুক্ত করতে পারেনি ভুটানের রক্ষণ। বক্সের বাইরে থেকে ফয়সাল আহমেদ ফাহিমের জোরালো শট দারুণ ক্ষিপ্রতায় ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক গিয়েলৎশেন জাংপো।

১০ মিনিট পর রাকিব হোসেনের ক্রসে হেডের সুযোগ পেয়েছিলেন বিশ্বনাথ। ফাঁকায় দাঁড়িয়ে নেওয়া তাঁর হেড অবশ্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ২০ মিনিটে একবার পাল্টা আক্রমণে বাংলাদেশের রক্ষণে অস্বস্তি তৈরি করেন ভুটানের অধিনায়ক চেনচো গিয়েলৎশেন। তাঁর গতি থেকে একটি কর্নার আদায় করলেও তা কাজে লাগাতে পারেনি ভুটান। ম্যাচের এই পর্যায়ে মাথায় চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে হয় ভুটানের ওর্গেন ওয়াংচুককে। পরে অ্যাম্বুলেন্সে করে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

২৪ মিনিটে বক্সের ভেতর ভুটানের এক ডিফেন্ডারের গায়ে বল লাগলে হ্যান্ডবলের আবেদন করেন বাংলাদেশের খেলোয়াড়েরা। তবে পেনাল্টি দেননি রেফারি। বিরতির পাঁচ মিনিট আগে আবারও গোলের সুযোগ এসেছিল বাংলাদেশের সামনে। রক্ষণ ভেদ করে আসা পাস ধরে গোলরক্ষকের সামনে একা হয়ে গিয়েছিলেন বিশ্বনাথ। কিন্তু অসমান মাঠে বল লাফিয়ে ওঠায় ঠিকমতো শট নিতে পারেননি তিনি। বল চলে যায় ক্রসবারের ওপর দিয়ে। প্রথমার্ধে ৬৬ শতাংশ বল নিজেদের দখলে রেখেও গোল পায়নি বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষের পেনাল্টি বক্সে ১৫ বার বল স্পর্শ করলেও শেষ পর্যন্ত বিরতিতে যেতে হয়েছে গোলশূন্য অবস্থায়।

বিরতির পর ফয়সাল আহমেদ ফাহিমের জায়গায় ফাহমিদুল ইসলামকে নামান ডুলি। বাঁ প্রান্ত থেকে ৬৫ মিনিটে তাঁর নেওয়া বাঁকানো শট অল্পের জন্য দূরের পোস্টের বাইরে দিয়ে চলে যায়। এর আগেই ৬৪ মিনিটে জোড়া পরিবর্তন এনেছিলেন বাংলাদেশ কোচ। জামালের বদলে সোহেল রানা জুনিয়র ও বিশ্বনাথের জায়গায় মাঠে নামেন ইব্রাহিম। শেষ পর্যন্ত এই পরিবর্তনই হয়ে ওঠে ম্যাচের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত।

৬৮ মিনিটে জায়ান আহমেদের বাড়ানো লং বল দূরের পোস্টে পেয়ে হেড করেন রাকিব। তাঁর হেড থেকে বল পান শমিত সোম। কানাডাপ্রবাসী এই ফুটবলারের ফিরতি হেড ভুটানের এক ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে সামনে চলে আসে ইব্রাহিমের কাছে। বক্সের ভেতর থেকে ডান পায়ের প্লেসিংয়ে বল জালে পাঠান তিনি। গোলের জন্য প্রায় ৭০ মিনিট অপেক্ষার পর স্বস্তি ফেরে বাংলাদেশের শিবিরে।

ইব্রাহিমের জন্য গোলটি ছিল বিশেষ কিছু। ২০২২ সালে এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে মালয়েশিয়ার বিপক্ষে সর্বশেষ জাতীয় দলের হয়ে গোল করেছিলেন তিনি। এরপর চার বছর পেরিয়ে গেছে। ভুটানের বিপক্ষে বদলি হিসেবে নেমে মাত্র চার মিনিটেই সেই অপেক্ষার অবসান ঘটালেন এই ফরোয়ার্ড।

গোল খেয়ে সমতায় ফেরার চেষ্টা করেছিল ভুটান। তবে বাংলাদেশের রক্ষণে আর বিপদ তৈরি করতে পারেনি তারা। ৭৯ মিনিটে জায়ান আহমেদের জায়গায় রহমত মিয়া ও কাজেম শাহর বদলে মোহাম্মদ হৃদয়কে নামান ডুলি। শেষ পর্যন্ত ইব্রাহিমের গোলটিই হয়ে থাকে দুই দলের ব্যবধান। ম্যাচের আগে অধিনায়ককে হারানো, প্রথমার্ধের সুযোগ নষ্টের হতাশা—সব পেছনে ফেলে সাফের প্রথম ম্যাচে জয় দিয়ে শুরু করল বাংলাদেশ। তবে এই জয় দিয়ে আড়াল করার সুযোগ নেই আক্রমণভাগের পুরোনো সমস্যাগুলো। ভুটানের মতো প্রতিপক্ষের বিপক্ষে এত আক্রমণ, এত সুযোগ তৈরি করেও মাত্র একটি গোল—সেটিও বদলি খেলোয়াড়ের সৌজন্যে।

বিশ্বনাথকে মূল স্ট্রাইকার হিসেবে খেলানোর পরীক্ষাও সামনে তুলে ধরেছে স্বীকৃত গোলস্কোরারের অভাব। গোলের সুযোগ তৈরি করতে পারলেও সেগুলো কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ফুটবলারদের ঘাটতি স্পষ্ট। হামজা আসার পর ১১ নভেম্বর শ্রীলঙ্কা ম্যাচে সেই ছবি বদলাবে কি না, সেই প্রশ্ন থেকেই গেল।

এদিকে সংসদীয় কমিটি আগামী ডিসেম্বর মাসে তিন পার্বত্য জেলা সফর করবে বলে জানিয়েছেন কমিটির সভাপতি। এ বিষয়ে কমিটির আরও এক সদস্য মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘সেখানে বাঙালি ও আদিবাসী নেতৃবৃন্দ, হেডম্যানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় করা হবে। সেখানে শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং রাষ্ট্রের বৃহত্তর স্বার্থ ও দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়েই কথা হবে। কোনো পক্ষকে প্রাধান্য দেওয়া বা কাউকে বাদ দেওয়ার চিন্তা আমাদের নেই।’

সংসদ সচিবালয় থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কমিটি পার্বত্য অঞ্চলে প্রত্যাগত শরণার্থী ও গুচ্ছগ্রামে বসবাসরত অ-উপজাতিদের মধ্যে রেশন কার্ড বিতরণে অনিয়ম দূর করে প্রকৃত উপকারভোগীদের মধ্যে কার্ড বিতরণ নিশ্চিত করতে মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করে।

মন্ত্রণালয় ও এর অধীন বিভিন্ন দপ্তরের শূন্যপদ এবং এসব পদ পূরণে মন্ত্রণালয় কী ব্যবস্থা নিয়েছে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য আগামী বৈঠকে উপস্থাপনের জন্য মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ করে কমিটি।

বিগত আওয়ামী লীগ (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সরকার ও অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে মন্ত্রণালয় এবং এর আওতাধীন দপ্তরগুলোতে কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতি হয়ে থাকলে তার বিস্তারিত বিবরণ ও এ বিষয়ে গৃহীত পদক্ষেপ আগামী বৈঠকে উপস্থাপনের সুপারিশ করে কমিটি।

সাজেক ইস্যুতে সংশ্লিষ্ট ক্ষতিগ্রস্তদের বিষয়ে মন্ত্রণালয় কী কী পদক্ষেপ নিয়েছে, তা আগামী বৈঠকে কমিটিকে অবহিত করার সুপারিশ করা হয়। এ ছাড়া, পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকায় টেকসই সামাজিক সেবা প্রদান প্রকল্পে কর্মরত পাড়াকর্মীদের জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তাঁদের কমানো সম্মানী ভাতা সম্মানজনক হারে বাড়ানোর সুপারিশ করে কমিটি।

এ ছাড়া চলতি অর্থবছরে মন্ত্রণালয়ের জন্য বরাদ্দ করা বাজেটের বিভাজন ও সুষম বণ্টন, খাদ্যশস্য বরাদ্দে অনিয়ম, ব্যয় পরিকল্পনা এবং বিভিন্ন প্রকল্প নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করে কমিটি। এসব বিষয়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম নেওয়ার জন্য মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ করা হয়।

কমিটির সভাপতি আবদুল ওয়াদুদ ভূঁঞার সভাপতিত্বে বৈঠকে আরও অংশ নেন কমিটির সদস্য ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সাচিং প্রু, মোস্তফা কামাল পাশা, দীপেন দেওয়ান, শাহজাহান চৌধুরী, মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম এবং মাছুম মোস্তফা।