গণভোটের রায় না মানলে সরকারকে লাল কার্ড!

 

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং জুলাই জাতীয় সনদের ভিত্তিতে সংবিধান সংস্কার না করলে সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরে যেতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ১১ দলীয় ঐক্যজোটের নেতারা। তাঁরা বলেছেন, জনগণের ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা উপেক্ষা করে কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হলে জনগণই সরকারকে লাল কার্ড দেখাবে। দাবি আদায়ে প্রয়োজনে নতুন করে আন্দোলনে নামার প্রস্তুতি নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন জোটের নেতারা।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার নাওডোবা এলাকায় পদ্মা সেতু এক্সপ্রেসওয়ের পাশে আয়োজিত এক পথসভায় এসব বক্তব্য দেন তাঁরা।

পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে এবং তাদের মতামতকে অসম্মান করছে। ১১ দলীয় ঐক্যজোটের সাত দফা দাবির মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো গণভোটে দেওয়া জনগণের রায় কার্যকর করা।

শফিকুর রহমান বলেন, জনগণ ভোটের মাধ্যমে তাদের মতামত জানিয়েছে। কিন্তু সরকার সেই সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ার পরিবর্তে জনগণকে বিভ্রান্ত করছে এবং মিথ্যাচারের আশ্রয় নিচ্ছে। গণভোটের রায় উপেক্ষা করার বিষয়টি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

পথসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে সমালোচনা করেন।

তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের ভেলকিবাজির মাধ্যমে সরকার জনগণের অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেলার পাঁয়তারা করছে। এ ধরনের প্রচেষ্টা বন্ধ না হলে জনগণ সরকারকে চূড়ান্তভাবে লাল কার্ড দেখানোর জন্য প্রস্তুত রয়েছে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

মামুনুল হক নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, আন্দোলনের জন্য সময়মতো কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। তাই সবাইকে প্রস্তুত থাকতে হবে। জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে অর্জিত অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং সেই আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতে আগামীর বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি।

জুলাই সনদ মেনে সংবিধান সংস্কারের দাবি

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জুলাই জাতীয় সনদের ভিত্তিতে গণভোটের রায় মেনে সংবিধান সংস্কার করতে হবে। অন্যথায় জনগণ সরকারকে চিরবিদায় করে দেবে।

তাঁর বক্তব্যে গণভোটের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের পাশাপাশি জুলাই গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করার দাবিও উঠে আসে।

১১ দলের সাত দফা দাবি

১১ দলীয় ঐক্যজোটের উদ্যোগে আয়োজিত এই পথসভায় দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সমস্যা তুলে ধরে একাধিক দাবি জানানো হয়।

পথসভাকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই জাজিরার নাওডোবা এলাকায় ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। পদ্মা সেতু এক্সপ্রেসওয়ের পাশের নির্ধারিত স্থানে তাঁরা সমবেত হন।

সভায় নেতাদের বক্তব্য শেষে সংক্ষিপ্ত কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পথসভার সমাপ্তি ঘটে। পরে জোটের নেতারা পরবর্তী কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করেন।