মৃত্যুর মুখ থেকে শিশুকে উদ্ধার, যুবকের সাহসিকতায় বাঁচল প্রাণ

দোতলার বারান্দা থেকে পড়ে যাচ্ছিল চার বছরের এক শিশু। ঠিক সেই সময় দৌড়ে গিয়ে শিশুটিকে ধরে ফেলেন এক যুবক। তার নায়কোচিত এই কাজের দৃশ্য ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে।জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটেছে মিশরের গিজা গভর্নরেটের ঘনবসতিপূর্ণ একটি এলাকায়। শিশুকে আঘাতের হাত থেকে রক্ষা করা যুবকের নাম আহমেদ রাগাব।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, নিজের দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন আহমেদ। হঠাৎ পাশের ভবনের দ্বিতীয় তলার বারান্দা থেকে একটি শিশুকে নিচে পড়ে যেতে দেখেন তিনি।

 

শিশুটি প্রথমে বারান্দার কাপড় শুকানোর দড়ির ওপর পড়ে যায়। এতে তার পড়ার গতি কিছুটা কমে যাস্থানীয় গণমাধ্যমকে আহমেদ বলেন, ‘ভাবার বা ঝুঁকি হিসাব করার সময় ছিল না। আমার মাথায় শুধু ছিল, মাটিতে পড়ার আগে শিশুটিকে বাঁচাতে হবে।’আহমেদ তার বাবার দোকানে কাজ করেন। তিনি জানান, প্রথমে তিনি চিৎকারের শব্দ শুনতে পান। এরপর তাকিয়ে দেখেন, প্রায় চার বছরের শিশুটি বারান্দার কাপড় শুকানোর দড়িতে আটকে নিচে পড়ে যাচ্ছে।তখনই শিশুটিকে বাঁচাতে ছুটে যান তিনি। শিশুটিকে নিরাপদে ধরার পর আহমেদ নিজেই বেশ ভীত হয়ে পড়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমি কাঁপছিলাম। কী ঘটেছে, তা বুঝে উঠতে চেষ্টা করছিলাম। আমি সাহস হারিয়ে ফেলেছিলাম।’শিশুটিকে বাঁচানোর ঘটনায় স্থানীয় মানুষ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীরা আহমেদের সাহসের প্রশংসা করেন। অনেকে তাকে ‘হিরো’ হিসেবে অভিহিত করেন।তবে আহমেদ নিজের কাজকে বীরত্ব হিসেবে দেখছেন না। তিনি অভিভাবকদের সন্তানদের প্রতি আরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।তিনি বলেন, শিশুদের কখনো বারান্দা বা জানালার কাছে একা রাখা উচিত নয়। বিশেষ করে সেখানে চেয়ার বা অন্য কোনো আসবাব থাকলে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।শিশুদের সিনেমার সুপারহিরোদের অনুকরণ না করার পরামর্শও দিয়েছেন তিনি। তিনি বলেন, সিনেমায় সুপারহিরোদের উড়তে দেখা গেলেও বাস্তবে এমন কিছু করার চেষ্টা করা বিপজ্জনক।