মিসরের রাজধানী কায়রোর দক্ষিণে গিজা প্রদেশে দুটি যাত্রীবাহী ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষে অন্তত চারজন নিহত এবং অন্তত ৮৮ জন আহত হয়েছেন। এতে ট্রেনের একাধিক বগি লাইনচ্যুত হয়ে উল্টে যায়।
রোববার (৮ নভেম্বর) কায়রোর দক্ষিণে আল-আইয়াত এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে।
মিসরের রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গিজা থেকে আল-ফায়ুমগামী একটি যাত্রীবাহী ট্রেন কায়রো থেকে আসওয়ানগামী অপর একটি দূরপাল্লার ট্রেনের পেছনে সজোরে ধাক্কা দিলে এই বিপর্যয় ঘটে।
সংঘর্ষের তীব্রতায় পেছনের বেশ কয়েকটি বগি দুমড়েমুচড়ে লাইনচ্যুত হয়ে পড়ে। দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকারী দল ক্রেন ও ভারী সরঞ্জাম ব্যবহার করে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকা পড়া যাত্রীদের উদ্ধার করে।
মিসরের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে, ঘটনাস্থল থেকে ৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং ৮৮ জন আহত যাত্রীকে গিজা ও আশপাশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়েছে। এর আগে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে নিহতের সংখ্যা ও আহতের সংখ্যা ১২০ জন বলে জানালেও পরবর্তীতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সঠিক সংখ্যা প্রকাশ করে।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় গভীর শোক ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি। তিনি এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, পুরো পরিস্থিতি তিনি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। একই সঙ্গে এ ঘটনায় কারিগরি ত্রুটি বা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের অবহেলা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে জরুরি ভিত্তিতে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে জড়িতদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনার ঘোষণা দেন সিসি।
দুর্ঘটনাস্থল গিজার আল-আইয়াত এলাকাটি মিসরের রেল ইতিহাসে অন্যতম দুর্ঘটনাপ্রবণ স্থান হিসেবে পরিচিত। ২০০২ সালে একই এলাকায় একটি যাত্রীবাহী ট্রেনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৩৭০ জনেরও বেশি যাত্রী নিহত হন, যা ছিল দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ট্রেন দুর্ঘটনা।
২০০৯ সালেও এই আল-আইয়াতেই দুটি ট্রেনের সংঘর্ষে বহু প্রাণহানি ঘটেছিল।
১১ কোটি জনসংখ্যার দেশ মিসরে দৈনিক যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হলো রেলওয়ে। বিগত এক দশকে দেশটির সরকার আধুনিক মহাসড়ক ও হাই-স্পিড রেল বাস্তবায়নে কোটি কোটি ডলার বিনিয়োগ করলেও, পুরোনো ও সেকেলে রেললাইন সংস্কারের অভাবে বারবার এসব প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটছে।