মৌলভীবাজার সদর উপজেলা প্রশাসনের মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে আর্ট ক্যাম্প

মনজু চৌধুরী॥ মুজিব শতবর্ষ ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে মৌলভীবাজার সদর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ‘মুজিব শতবর্ষ আর্ট ক্যাম্প’ ২০২২ অনুষ্ঠিত।
১৩, ১৪ ১৫ মার্চ সৃজনশীল এই আর্ট ক্যাম্পটি অনুষ্ঠিত হবে মৌলভীবাজারে অবস্থিত মৌলভী চা বাগানের মনোরম পরিবেশে। মৌলভীবাজার সদর উপজেলার নির্বাচিত ৫০ জন ক্ষুদে আঁকিয়ে চা বাগানের সবুজ প্রকৃতির কোলে বসে আঁকবে নিজেদের রঙিন স্বপ্ন। রংতুলিতে ফুটিয়ে তুলবে সুজলা সুফলা এই দেশের সৌন্দর্য। তাদের সঙ্গে থাকবেন ঢাকা থেকে আগত চারজন মেধাবী মেন্টর। তাদের সাহচর্যে রং তুলির আঁচড়ে রঙিন হবে এই ক্ষুদে আঁকিয়েদের ক্যানভাস। শৈল্পিকতার শুরুটা শাণিত হবে জলরং এ ছবি আঁকার নানা কৌশলে।
ক্যাম্পটিতে ছবি আঁকার নানা প্রয়োজনীয় ও ব্যয়বহুল সরঞ্জাম তাদেরকে উপহার দেয়া হবে উপজেলা প্রশাসন, মৌলভীবাজার সদরের পক্ষ থেকে।
নানা রং এর বন্ধুত্ব ঘটিয়েই আগামী দিনের স্বপ্নগুলোকে তারা ফুটিয়ে তুলবে কাগজের ক্যানভাসে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শিল্প সাহিত্যের সমঝদার ছিলেন। তিনি শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন অনেক সম্মান ও সমীহ করতেন।এমনকি তিনি যখন সোভিয়েত ইউনিয়নে সরকারী সফরে যান, তখন তিনি উপহার হিসেবে নিয়ে গিয়েছিলেন এদেশের শিশুদের আঁকা তাঁর স্বপ্নের সোনার বাংলার ছবি। অন্য দেশের রাষ্ট্রনায়করা সেসব ছবি পেয়ে উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন।
তিনি শিশুদের অত্যধিক ভালোবাসতেন। শিশুদের সান্নিধ্য পেতে চাইতেন সবসময়। তাই তাঁর জন্মদিনে বাংলাদেশে জাতীয় শিশু দিবস পালিত হয়।
একটি সমৃদ্ধ দেশ গঠনের জন্য সৃজনশীল মানুষের অসাধারণ ভূমিকা অনস্বীকার্য। শিল্প-শিক্ষাকে গুরুত্ব দেয়ার কারণেই উন্নত বিশ্বের সর্বত্র নান্দনিক মূল্যবোধের পরিচয় মেলে।
আমরা বিশ্বাস করি, এসব সৃষ্টিশীল সৃজনশীলতার মাধ্যমে শিশুর শারীরিক এবং মানসিক দুটোরই বিকাশ ঘটবে। বিখ্যাত মনীষী জ্যাক রুশো এ কারণেই বলেন: ‘প্রত্যেক শিশুই জন্মগতভাবে শিল্পী।’ বিখ্যাত শিল্পী এসএম সুলতান বলেছেন, ‘যে শিশু একবার তুলি ধরে সে শিশু কখনো অস্ত্র ধরতে পারে না’
আপনাদের সবাইকে এই আর্ট ক্যাম্পে জানাই সাদর আমন্ত্রণ। ক্যাম্পের শৃঙ্খলাজনিত কারণে কাছে আসার সুযোগ না থাকলেও, দূর থেকে তাদের উৎসাহ দিয়ে যাবেন।

১

জগন্নাথপুরে হত্যা মামলার আসামিদের বাড়িঘরে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ ​জগন্নাথপুর প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার মীরপুর ইউনিয়নের উত্তর গড়গড়ি গ্রামে একটি হত্যা ঘটনার পর প্রতিপক্ষের অন্তত বেশ কয়েকটি বাড়িঘরে দফায় দফায় হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে।গত ১৮ অক্টোবর রাতে শূন্য বাড়িগুলোতে অগ্নি সংযোগ করা হয়। ভুক্তভোগীদের দাবি, জগন্নাথপুর থানা পুলিশ এ বিষয়ে কোনো মামলা নিচ্ছে না। হামলায় বসতঘর ও খামার থেকে গবাদিপশু, স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুট করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো অভিযোগ করেছে। ​ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই আসামিপক্ষের পরিবারগুলো চরম আতঙ্কে রয়েছে। কয়েকটি বাড়ি পুরো পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে। আর এই শূন্য বাড়িগুলোকে লক্ষ্য করে দফায় দফায় হামলা চালানো হচ্ছে। এমনকি গত রাতেও আসামিদের বসতঘরে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। ​গতকাল ১৯ অক্টোবর সরেজমিনে উত্তর গড়গড়ি গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, পুরুষশূন্য বাড়িগু রয়েছে, পরিত্যক্ত বাড়িগুলোতে, দফায় দফায় অগ্নিসংযোগ করে যাচ্ছে, প্রতিপক্ষরা, থানায় অভিযোগ করলেও, কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না। ঘরের ভেতরের আসবাবপত্র ভেঙে চুরমার করে যত্রতত্র ছিটিয়ে রাখা হয়েছে এবং আগুনে পুড়িয়ে ছাই করে দেওয়া হয়েছে। ঘটনার পর থেকে পরিবারের পুরুষ সদস্যরা আত্মগোপনে থাকায় নারী ও শিশুরা চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন এবং বাধ্য হয়ে আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। ​হামলা, লুটপাট ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে সুনামগঞ্জ আদালত ও জগন্নাথপুর থানায় মোট চারটি পৃথক লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে সুনামগঞ্জের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি সিআর মামলা (মামলা নং— ১৮৮/২০২৬) দায়ের করেছেন মোছা. ফাতেমা বেগম (৩৮)। এই মামলায় স্থানীয় ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।