পদোন্নতির সরকারি আদেশ জারি, সুপারনিউমারারি পদ সৃষ্টি ও ক্যাডারভিত্তিক বৈষম্য নিরসনসহ সাত দফা দাবিতে আন্দোলনে নামছেন বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তারা। রোববার (২৫ অক্টোবর) মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) অবস্থান কর্মসূচির মধ্য দিয়ে এ আন্দোলন শুরু করবেন তারা।আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, পদোন্নতির সরকারি আদেশ (জিও) দ্রুত জারি, ২৪তম থেকে ৩৮তম বিসিএসের যোগ্য কর্মকর্তাদের পদোন্নতি এবং ২ হাজার ৮২৩টি সুপারনিউমারারি পদ সৃষ্টির প্রস্তাব অনুমোদন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের পদোন্নতির জন্য গত ১৬, ১৭ ও ২১ সেপ্টেম্বর বিভাগীয় পদোন্নতি কমিটির (ডিপিসি) সভা অনুষ্ঠিত হয়। তবে এসব সভার পরও পদোন্নতির সরকারি আদেশ জারি হয়নি। এর আগে গত ২৩ জুলাই মাউশির পক্ষ থেকে দুটি স্মারকে ডিপিসির সভা আহ্বান করা হয়েছিল। ২৭ জুলাই তৎকালীন সচিবের সভাপতিত্বে সভা হওয়ার কথা থাকলেও অজ্ঞাত কারণে তা পিছিয়ে যায়।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সরকারি কলেজ শাখার কর্মকর্তাদের মতে, পদোন্নতির আদেশ জারি না হওয়ার অন্যতম কারণ শূন্য পদের সংকট ও সুপারনিউমারারি পদ সৃষ্টির প্রস্তাব অনুমোদন না পাওয়া।বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারে প্রভাষক পর্যায়ে পদ রয়েছে ৯ হাজার ৭৮২টি। অন্যদিকে সহকারী অধ্যাপক পর্যায়ে পদ রয়েছে ৪ হাজার ৪৫১টি। ফলে প্রভাষক থেকে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতির ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত সাংগঠনিক পদ না থাকায় জটিলতা তৈরি হয়েছে।
মাউশির ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে পাঠানো প্রস্তাব অনুযায়ী, ৩২তম থেকে ৩৭তম বিসিএসের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি সরকারি কলেজ জাতীয়করণ বিধিমালা, ২০০০-এর আওতায় আত্তীকৃত কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে মোট ২ হাজার ৮২৩ জন প্রভাষক সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতির যোগ্য ছিলেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, বর্তমানে সহকারী অধ্যাপক পর্যায়ে পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সংখ্যা বিদ্যমান পদের সংখ্যাকেও ছাড়িয়ে গেছে। এ কারণে পর্যাপ্ত শূন্য পদ না থাকায় প্রভাষকদের পদোন্নতি দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। সংকট নিরসনে সুপারনিউমারারি পদ সৃষ্টির প্রস্তাব দেওয়া হলেও এখনো অনুমোদন মেলেনি।
পদোন্নতি নিয়ে অসন্তোষের আরেকটি কারণ হিসেবে অন্যান্য ক্যাডারের সঙ্গে বৈষম্যের বিষয়টি তুলে ধরছেন শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তারা। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিসিএস প্রশাসনসহ অন্যান্য ক্যাডারে ২০২২ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত নিয়মিত ষষ্ঠ গ্রেডে পদোন্নতি হয়েছে। বিপরীতে সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারে ২০২২, ২০২৩, ২০২৪ ও ২০২৬ সালে ষষ্ঠ গ্রেডে কোনো পদোন্নতি হয়নি। ২০২৫ সালে একসঙ্গে ১ হাজার ৮৭০ জনকে পদোন্নতি দেওয়া হয়।
আন্দোলনকারীদের সাত দফা দাবির মধ্যে রয়েছে— ১. ডিপিসির সভার আলোকে যোগ্য কর্মকর্তাদের পদোন্নতির সরকারি আদেশ অবিলম্বে জারি; ২. প্রযোজ্য বিধিমালা, যোগ্যতা ও জ্যেষ্ঠতা অনুসারে ২৪তম থেকে ৩৮তম বিসিএসের পদোন্নতিযোগ্য কর্মকর্তাদের পদোন্নতি নিশ্চিত করা; ৩. প্রস্তাবিত ২ হাজার ৮২৩টি সুপারনিউমারারি পদ সৃষ্টির প্রস্তাব দ্রুত নিষ্পত্তি ও অনুমোদন; ৪. বিধি ও প্রাপ্যতা অনুযায়ী যোগ্য কর্মকর্তাদের আর্থিক সুবিধাসহ ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি নিশ্চিত করা; ৫. পদোন্নতিতে দীর্ঘসূত্রতা ও ক্যাডারভিত্তিক বৈষম্য নিরসন করে নিয়মিত, স্বচ্ছ ও সময়বদ্ধ পদোন্নতি কাঠামো চালু করা; ৬. তৃতীয় ও চতুর্থ গ্রেডে পদোন্নতির যোগ্যতা ও প্রাপ্যতাসংক্রান্ত জটিলতা নিরসন করে সংশ্লিষ্ট ফাইল দ্রুত নিষ্পত্তি করা; ৭. পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি বৈঠক করে পদোন্নতি বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণা করা।