তথ্য ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের অভিযোগে মেটাকে রেকর্ড জরিমানা

ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপের মূল প্রতিষ্ঠান মেটাকে ২৫ বিলিয়ন ডলার জরিমানা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যের একটি আদালত। ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে জনসাধারণকে বিভ্রান্ত করা এবং অঙ্গরাজ্যের আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে এ রায় দেওয়া হয়েছে। মেটার বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত আরোপ করা জরিমানার মধ্যে এটিই সর্বোচ্চ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।গত বুধবার (২১ অক্টোবর) দেওয়া এ রায় চলতি বছরের শুরুতে অনুষ্ঠিত দুই সপ্তাহের বিচার শেষে জুরি বোর্ডের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে এসেছে। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, ফেসবুক ব্যবহারকারীদের তথ্য কীভাবে সংগ্রহ, ব্যবস্থাপনা ও ভাগাভাগি করা হয়, তা নিয়ে বছরের পর বছর ধরে জনসাধারণকে বিভ্রান্ত করেছে মেটা।বিচারক ফ্রান্সিস ম্যাথিউ বলেন, মেটার মিথ্যাচার শুধু ব্যবহারকারীদের তথ্য ব্যবস্থাপনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং তা প্রতিষ্ঠানটির মূল ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও জড়িত ছিল। ২০১০ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ১১ বছরেরও বেশি সময় ধরে এসব অনিয়ম ঘটেছে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়।

মেটার প্রধান আইনজীবী সি জে মাহোনি এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার ঘোষণা দিয়েছেন। তার দাবি, এ রায়ের কারণে নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসা পরিচালনা করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে। আপিলে মেটা জয়ী হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

মাহোনি অভিযোগ করেন, অনলাইনে মানুষ কী বলতে পারবে, সে বিষয়ে নতুন বিধিনিষেধ কার্যকর করার উদ্দেশ্যে এ মামলা করা হয়েছে। তার ভাষায়, এটি মূলত বক্তব্যের ওপর কর আরোপের একটি প্রচেষ্টা।চলতি বছর শিশুদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্ল্যাটফর্মগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে জনসাধারণকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগেও নিউ মেক্সিকোতে মেটার বিরুদ্ধে আরেকটি মামলার বিচার হয়েছে। ওই মামলায় প্রতিষ্ঠানটিকে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার জরিমানা করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সেই মামলার বিচারক শিশুদের মানসিক ক্ষতি ও যৌন শোষণের সঙ্গে মেটার কার্যক্রমের তুলনা করেছিলেন শিল্পকারখানার বায়ুদূষণের সঙ্গে। তাঁর ভাষায়, মেটার ক্ষেত্রে দূষণের ধরন হলো শিশুদের মানসিক ক্ষতি ও যৌন শোষণ।