আফ্রিকা থেকে ইউরোপের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে যাওয়ার অন্যতম বিপজ্জনক পথ আটলান্টিক মহাসাগর। এই পথে আবারও এক মর্মান্তিক নৌকাডুবির ঘটনা ঘটেছে। সেনেগালের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় উপকূলে অভিবাসীবাহী একটি ছোট নৌকা ডুবে অন্তত ২১ জন নিহত হয়েছেন।
সেনেগালের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, উদ্ধারকারীরা এ পর্যন্ত ২১টি মৃতদেহ এবং মাত্র একজনকে জীবিত উদ্ধার করতে পেরেছেন। নিখোঁজ অন্যদের সন্ধানে সাগরে তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রাখা হয়েছে এবং নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে উল্লেখ করেছে কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, রাজধানী ডাকার এবং উত্তরের শহর সেন্ট-লুইসের মাঝামাঝি কেবেমের বিভাগের লুম্পুল টিলার কাছে গত শুক্রবার একটি ছোট (স্থানীয়ভাবে পিরোগ নামে পরিচিত) নৌকা উল্টে যায়।
সেনেগালের প্রধান অভিবাসী সহায়তা সংস্থা ‘বোজা ফি’-এর প্রতিষ্ঠাতা সালিউ দিউফ জানান, উদ্ধার হওয়া মৃতদেহের সবাই সেনেগালের নাগরিক। ওই বিভাগের লিওনা এবং থিপে এলাকার বাসিন্দারাই ছিলেন এই নৌকার প্রধান যাত্রী।
ইউরোপ পৌঁছানোর আশায় প্রতি বছর পশ্চিম আফ্রিকা থেকে হাজার হাজার মানুষ ঝুঁকিপূর্ণ আটলান্টিক পথ ব্যবহার করে স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
বর্তমানে সেনেগাল, মৌরিতানিয়া এবং মরক্কো তাদের উপকূলবর্তী কিছু স্থানে টহল জোরদার করেছে। এর ফলে মানব পাচারকারীরা ও অভিবাসীরা গাম্বিয়া, গিনি-বিসাউ এবং গিনির মতো দূরবর্তী দক্ষিণাঞ্চলীয় পথ ব্যবহারে বাধ্য হচ্ছে, যা আটলান্টিকের দীর্ঘ ও ভয়াবহ পথকে আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে।
সেনেগাল পুলিশ জানিয়েছে, একই দিনে (শুক্রবার) স্পেনের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া আরও একটি ছোট নৌকা থেকে ১৪২ জন অভিবাসীকে আটক করেছে কর্তৃপক্ষ, যার মধ্যে ২৩ জন নারী এবং ৪টি শিশু ছিল। আটককৃতরা সেনেগাল, গাম্বিয়া, গিনি-বিসাউ, গিনি ও নাইজেরিয়ার নাগরিক।
অন্যদিকে, চলতি নভেম্বরের শুরু থেকে প্রায় ৩০টি নৌকায় ৩,৩০০ জনেরও বেশি অনিয়মিত অভিবাসী পৌঁছানোর পর স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের এল হিয়েরোতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। সেনেগাল সরকার ঘোষণা দিয়েছে, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে যৌথ আলোচনার মাধ্যমে মানব পাচারকারী নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।