[english_date]

তাহিরপুরে শিশুকে অপহরণ, বস্তায় লাশ: নারীসহ আটক ৭

ডায়ালসিলেট ডেস্ক:সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে ‘মুক্তিপণের টাকা না পেয়ে’ ৭ বছরের এক শিশুকে খুন করে লাশ বস্তায় ভরে তার বাড়িতে রেখে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নারীসহ ৭ জনকে আটক করেছে।

খুন হওয়া শিশুটির নাম মো. তোফাজ্জল হোসেন। সে উপজেলার শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী বাসতলা গ্রামের জোবায়েল মিয়ার ছেলে। আজ শনিবার ভোরে স্বজনরা বস্তার মধ্যে তার লাশ দেখতে পেয়ে থানায় বিষয়টি জানান। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে বস্তার ভিতর থেকে তোফাজ্জলের লাশ উদ্ধার করে সুনামগঞ্জ হাসাপাতালের মর্গে পাঠায়।ঘাতকরা শিশুটির একটি চোখ উপড়ে ফেলে। এছাড়া একটি পা ভেঙে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে নৃশংসভাবে খুন করে।

এ ঘটনায় আটককৃতরা হলেন- একই গ্রামের কালা মিয়া (৪০) ও তার ছেলে সেজাউল মিয়া (২৫), হবি মিয়া (৪২) ও তার ছেলে রাসেল মিয়া (২০), জয়নাল মিয়ার ছেলে সালমান মিয়া (২২) ও লোকমান মিয়া (১৮) এবং শিউলী বেগম।

পুলিশ ও শিশুটির পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার (৮ জানুয়ারি) বিকাল ৫টার দিকে বাশতলা গ্রামে দাদা জয়নাল আবেদীনের বাড়ির সামনে থেকে নিখোঁজ হয় তোফাজ্জল হোসেন। আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের বাড়িতে খোঁজ করেও তার সন্ধান মিলেনি। এ ঘটনায় জয়নাল আবেদীন ৯ জানুয়ারি তাহিরপুর থানায় একটি জিডি করেন।

এদিকে, ৯ জানুয়ারি রাতে কে বা কারা তোফাজ্জলের পায়ের এক জোড়া জুতাসহ ৮০ হাজার টাকা মুক্তিপণ চেয়ে একটি চিরকুট তার বাড়ির বারান্দায় রেখে যায়।

ওই চিরকুটে লিখা ছিল, ১০ জানুয়ারি শুক্রবার রাতে তোফাজ্জলের বাবা তাদের গরু রাখার ঘরে ৮০ হাজার টাকা রাখলে শিশুটিকে অক্ষত অবস্থায় ফেরত দেওয়া হবে। বিষয়টি পুলিশ বা অন্য কাউকে জানালে শিশুটিকে মেরে ফেলা হবে।

শিশুটির মা রিয়া বেগম জানান, প্রায় ১ বছর আগে তার ননদ শিউলি বেগমকে বিয়ে দেন একই গ্রামের কালা মিয়ার ছেলে সেজাউল মিয়ার কাছে। বিয়ের ১ মাস পর তার ননদ শিউলি বেগমকে নির্যাতন করে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়। এ নিয়ে প্রায় সময় সেজাউলদের সঙ্গে ঝগড়াবিবাদ লেগে থাকতো তাদের। ঘটনার কিছুদিন আগেও তার ননদকে মারপিট করে আম গাছের নিচে বেঁধে রাখা হয়েছিল। তাদের বিরুদ্ধে কোর্টে একটি মামলা চলমান।

বাবা জোবায়েল মিয়া ও মা রিয়া বেগম সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করে বলেন, কালা মিয়া, সেজাউল চক্ররাই তাদের ছেলেকে অপহরণ করে খুন করেছে। তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তারা।

তাহিরপুর থানার ওসি আতিকুর রহমান বলেন, ‘জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সন্দেহভাজন ৭ জনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনাটি খুবই সেনসেটিভ। এখন তদন্তের স্বার্থে কিছু বলা যাচ্ছে না।’

সুনামগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, ‘ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ঘটনার রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা করছি।’